এক নজরে দেখেনিন টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের ১০ বড় জয়

ক্রিকেট খেলাধুলা

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে নিজস্ব ক্রিকেট খেলা আয়োজনের ব্যবস্থা গড়ে উঠে।  এ সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।  ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরু হয়।  ৩১ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে পূর্ণাঙ্গ শক্তিধর ও টেস্টখেলুড়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
দলের অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে যায়।  সাত উইকেটহাতে রেখেই পাকিস্তান কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে। ২৬ জুন, ২০০০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ সদস্যের মর্যাদা লাভ করে।  বোর্ডের নাম পরিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নামকরণ হয়।  ১০-১৩ নভেম্বর, ২০০০ সালে বাংলাদেশ দল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী টেস্টে ভারতের মুখোমুখি হয়।  খেলায় ভারত দল নয় উইকেটে জয় পায়।

বাংলাদেশ ১ম জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২২৬ রানের জয় পায়।  টাইগাররা প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় চট্টগ্রামে ২০০৫ সালে ৷ ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে (জানুয়ারি ৬-১০) অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪৮৮ রান তোলে স্বাগতিকরা৷ আর দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ২০৪ রান করে৷ প্রথম ইনিংসে জিম্বাবোয়ের স্কোর ছিল ৩১২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ রান৷

২য় জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৯৫ রানের।  দেশের বাইরে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয়ের দেখা পায় ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই৷ কিংসটাউনে সেই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯৫ রানে হারায় টাইগাররা৷

৩য় জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চার উইকেটের।  ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ছিল সাফল্যে ঠাসা৷ জুলাইয়ে (১৭-২০)দ্বিতীয় টেস্টে সেন্ট জর্জেসে স্বাগতিকদের হারায় টাইগাররা।  সেবার জিতেছিল চার উইকেটে৷৪র্থ জয় জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৪৩ রানের।  ২০১৩ সালে এপ্রিলে (২৫-২৯) জিম্বাবোয়ের হারারেতে স্বাগতিকদের আবার ‘বধ’ করে টাইগাররা৷ প্রথম ইনিংসে ৩৯১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৯১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ৷ জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৮২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবোয়ে৷

৫ম জয় জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিন উইকেটের।  ২০১৪ সালের অক্টোবরে (২৫-২৭) ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়৷ তিন দিনে শেষ হওয়া সেই টেস্টে শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রান করে জিম্বাবোয়ে৷ আর দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ১১৪৷ অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে ২৫৪ আর দ্বিতীয় ইনংসে ৭ উইকেটে ১০৭ রান তুলে জিতে যায় স্বাগতিকরা৷

৬ষ্ঠ জয় জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৬২ রানের।  ২০১৪ সালের নভেম্বরে (৩-৭) খুলনায় জিম্বাবোয়েকে হারায় বাংলাদেশ৷ সেই টেস্ট পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ালেও শেষমেশ তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবোয়ে৷ ফলাফল স্বাগতিকদের ১৬২ রানের জয়৷

৭ম জয় জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৮৬ রানের।  ২০১৪ সালের নভেম্বরে (১২-১৬) আবারো চট্টগ্রামে জিম্বাবোয়েকে হারায় টাইগাররা৷ সেবার ব্যবধান ছিল ১৮৬ রানের৷

৮ম জয় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০৮ রানের।  এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্রিকেট শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয় এটি৷ ২০১৬ সালের অক্টোবরে (২৮-৩০) ঢাকায় ইংল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করে টাইগাররা৷

৯ম জয় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৪ উইকেটের।  একদিকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শততম ম্যাচে জয়, অন্যদিকে প্রথমবারের মত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়-দুই দিক দিয়েই ঐতিহাসিক বাংলাদেশের এই টেস্ট ম্যাচটি৷ ২০১৭ সালের মার্চে (১৫-১৯) পঞ্চম দিনে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা৷ ম্যাচ সেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল৷

১০ম জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০ রানের।  ২০১৭ সালের আগস্টে (২৭-৩০) প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে৷ এটা ছিল সাকিব ও তামিমের ৫০তম টেস্ট।  সাকিব মোট ১০ উইকেট নিয়ে এবং তামিম দুই ইনিংসেই অর্ধশত করে স্মরণীয় করে রাখলেন এই টেস্টকে৷ ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান৷