ই-ক্যাব তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হল

ই-কমার্স প্রধান খবর

বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এ অবস্থিত রাওয়া ক্লাবে ই- কর্মাস অ্যাসোসিয়েশন  অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাবের) তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি । তিনি তার বক্তব্যে ই-কমার্সের উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক গৃহীত সকল পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এবং সকলকে জাতীয় স্বার্থে ই-কমার্সের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের এমডি ও সিইও আনিস এ খান, ই-ক্যাবের উপদেষ্টা শমী কায়সার, ই-ক্যাবের সভাপতি রাজীব আহমেদ ও অন্যরা, ই-ক্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এমটিবিএল ও ই-ক্যাব কোব্যান্ড এর কার্ড চালুর ঘোষণা দেয়া হয় এবং উক্ত কার্ডের ব্যবহারে সুবধিা গুলো তুলে ধরা হয়। উক্ত ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজে  ফেসবুকে বিজ্ঞাপন  বিল পরিশোধ করতে পারবেন অনলাইন ব্যবসায়িরা। তবে এই সুযোগ  শুধু মাত্র ই-ক্যাব মেম্বার কোম্পানি গুলো পাবে বলে জানানো হয়।

ই-কমার্সে ই-ক্যাব কোন বিচ্ছিন্ন প্রতিষ্ঠান নয় বরং তার সাথে জড়িত ব্যাংকিং, মোবাইল নেটওয়ার্ক, কুরিয়ার ইত্যাদির। ই-কমার্স সেক্টর বৃদ্ধির লক্ষ্যে ই-ক্যাব- অনলাইন দোকান এবং ই-সার্ভিস, ই-পেমেন্ট এবং লেনদেন, ই-সিকিউরিটি, ই-কমার্স নীতিমালা এবং নির্দেশিকা, সেবা প্রদান, ই-কমার্স সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণ, প্রোডাক্ট মান উন্নয়ন, এবং গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছে।

 

ই-কমার্স একটি সেবা ভিত্তিক শিল্প। এখানে বিশ্বাস এবং আস্থার ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার নিরাপত্তা স্থাপন করবে ই-ক্যাব। ই-কমার্স সেক্টরের সমস্যা সমাধানে দরকার  যৌথ শক্তি এবং ই-কমার্স সেক্টরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দরকার ই-ক্যাব। বাংলাদেশে ই-কমার্স সেক্টরকে এগিয়ে নেবার জন্য ই-ক্যাব বছরের ৩৬৫ দিনই চেষ্টা করে আসছে। মেলা সহ বিভিন্ন আয়োজনে আপনার প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে আকর্ষণীয় ডিস্কাউন্ট। আপনার প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং  ই-কমার্স নিয়ে নিয়ে সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজনে রয়েছে ই-ক্যাব। ই-কমার্স খাতের উপর অন্তত ১০ বছরের জন্য সকল প্রকার ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রত্যাহারের জন্য সরব ই-ক্যাব। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করছে। ই-কমার্স সেক্টরে যারা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি তাদের থেকে নতুন উদ্যোক্তারা যাতে পরামর্শ পান সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এবং যাদের ট্রেড লাইসেন্স বা অন্য কোন সীমাবদ্ধতা রয়েছে তাদের সাহায্যের জন্য রয়েছে ই-ক্যাবের বিশেষ সেল। এবং সেই লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ই-কমার্স শিল্পে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে ই-ক্যাব।

বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের মাধ্যমে দেশের ই-কমার্স খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) যাত্রা শুরু হয়েছিল।

 

শুরু থেকেই অ্যাসোসিয়েশন সদস্যদের সার্বজনীন স্বার্থ সমন্বয় ও অগ্রগায়ন, বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সরকার ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে একযোগে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের দিকনির্দেশনা ও ই-ক্যাবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় ই-কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড- দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

জাতীয় ই-কমার্স নীতিমালা প্রণীত ও বাস্তবায়ন হলে দেশে আস্থাশীল ও নির্ভরযোগ্য ই-কমার্সবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং এ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Tagged