একশো কোটিরও বেশি টাকার মালিক স্কুলপড়ুয়া ছাত্র

অর্থনীতি আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্রেরণা চিঠি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা

একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠতম মিলিওনেয়ারের একজন হয়ে ওঠেছেন, তার অনলাইন ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট সংস্থা ব্যবসাটি এক বছরের মধ্যে  প্রায় ১২ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের লেনদেন করেছে।

উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা স্কুল পড়ুয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত অক্ষয় সম্প্রতি ব্রিটেনের কমবয়সী কোটিপতিদের তালিকায় নাম তুলে ফেলেছেন। বছরখানেকের মধ্যেই তিনি তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ দাড় করিয়েছেন ১০৩ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। স্কুলে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকেই নিজের অনলাইন ব্যবসা সামলেছেন অক্ষয়। নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে সম্পত্তি কেনাবেচায় মানুষজনকে সাহায্য করে তাঁর সংস্থা ‘ডোরস্টেপস ডট কো ডট ইউকে’।  ১৬ মাস আগে সংস্থার পথচলা শুরু। এই মুহূর্তে যা এখন ব্রিটেনের বৃহত্তম হাউজ সেইলিং এজেন্সি বলে গণ্য করা হয়।

এই সপ্তাহে “doorsteps.co.uk” যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ তম সর্ববৃহৎ রিয়েল এস্টেট সেইলিং সংস্থা হয়ে উঠেছে মাত্র ১৬ মাসে।

অক্ষয় দাবি করেছে যে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তি বিক্রি করেছেন।

শুরুর দিনগুলির কথা বলতে গিয়ে অক্ষয় বলেন, “সংস্থার ওয়েবসাইট চালুর সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই সাসেক্সের এক জনের কাছ থেকে ফোন কল আসে। সেখানে তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। সঙ্গে একফালি জমি। দুটোই বেচতে চান তিনি।” সে সুযোগ হাতছাড়া করেননি অক্ষয়। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়েছিলেন সাসেক্সে। নিজের গাড়ি ছিল না। ড্রাইভিং লাইসেন্স তো দূরের কথা। ফলে ভগ্নীপতিকে ৪০ পাউন্ড দিয়েছিলেন তাঁকে সাসেক্সে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। সাসেক্সে পৌঁছে সেই জমি-বাড়ির ছবি তুলে আনেন অক্ষয়। এর পর তা তিন সপ্তাহের মধ্যে সম্পত্তি এবং জমি বিক্রি করতে সক্ষম হন, সেই শুরু। কৌশিক এবং রেনুকা রুপারেলিয়ার ছেলেকে এর পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তার বাবা কেয়ার ওয়ার্কার কৌশিক এবং মা স্কুলশিক্ষিকা রেনুকা— দু’জনেই বধির। ছেলের সাফল্যে স্বাভাবিক ভাবেই গর্বিত তাঁরা।

“ডেইলি মিরর” সাক্ষাৎকারে অক্ষয় বলেন তার সাফল্যের মতো তাঁর ব্যবসার পদ্ধতিও খানিকটা আলাদা। স্যুট-বুট পরা ঝকঝকে এস্টেট এজেন্টের বদলে তাঁর ব্যবসায় কর্মী হিসেবে রয়েছেন মধ্যবয়সী গৃহিনীরা। তাঁরাই ক্রেতাদের ঘর-বাড়ি দেখাতে নিয়ে যান। তা এমন মধ্যবয়সী গৃহিনীদের উপরেই ভরসা কেন অক্ষয়ের? তাঁর মতে, “মায়েদের উপরে ক্রেতাদের আস্থা আছে। আর মায়েরা সত্যি কথা বলেন! এই ব্যবসায় সেটা খুবই জরুরি। কারণ, যাঁরা নিজেদের ঘর-বাড়ি বিক্রি করছেন, বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই তা তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় লেনদেন।” আত্মীয়দের কাছ থেকে নেওয়া ৭ হাজার পাউন্ড দিয়ে কোম্পানী শুরু করেন,  এবং  ১২ জন কর্মী নিয়োগ করেন বর্তমানে মধ্য বয়সি মহিলাদের নিয়ে বড় একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে পুরো  ব্রিটেন জুড়ে।

 

মা-বাবার থেকে আর পকেটমানি নেন না অক্ষয়। বরং তিনিই মা-বাবাকে আর্থিক ভাবে ভরসা দেন। আর পাঁচটা স্কুলপড়ুয়া ছাত্রের মতো নন তিনি। কারন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও গণিত নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার পরও ছেড়ে দেন! কারণ ব্যবসা বাড়ানোর জন্য ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র: ডেইলি মিরর