অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মত স্বেচ্ছায় মৃত্যুর বৈধতা দান

আন্তর্জাতিক প্রধান খবর

প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য স্বেচ্ছায় মৃত্যুর বৈধতা দিয়েছে।

১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তুমুল বির্তকের পর যুগান্তকারী এই আইনটি পাশ হল। এ নিয়ে দুই রাত টানা বির্তক চলছিল।

এই আইনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় জনবসতিপুর্ণ রাজ্যে মুমূর্ষু রোগীরা ২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে প্রাণনাশক ঔষুধ ব্যবহারের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে এক্ষেত্রে তাদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছরের বেশি হতে হবে এবং তাদের ছয় মাসের বেশি বাচাঁর সম্ভাবনা থাকবে না ।

“আমি গর্বিত যে আমরা আমাদের সংসদ এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মূলে সমবেদনার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি,” রাজ্যের প্রধান ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ বলছিলেন।

“এটাই রাজনীতি এবং এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর ভিক্টোরিয়া যে টা করে আমাদের জন্য সেটাই শ্রেয়।” বলছিলেন তিনি।

বলপ্রয়োগ থেকে রক্ষাকবচ

যেসব রোগী খুব মারাত্মক কষ্ট অনুভব করেন তাদের জন্য এই আইনটি করা হয়েছে। রক্ষাকবচ হিসেবে এ আইনের ৬৮টি শর্ত রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

  • নিজের জীবন শেষ করতে একজন রোগীকে অবশ্যই তিনজন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তারের অনুমতি নিতে হবে
  • একটি বিশেষ বোর্ড সবগুলো কেস পর্যালোচনা করবে
  • রোগীদের জোরপূর্বক জীবন নাশের বিষয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে

এছাড়া, রোগীদের অবশ্যই ভিক্টোরিয়া রাজ্যে কমপক্ষে ১২ মাস বসবাস করতে হবে এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

জটিল রোগে (যেমন মোটর নিউরন ডিজেজ নামে পরিচিত এমাইয়োট্রোফিক ল্যাটেরাল স্খলনোসিস) আক্রান্ত রোগীদের বাচাঁর সম্ভাবনা ১২ মাসের কম থাকলে তাদের জন্য আইনটি প্রযোজ্য হবে।

২৬ ও ২৮ ঘণ্টার দুটি পৃথক অধিবেশনে বির্তকের পর বুধবার বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

কয়েকজন সংসদ সদস্য বিলটির তীব্র বিরোধীতা সমালোচনা করছেন। তারা বিলটিতে শত শত সংশোধন নিয়ে আসার প্রস্তাব করেছিল।

গতমাসে মি: অ্যান্ড্রুজ ‘র ডেপুটি জেমস মার্লিনো বিলটিকে “বয়স্কদের নির্যাতনের কৌশল” বলে এর সমালোচনা করেন।

১৯৫৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে বিশ্বের প্রথম স্বেচ্ছায় যন্ত্রণাহীন মৃত্যু আইন চালু হয়। কিন্তু আট মাস পর ক্যানবেরার ফেডারেল কতৃপক্ষ আইনটি বিলুপ্ত করে।

কিন্তু রাজ্যের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার একই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।

এই পদ্ধতির মধ্যে ৬ মাসের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত রোগীদের পক্ষ থেকে চিকিৎসকের বরাবরে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর মৌখিক অনুরোধ করতে হবে। এই অনুরোধের পর একটি নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার পর আবারো মৌখিক অনুরোধ জানাতে হবে। দ্বিতীয় মৌখিক অনুরোধের পর লিখিত অনুরোধ জানাতে হবে।
 
লিখিত অনুরোধ জানানোর পর একটি নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার পর সর্বনিম্ম ৪৮ ঘণ্টা পরে চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন লিখবেন। চিকিৎসক প্রেসক্রিপসন লেখার পর রোগী ইচ্ছা করলে ওষুধ সেবন করবেন কি করবেন না সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। যতক্ষন পর্যন্ত রোগী সিদ্ধান্ত না নিবেন ততক্ষন পর্যন্ত এই ওষুধ হাসপালে/ফার্মাসীতে রোগীর তৈরি থাকবে। রোগী চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর একটি উপযুক্ত সময়ে রোগীকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর ওষুধ প্রদান করা হবে।
 
মৃত্যুর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী রোগীকে প্রথমে সচরাচর বড় ডোজের ঘুমের ওষুধের সঙ্গে মিশ্রন করে মৃত্যুর ওষুধ প্রদান করা হয়। ওষুধ প্রদানের কয়েক মুহুর্তে রোগী গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লে দুই মিনিটের মধ্যে রোগীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে পুর্ণাঙ্গ ওষুধ প্রদান করা হয়। ঘুমের ওষুধ প্রদানের পর বেশির ভাগ রোগীই শান্তিপুর্ণ ভাবে ঘুমিয়ে পড়েন এবং ১০ মিনিটের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তবে এর ব্যতিক্রমও ঘটে মাঝে মধ্যে। কোন কোন রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় নেন। আবার কোন কোন সর্বোচ্চ ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নেয়। তবে সময় যতই নিক না কেন পুরোটা সময় রোগী শান্তিপুর্ণ ভাবে ঘুমিয়ে থাকেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।

কানাডা, যুক্তরাষ্ট, নেদারল্যান্ড এবং বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে এর আগে মুমূর্ষু রোগীদের ডাক্তারি তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আইন পাশ করা হয়।