আজ বিশ্ব টয়লেট দিবস এবং টয়লেটকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রেম

আন্তর্জাতিক প্রধান খবর বিনোদন
আজ বিশ্ব টয়লেট দিবস। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে দিবসটি। তবে এই টয়লেটের গুরুত্ব এবং ঘটনার প্রবাহে সম্প্রতি ভারতে নির্মিত হয়েছে ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’। কী ছিল সিনেমার গল্পে! কিভাবেই গড়ে উঠলো টয়লেটকে কেন্দ্র করে প্রেমের কাহিনী।
প্রিয়াঙ্কা ত্রিপাঠী। বয়স ১৯ বছর। কয়েকবছর আগে সে যে স্বাধীনতায় ঘুরে বেড়িয়েছে চারদিকে সেটি এখন গত। কারণ সে এখন আরেকটি বাড়ির মেয়ে। সেই বাড়িতে যথেষ্ট কিছু ছিল, শুধু ছিল না শৌচাগার। তাকে একদিন তার শাশুড়ি বলেছিলেন, ‘আমাদের বাড়িতে শৌচাগার নেই তো কী হয়েছে? মাঠে চলে যাও।’ প্রিয়াঙ্কা চলে গিয়েছিলেন। তবে মাঠে নয়, নিজের বাবার বাড়িতে। বাস্তবের এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই লেখা ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’। তবে বাস্তবের সঙ্গে মিল বলতে এইটুকুই। বাকিটা পুরোই বলিউডের সিনেমাটিক রস দিয়ে ঘষা-মাজা করা।
মুক্তির আগে থেকেই নানা কারণে বেশ আলোচিত অক্ষয়ের সামাজিক সতর্কবার্তামূলক সিনেমা ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’। বাড়িতে ঠিকঠাক শৌচাগার না থাকাটা যে কতটা সঙ্কটের সেটা এই শ্রেণির পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয় সিনেমাটি। ১১ আগস্ট মুক্তি পায় এই ছবিটি। ছবিটির গল্পে দেখা যায়, মাঙ্গলিক কেশবের (অক্ষয় কুমার) বয়স পেরিয়ে গেলেও বিয়ে হয় না। বিয়ের ইচ্ছেয় ডগমগ কেশবের সাধের অন্তরায় সংস্কৃততে প-িত বাবা। এমন অবস্থায় তার দেখা হয় জয়ার (ভূমি পেডনেকর) সঙ্গে এবং প্রথম দর্শনেই প্রেম। শুরুতে গররাজি হলেও কেশবের নাছোড়বান্দা প্রেমিকসত্তাকে ফেলতে পারে না জয়া। বিয়ে হয় দু’জনের।
কিন্তু ফুলসজ্জার পরের দিন ভোররাতে এক অন্য ভারতের সঙ্গে দেখা হয় জয়ার। আসে লোটা পার্টির আমন্ত্রণ। যেখানে ভোরের আলো ফোটার আগেই শৌচকর্ম করতে লোটা নিয়ে দূরে যেতে হয় মহিলাদের। পড়াশোনায় স্বর্ণপদক পাওয়া জয়া তা মেনে নিতে পারে না। স্বামীকে তিনি বলেন, ‘টয়লেট নেই জানলে এ বাড়িতে বিয়েই করতাম না।’ জয়ার এমন কথায় আত্মসম্মানে ঘাঁ লাগে কেশবের। তিনি ঠিক করেন নিজের গ্রামে শৌচালয় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করেই ছাড়বেন। এক পর্যায়ে বন্ধুকে তিনি মনের দুঃখে বলেন, ‘শাহজাহান ভালোবাসার জন্য তাজমহল তৈরি করেছিল! আর আমি একটা টয়লেটও গড়তে পারলাম না!’
