ইমরানের আদর্শ ধারণ করে কাশ্মীরে নতুন দল ‘জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট’

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে কাশ্মীরে রাজনীতিতে নেমেছেন ভারতের প্রাক্তন আইএএস কর্মকর্তা শাহ ফয়সাল।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, রোববার কাশ্মীরে নিজের রাজনৈতিক দল ‘জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট’-এর যাত্রা শুরু করেন তিনি। সেখানে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। সেই সঙ্গে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কাশ্মীর সমস্যার সমাধান বের করারও ঘোষণা দেন।

এর পর জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নেতা ওমর আব্দুল্লার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের খবরও চাউর হয়।

শেষমেশ নিজের আলাদা দল তৈরি করলেন শাহ ফয়সাল। শ্রীনগরের রাজবাগে বিশেষ জনসভার আয়োজন করা হয় দলের যাত্রা নিয়ে। লেহ এবং জম্মু থেকেও বহুমানুষ অংশ নিয়েছিলেন তাতে।

দিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির ছাত্র পরিষদের সাবেক সহসভাপতি ও সমাজকর্মী শেলা রশিদ কয়েক’শ মানুষের সঙ্গে এ দিন শাহ ফয়সালের দলে যোগদান করেন। এ সময় তিনি উপত্যকার মহিলাদের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিতে আহ্বান জানান।

জনসভায় শাহ ফয়সাল বলেন, কাশ্মীর উপত্যকায় অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। প্রথম সারির সেই দলগুলির মধ্যেই কোনো একটিতে যোগ দেব ভেবেছিলাম শুরুতে। কিন্তু আমাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করি ওদের মধ্যে। তাই আমার মতো অন্য কাশ্মীরি যুবকদের সুযোগ করে দিতে নিজের আলাদা দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেই।

শাহ ফয়সাল আরও জানান, কাশ্মীর উপত্যকার সাধারণ মানুষ যা চান, তাই হবে। তাদের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান বের করতে কাজ করব আমরা। ধর্মের নামে যারা জম্মু-কাশ্মীরে বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা করছেন, সর্বশক্তি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াব।

উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার সোগাম-লোলাব এলাকার বাসিন্দা শাহ ফয়সাল। ২০০৯ সালে কাশ্মীর থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথমবার শীর্ষ স্থান দখল করে নজরে এসেছিলেন শাহ ফয়সাল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইস্তফা দেন তিনি।

সেই সময় বলেন, কাশ্মীরিদের হত্যা থামাতে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার উপরেও আঘাত হানার চেষ্টা হচ্ছে। হিন্দুত্ববাদীদের চাপে দেশের ২০ কোটি মুসলিম কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে সিভিল সার্ভিস থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।