‘আমি ১ বছর ৮ মাস বাসায় বসে ছিলাম’

ক্রিকেট খেলাধুলা

আর কিছুদিন পরেই রংপুরের হয়ে খেলতে নামবেন মাশরাফি। বিপিএল শুরু হওয়ার আগে আজ এক বেসরকারী গণমাধ্যমের সাথে সাক্ষাতকারে মুখোমুখি হোন মাশরাফি। আর সেই সাক্ষাতকারে অনেককিছুই বলেন মাশরাফি। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলঃ

ক্রিকেট তাহলে আপনার কাছে কেমন?
মাশরাফি: ক্রিকেট আমার কাছে অবশ্যই অনেক বড় ব্যাপার। ছোট করে উত্তর দেওয়া তো কঠিন। ক্রিকেট খেলেই তো সব হয়েছে আমার। আর ক্রিকেট থেকেই সব পেয়েছি। তবে একটা জায়গায় থামতে হবে জানি।

ওই সময়ের পরে এই ক্রিকেটই আবার শূন্য হয়ে যাবে। ১৭ বছর টেনে আসছি, একটা জায়গায় গিয়ে থামতে হবে। তখন এই পার্টটাই শূন্য হয়ে যাবে। তো মাথায় ওটাও সব সময় কাজ করে যে দিনশেষে এটাই জীবন না। আবার এটাই আমাকে সবকিছু দিয়েছে এটাও ঠিক।
– ক্রিকেট খেলতে হলে একজন ক্রিকেটারের মধ্যে কোন ব্যাপারটা থাকা ভীষণভাবে জরুরি?
মাশরাফি: ডিসিপ্লিন এবং ফিটনেস। দুটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনেকরি ব্যক্তিগত জীবনের শৃংখলা খুব বেশি জরুরি। আমার মনেহয় বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় বা তাদের গ্রেড থেকে নেমে এসে যদি এভারেজ খেলোয়াড়ের গ্রেডেও আপনি চিন্তা করেন, দেখবেন দুই-একজন ছাড়া বাকিরা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অনেক গোছালো। তারা মাঠ এবং মাঠের বাইরে সংযত। তাদের ডিসিপ্লিন, অ্যাক্টিভিটিস বা অনুশীলনের সিডিউল যদি দেখেন, দেখবেন একটা রুটিন নিয়ে চলে তারা। এই কম্বিনেশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
– ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এমন কোনও কষ্ট বা ব্যথা আছে, যা ইনজুরির চাইতেও বেশি?
মাশরাফি: ক্রিকেটই জীবন না, একটু আগে এমন বলছিলেন। আপনি যদি মানজারুল ইসলাম রানার পরিবার বা ওর জীবন দেখেন ক্রিকেট জীবন হয় কীভাবে। আপনার সামনে অসংখ্য উদাহরণ আছে এমন। ক্রিকেট জীবন হতেই পারে না। ২৪ বছরের ছেলেটা মারা গেল। সে ৬-৭-৮ বছর ক্রিকেট খেলে গেছে। তার সামনে যদি অপশন থাকত যে জীবনের বাকি অংশ পঙ্গু হয়ে থাকবে কিন্তু ক্রিকেট খেলবে না, বেঁচে থাকবে, অবশ্যই ও এবং ওর পরিবার ওটাই মেনে নিত। তো এই জন্য আমি মনে করি ক্রিকেট জীবন না। ক্রিকেটীয় জীবনে মানজারুলের চলে যাওয়াটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় কষ্টের, বড় শোকের।

– বিশ্ব ক্রিকেট থেকে শুরু করে আমাদের অনেক সাবেক ক্রিকেটার মনে করেন আপনি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হতে পারতেন। কখনও কি আফসোস কাজ করে এ নিয়ে? কিংবা আপনার কি ওই বিশ্বাসটা ছিল যে আপনার দ্বারা সম্ভব ছিল?
মাশরাফি: হ্যাঁ, সেই বিশ্বাসটা ছিল। তবে এই পথে ইনজুরি একটা বড় কারণ। একটা বিষয় ছিল যখন আমার ইনজুরি হয়, তখন হিসাব হতে পারতো আমি শুধু ব্যাটিংয়ে মন দিয়ে বোলিংটা কোনভাবে করে যাব। কিন্তু আমি বোলিং নিয়ে ছাড় দিইনি। ইনজুরির পর বোলিং নিয়ে আমাকে দ্বিগুণ খাটতে হয়েছে। একটা ক্রিকেটার যখন খেলবে না, ওটা ভুলে যাওয়ার মতো হবে। কারণ ক্রিকেটই এমন। আর আমি এক বছর- আট মাস ধরে বসে থেকেছি। আমাকে অনেক সময় দিয়ে বোলিংয়ের ওই রিদমে ফিরতে হয়েছে। আলাদা করে ব্যাটিংয়ের সুযোগও হয়নি। আর আমরা জন্ম থেকেই এক্সকিউজ দিয়ে আসি। এ কারণে এক্সকিউজও দিই না। তবে এর মধ্যে থেকেই আমি আরও ভাল করতে পারতাম। এই ভুলটা আমারই। এটা স্বীকার করতে হবে।

– জীবনে বন্ধু ব্যাপারটা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ?
মাশরাফি: বন্ধু অনেক কিছু ম্যাটার করে। কঠিন সময়ে বন্ধু খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কঠিন সময়ের কথা বলছি এই কারণে আমি আমার লাইফ থেকে যা দেখেছি সেটা বলছি। তবে অবশ্যই সেটা ভাল বন্ধু। এটা আপনাকে বুঝতে হবে কার সাথে মিশছেন বা চলছেন। অনেকে চিন্তা করে আমার স্ট্যান্ডার্ডেই আমার বন্ধু হওয়া উচিত। এটা আসলে ভুল। অনেক নিচের সারির কেউও আপনার বন্ধু হতে পারে আবার অনেক উঁচু সারির কেউ আপনার বন্ধু হতে পারে। এটা নির্ভর করে তার মানসিকতা ও চলাফেরার ওপর। তবে বন্ধু খুব গুরুত্বপূর্ণ।