তারপর কেশব শৌচাগার নির্মাণের জন্য জনে জনে গিয়ে পরামর্শ দিতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে বাথরুমের পরামর্শ দেয়। একদিন জয়াকে বাথরুমে বন্দি করেই ছেড়ে দেয় ট্রেন। অপমানিত জয়া পাড়ি দেয় বাপের বাড়ি। বাকিটা নিশ্চয়ই আর বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। শুরু হয় কেশবের অভিযান। সমাজের বস্তাপচা রীতির বিরুদ্ধে। গ্রামের লোকের মানসিকতার বিরুদ্ধে। গ্রামের রীতি-নীতিই নয়, শুধু তার লড়াইটা একদিন পৌঁছায় সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে। ছবির বাকি অংশ জুড়ে কেশবের সেই লড়াইয়ের কাহিনী। এ লড়াই পরিচিত লড়াই নয়। অ্যাটাচড বাথরুমে অভ্যস্ত শহুরে সমাজের কাছে নতুন। তাই দেখতে মন্দ লাগবে না।
সেদিক থেকে কাহিনীকার জুটি সিদ্ধার্থ সিংহ ও গরিমা ওয়াহলের প্রশংসা না করে উপায় নেই। ভারতের অন্যতম বড় সমস্যা খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করাকে যে ভাবে খোলাখুলি তুলে ধরেছেন তার জন্য সাধুবাদ প্রাপ্য। পরিচালক নারায়ণ সিংহও প্রশংসার দাবি রাখেন। সামাজিক সমস্যাকে বেশ সুন্দর মজার মোড়কে তুলে ধরেছেন পর্দায়।
‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’ ছবিতে সেটা মাঝে মাঝে চোখে পড়বে। তবে চিত্রনাট্যের ছোটখাটো ভুল কিংবা বাদপড়া বিষয়টুকু বাদ দিয়েছে সংলাপ। অক্ষয় কুমারের কমিক টাইমিং নিয়ে নতুন কিছু বলতে যাওয়া ধৃষ্টতা। সংলাপ যোগ্য সঙ্গত দিয়েছে। ছবির গুণ ও দোষ দুটোই অক্ষয় কুমার। দোষটা অবশ্য তার নিজের নয়।  ছবিতে তার চরিত্র কেশব নিখুঁত নয়। আর সেটাকে যথাযথ ফুটিয়ে তুলেছেন অক্ষয়। বান্ধবীর সঙ্গে ব্রেকআপের দৃশ্য তো ছেলেরা টেমপ্লেট করে রাখতে পারে। মারামারির চরিত্রে যেমন তিনি স্বচ্ছন্দ, প্রতিবাদের দৃশ্যেও তেমন। যে মানুষটা বিয়ের পরদিন বউকে লোটা পার্টিতে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের কথা বলে, সে-ই বউয়ের সম্মান রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে সমাজের বিরুদ্ধে। বিশ্বাসযোগ্যভাবে চরিত্রের এই বদলটা অক্ষয় করেছেন। শুধু তার হিরোইজমটা একটু বেশি হয়ে গেল। এমনকি নায়িকাও!
তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক সমস্যা সিনেমায় বুনতে যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন পরিচালক। দীর্ঘদিন ধরে চাপিয়ে রাখা জগদ্দল ভাবনার পাথর সরিয়ে যুক্তির আলো দেখাতেও সক্ষম তিনি। ঘরে ঘরে শৌচাগার না থাকায় সরকারের অবহেলা যতটা, তার চেয়েও বেশি অনীহা যে বাসিন্দাদেরই—এ সত্য প্রকাশ করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আবার একইসঙ্গে তুলে ধরেছেন, গ্রামবাসীদের এই অনীহাকে অস্ত্র করেই কিভাবে জাল বুনেছে সরকারি দুর্নীতি।
মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বচ্ছ ভারত অভিযানে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’। কিছুদিন আগেই এ ছবি নিয়ে কথা বলতে মোদীর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন ওই ছবির হিরো অক্ষয় কুমার। অক্ষয় বলেন, ‘মূলত ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি কালচারকে কেন্দ্র করে এই চলচ্চিত্রের কাহিনী আবর্তিত। আর এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদীর ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর বড় ধরনের প্রচারও চালানো হবে। চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো ভূমি পেডনেকরের সঙ্গে অভিনয় করছি।’