আহতদের চিকিৎসাসেবায় মেডিকেল বোর্ড গঠন

নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিড ইউনিটের সাবেক পরিচালক ডা. সামন্তলাল সেনকে প্রধান করে এ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়।

আজ শনিবার দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে এখন পর্যন্ত চারজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসব রোগীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় তাদের মানসিক চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, আজ রুবায়েত রশীদ নামে আরও একজন রোগী নেপাল থেকে বাংলাদেশে আসবে। এ ছাড়া আগামীকাল রোববার শাহীন ব্যাপারী ও কবির হোসেন নামের দুজনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হবে।নেপালে থাকবেন ইয়াকুব নামের একজন রোগী। নেপালে যিনি আছেন তাকে সেখানেই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, তাই রেখে দেওয়া হচ্ছে।  তবে দিল্লিতে ইমরান কবীর নামের একজন রোগীকে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।ডা. আবুল কালাম আরও বলেন,  যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৯ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ থেকে লাশের পরিচয় সনাক্ত করতে পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে নিহতদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের পোশাক ও স্বর্ণলংকারের মাধ্যমে তাদের পরিচয় সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।এগুলোর মাধ্যমে যাদের পরিচয় সনাক্ত করা যাবে না তাদের ডিএন টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।সরকার দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আহতরা যতদিন হাসপাতালে থাকবেন ততদিন পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দেবেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডা. সামন্তলালের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।আহতদের সবার অবস্থা ভালো, তবে শঙ্কামুক্ত নয় বলেও জানান ওই চিকিৎসক।অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, রোগীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে হাসপাতালে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনালে নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২৮ বাংলাদেশিসহ ৫১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। গত সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৪ ক্রুসহ ৬৭ আরোহীবাহী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

Comments

comments

Leave A Reply

Your email address will not be published.