আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিল ফুটবল দল!

খেলাধুলা ফুটবল

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট রীতিমতো সোনার হরিণ। গত দুই দিন কলকাতা শহরের বিভিন্ন স্থানে ‘দাদা টিকিট পাওয়া যাবে’ কথাগুলো শোনা গেছে অনেক। বিশেষ করে কারো গলায় অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেখলেই এগিয়ে এসেছেন টিকিট প্রত্যাশি মানুষ। কোথায় এবং কিভাবে পাওয়া যাবে-এমন তথ্য জানার চেষ্টা সবার।

ফাইনাল খেলবে ইংল্যান্ড-স্পেন। এ অঞ্চলের মানুষের প্রিয় দল ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে সেমিফাইনাল থেকে। তারপরও আলোচনায় পেলে-নেইমারদের দেশ। ফাইনালে তারা নেই, কিন্তু ফাইনালের দিনে তো আছে। ফাইনালের পাশাপাশি ব্রাজিল-মালির তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। এ সুযোগ যেন কেউ হাতছাড়া করতে চাইছেন না। অনেকেই টিকিট খুঁজছেন ব্রাজিলের খেলা আছে বলেই।

এই বিশ্বকাপের সৌভাগ্যবান ভেন্যু সল্ট লেকের বিবেকান্দ যুব ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গন। ভাগ্যবান কলকাতার ফুটবল প্রেমীরাও। এ ভেন্যুতে টানা তিনটি ম্যাচ খেলছে ব্রাজিল। জার্মানীর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর মালির বিরুদ্ধে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। এক সপ্তাহের সপ্তাহের মধ্যে এক মাঠে ব্রাজিলের তিনটি ম্যাচ।

ব্রাজিল না থাকায় ফাইনাল নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকলেও উচ্ছাসটা নেই, যেমন ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল আর সেমিফাইনালে। তারপরও শনিবারের শেষ দিনটায় থাকছে ব্রাজিল। হোক তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও মালির বিরুদ্ধে খেলা। ম্যাচটিতো ব্রাজিলের তাই না? ফাইনাল ক’টায় শুরু হবে-এটা জানার মানুষের চেয়ে কম দেখা যায় নি ব্রাজিলের ম্যাচ ক’টায় তা জানার মানুষও। এক কথায় অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের আমেজটা শেষ দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে ব্রাজিল নামটাও কাজ দিয়েছে।

যে কোনো পর্যায়ের বিশ্বকাপই হোক-ব্রাজিল মাঠে নামে শিরোপা জয় করতেই। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম বিশ্বকাপ-সাত সমূদ্র তের নদীর এপার থেকে ট্রফি উড়িয়ে নেয়া হলো না ব্রাজিলের। এখন তাদের শেষ সান্তনা হতে পারে তৃতীয় হওয়া। শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল যুব দলের কোচ কার্লোস আমাদেউ বলেছেন,‘আমাদের টুর্নামেন্ট এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ২৪ দলের লড়াইয়ের পর সেরা চারের মধ্যে আছি এখনো। সুযোগ আছে তৃতীয় হওয়ার। যে পর্যায়ের ম্যাচই হোক-ব্রাজিলের ছেলেরা সব সময় জয়ের জন্যই মাঠে নামে। এ ম্যাচও আমরা জয়ের জন্য খেলবো।’

ফাইনালে উঠতে না পারলে সব দলই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারে। ব্রাজিলের কোচ বলেছেন,‘সেমিফাইনালের পর খেলোয়াড়রা রিকভারিতে রয়েছে। ফিট ও সেরা খেলোয়াড়দেরই একাদশে সুযোগ দেব। সেমিফাইনাল ম্যাচে হারলে এ পর্যায়ে ফুটবলারদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক। চেষ্টা করেছি মানসিকভাবে তাদের উদ্দীপ্ত করতে।’

মালি প্রসঙ্গে ব্রাজিল কোচের কথা, ‘তারা ভালো দল। ওই দলের খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে অনেক শক্তিশালী। তারা টুর্নামেন্টে ১৬টি গোল করেছে। বক্সের বাইরে থেকে গোল করার প্রবণতাও অনেক তাদের।’

গতবারের রানার্সআপ মালির কোচ জোনাস ককউ জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চান। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে তৃতীয় হওয়াও মর্যাদার। জুনিয়র পর্যায়ে আমরা ভালো করলেও সিনিয়র পর্যায়ে পারি না। এর কারণ আমাদের খেলোয়াড়রা ইউরোপে চলে যায়। যার ফলে সিনিয়র পর্যায়ে আমরা ফলাফল পাই না।’