উবার ও পাঠাও বন্ধে কর্মসূচি দেওয়ায় সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে যাত্রীরা

বাংলাদেশ

অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সার্ভিস উবার ও পাঠাও বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১৫ জানুয়ারি থেকে এ দুটি মহানগরে তাদের লাগাতার ধর্মঘট শুরু হবে বলে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনের জানানো হয়েছে। তবে তাদের এ কর্মসূচির বিরুদ্ধে মতামত দিচ্ছেন যাত্রীরা।
যাত্রীরা মনে করেন, পাঠাও-এর মাধ্যমে যানজটের ঝক্কি এড়ানো যায় অনেকাংশে। উবারও যাত্রীবান্ধব পরিবহন বলে দাবি অনেকের। তাছাড়া সিএনজি চালকরা মিটারে না গিয়ে বেশি ভাড়া নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাই তারা উবার ও পাঠাও বন্ধের কর্মসূচির বিরোধিতা করেছেন।
উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় বাস ও সিএনজি যাত্রীদের জিম্মি রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী শাকিলের। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজধানীতে যানবাহন সমস্যা নিত্যদিনের। এ অবস্থায় জনবান্ধব যে কোনও পরিবহন ব্যবস্থাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, পাঠাও আর উবার যাত্রীদের জন্য উপকারী। তাই এসব পরিবহনের বিপক্ষে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। যেসব পরিবহন যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানাই।’

নিয়মিত পাঠাও’তে যাতায়াত করা গণমাধ্যম কর্মী সাদ্দাম হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি প্রায়ই এ সেবা নিয়ে থাকি। যানজটের শহর ঢাকায় পাঠাও-এর মাধ্যমে অনেক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। যারা এই সেবা বন্ধের দাবি করছে আমরা তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। তাদের তো মিটারে চলাচলের কথা, কিন্তু তারা তা মানছেন না। যারা একটা শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে যাত্রীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ঠিক নয়। তাদের এই দাবি যাত্রীরা মেনে নেবে না বলে আমার বিশ্বাস।’

জানা যায়, আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ধর্মঘট করবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন, ২২ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রমিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান, ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামে শ্রমিক সমাবেশ, ১০ ডিসেম্বর বিআরটিএ ঘেরাও।

মালিক সমিতির ‘অসাধু নেতারা’ বুয়েট, বিআরটিএ ও মন্ত্রণালয় থেকে ‘মেয়াদ বাড়ানোর নামে’ অটোরিকশার মালিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন পরিষদের সচিব সাখাওয়াত হোসেন দুলাল। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে অনেক পুরনো সিএনজি-অটোরিকশা চলছে। এগুলোর ইঞ্জিন ও চেসিস পুরনো হয়ে গেছে। চেসিস ও ইঞ্জিন প্রতিস্থাপন করা না হলে দুর্ঘটনায় যাত্রী ও চালকের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

পরিষদের সচিব আরও জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৫ হাজার ৫৬১টি ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭ হাজার ৪৬৯টি সিএনজির আয়ু উত্তীর্ণ হবে। এগুলোর মেয়াদ শেষ হলেও নতুন ইঞ্জিন ও গ্যাস সিলিন্ডার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সিএনজি-অটোরিকশার ইকোনমিক লাইফ ছয় বছর বৃদ্ধির যে আবেদন মালিক সমিতি করেছে, তারা এর বিরোধিতা করছেন।

সিএনজি চালকদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচল করা মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশা অপসারণ করে নতুন অটোরিকশা প্রতিস্থাপন, ঢাকায় চালকদের নামে পাঁচ হাজার ও চট্টগ্রামে চার হাজার অটোরিকশা বিতরণ, উবার ও পাঠাও-এর মতো অ্যাপনির্ভর পরিবহন সার্ভিস বন্ধ করা, খসড়া পরিবহন আইন থেকে ‘শ্রমিক স্বার্থবিরোধী’ ধারা বাতিল করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে ব্যবহারিক পরীক্ষা বন্ধ করা, অননুমোদিত পার্কিংয়ের জন্য মামলা না করা, চালকদের ‘হয়রানি’ বন্ধ করা এবং নিবন্ধিত অটোরিকশা চালকদের ঢাকা জেলার সব জায়গায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া।