আসছে সাশ্রয়ী ফেসবুক VR হেডসেট Oculus Go ! -VR হেডসেট কি? (বিস্তারিত দেখুন)

আন্তর্জাতিক ই-কমার্স খেলাধুলা প্রধান খবর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

২০১৮ তে ফেসবুক সাশ্রয়ী দামে স্ট্যান্ড-এলন VR হেডসেট বিক্রি করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।“Oculus Go”

•ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ বুধবার “ফেসবুক F8 ডেভোলাপ কনফারেন্সে” ১৯৯ ডলারে Oculus Go নামে VR হেডসেট বাজারে ছাড়ছেন বলে জানান।
•এটি একটি ১৯৯ মার্কিন ডলারের VR হেডসেট যা আগামী বছরের প্রথম দিকে চালু হবে।
•Oculus Go ব্যবহারের জন্য আর আগের মত কম্পিউটার বা ফোনে ওয়্যার সংযোগ করতে হবে না।

ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গ বুধবার ঘোষণা করেছেন যে, Oculus Go একটি স্বতন্ত্র VR হেডসেট যার দাম ধরা হয়েছে ১৯৯ ডলার মাত্র এবং আগামী বছরের শুরুতে পাওয়া যাবে।জুকারবার্গ পণ্যটির ফিচর্স নিয়ে বেশি কিছু বলেন নি। কিন্তু উল্লেখ করেছেন যে, এটি মোবাইল এবং ভিআর হেডসেটগুলির মধ্যে আগের গুরুত্বপূর্ণতা বা দুটির সংযোগ ব্যবহার অকার্যকর – যা উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলি অফার করে না কিন্তু সাশ্রয়ী।
ফ্লাগশিপ ওকুলাস রিফট [flagship Oculus Rift] ডিভাইসের অসদৃশ হচ্ছে- ওকুলাস গো [Oculus Go] তে কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে স্নেপেইড আউট করতে হবে না।এটা সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ VR।

ফেইসবুকের জরিপে এক বিলিয়ন VR ব্যবাহার কারি রয়েছে এবং তাদের খরচ অর্ধেকে নিয়ে আসার জন্য তাদের এই চেষ্টা এবং আরও কয়েক বিলিয়ন VR ব্যবাহারে আগ্রহীদের ক্রয় ক্ষমতার ভিতরে আসবে বলে তাদের ধারণা।

ফেইসবুকের তৈরি Oculus Go রিফট ভিআর দাম ৪৯৯ডলার এর অর্ধেকের কম এবং আগামী বছরের প্রথম দিকে পাওয়া যাবে, জুকারবার্গ বলেন।

VR বা ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি কি এবং ব্যবহারঃ

বর্তমানে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ব্যবহার করার জন্য আপনার মোবাইল সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইজ। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি’র জন্য ডেডিকেটেড ডিভাইজ “অকিউল্যাস” পর্যন্ত বর্তমানে স্মার্টফোনের কাছে হিমশিম খেয়ে গিয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি হেডসেট এবং আপনার স্মার্টফোন মিলে একটি অসাধারণ ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ফিচার প্রদান করে, যেটা নিঃসন্দেহে ফিউচার প্রুফ।

সত্যি বলতে স্মার্টফোনে ভিডিও উপভোগ করা বা গেমিং এর ধারণা’কে সম্পূর্ণ পাল্টিয়ে দিয়েছে এই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি টেকনোলজি। আপনার সামনে বড় স্ক্রীন না থেকেও বড় স্ক্রীনে ভার্চুয়ালি ভিডিও বা মুভি উপভোগ করা এবং রিয়াল এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে গেমিং করা, অর্ট প্রিন্ট করা সব—ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি’র পূর্বে সেটা কল্পনীয় বিষয় ছিল।

একটু আলোচনা করে নেই, “ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি “VR কি? —এখানে টার্মটি দুইটি আলাদা শব্দে বিভক্ত “ভার্চুয়াল” এবং “রিয়্যালিটি”। ভার্চুয়াল বলতে এমন কিছুকে বোঝানো হয়, যেটার ব্যস্তব কোন অস্তিত্ব নেই, শুধু কম্পিউটারের মাধ্যমে তাকে এক্সপেরিয়েন্স করতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি বলতে, কোন অব্যাস্তব জিনিষকে কম্পিউটারের মাধ্যমে অনুভব করে ব্যস্তব মনে করা হয়।

সত্যি কথা বলতে কিন্তু অনেক টাইপের ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি VR রয়েছে। ধরুন, আপনি কোন পেইন্ট করা ছবির দিকে তাকিয়ে কিছু অনুভব করলেন, বা আপনার রুমের পেইন্ট নিছে চিন্তা করলেন হয়তো ঐ ছবির রাজ্যে হারিয়ে গেলেন বা বই বা মুভি দেখার সময় সেই কাহিনীর মধ্যে মনের মধ্যে নিজের একটি ভার্চুয়াল কাহিনী তৈরি করেন, সেটাও কিন্তু এক ধরণের ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি।এবং ইচ্ছা করলে সেই চিন্তা আপনি আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলে ধরে রাখতেও পারেন পরবর্তিতে বাস্তব করার জন্য।

চোখ বন্ধ করেই যেমন আমরা স্বপ্নের দুনিয়াতে চলে যেতে পারি, ঠিক তেমনটি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির ক্ষেত্রে চোখে ব্যাস একটি বিশেষ হেডসেট পরিধান করেই ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ করতে পারি। কিন্তু এই হেডসেট’টি লাগানো থাকে হয় কোন পাওয়ারফুল ওয়ার্ড ষ্টেশনের সাথে অথবা কোন সুপার কম্পিউটারের সাথে। কিন্তু বর্তমানে ফেসবুক এবং মাইক্রসফ্ট কোম্পানী আনছে তাদের ওয়ারলেস VR।

কিন্তু আপনার স্মার্টফোনে আগে থেকেই একটি সেন্সর লাগানো থাকে, যেটা আপনার বডি নড়াচড়া’কে ডিটেক্ট করতে পারে, স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয় অত্যন্ত হাই রেজুলেসনের ডিসপ্লে, যেখানে ভিআর হেডসেট লাগিয়ে সহজেই ভার্চুয়াল ইমেজ তৈরি’র ইফেক্ট পাওয়া যায়। ব্যাস এখানে আর কিছুই নেই। না রয়েছে কোন এক্সট্রা মেশিন আর না রয়েছে কোন তারের ঝামেলা, ব্যাস স্মার্টফোন আর একটি পোর্টেবল ভিআর হেডসেট ব্যবহার করার মাধ্যমে অতি সহজেই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি উপভোগ করা সম্ভব।

সিএনএন এবং অনলাইন অবলম্বনে।