আনন্দের মধ্যে ব্রাজিলের জন্য দুঃসংবাদ

খেলাধুলা ফুটবল

অতিরিক্ত সময়ে ২ গোল আদায় করে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল। দলের পক্ষে প্রথম গোল করেন কৌতিনহো। খেলা শেষ হওয়ার ১০ সেকেন্ড আগে দ্বিতীয় গোল করেন ব্রাজিলের বরপুত্র নেইমার। ডু অর ডাই ম্যাচে ব্রাজিল শুরু থেকে কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলতে থাকে। বল পজিশন ধরে রাখার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামে নেইমাররা। তাই শুরুতেই তেমন বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ব্রাজিল।

এ আনন্দের ভিড়ে বড় দুঃসংবাদ পেল দলটি। ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (বিএফএফ) প্রধান এন্তোনিও কার্লোস নুনেজ।

ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচ চলাকালীন। ব্রাজিলের ম্যাচের উত্তেজনা যেন ছাড়লো না ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ৮০ বছর বয়সী নুনেসকেও। রাশিয়ার একটি রেস্তোরায় বসেই ব্রাজিলের খেলা উপভোগ করেছিলেন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। একী কাজ করলেন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি! ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পরে কোন গোল না হওয়াতে এক সমর্থক এসে সভাপতিকে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন জিজ্ঞেসা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে গালিও দেন তাকে। এরপরে আর নিজেকে সামাল দিতে পারেননি সভাপতি। তেড়েফুঁড়ে যান প্রশ্নকারীর দিকে, পরে ধাক্কাও দেন সজোরে!

এমন ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেই রেস্তোরা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফিফা। আর সভাপতিকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিএফ। তবে সভাপতির পদ হারালেও কিছুই করার নেই। কেননা এই সিজন শেষে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।

সুইজ্যারল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ বার ফাউলের স্বীকার হওয়া নেইমার জুনিয়রের আজ খেলা প্রায় অনিশ্চিত ছিলো। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে আজ কোস্টারিকার বিপক্ষে টানা ৯০ মিনিটেই খেলেন নেইমার।

এর আগেও নেইমারের অভিনয় কম আলোচনা হয়নি। তবে আজ ধরা পড়ে গেল নেইমারের আসল অভিনয়। তখন ম্যাচের নির্ধারিত সময় বাকি আর মাত্র ১২ মিনিট। দুর্দান্ত খেলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ব্রাজিল। এমন সময় কোস্টারিকার বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান নেইমার। কোস্টারিকার সেন্টারব্যাক জিয়ানকার্লো গঞ্জালেজকে ঠিকই বোকা বানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটাতে নেইমার নিজেই বোকা হয়ে যান।

গঞ্জালেজ পড়ে যাওয়ার সময় নেইমারের গায়ে একবার হাত দেন। ব্যাস, পড়ে যান নেইমার! পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ক্ষেপে যান কোস্টারিকার খেলোয়াড়রা। ঘিরে ধরেন রেফারিকে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারির শরণাপন্ন হন ফিল্ড রেফারি। ভিডিওটি দেখে সাথে সাথেই গোল বাতিল করেন রেফারী। সেই সাথেই টিভি ক্যামেরায় দেখা যায় নেইমারের হাসি।