এথেন্সের বানভাসি মানুষের পাশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক প্রবাসী বাংলাদেশ
গত ১৫ অক্টোবর গ্রীসের রাজধানী এথেন্সের নিকটতম শহর মান্দ্রায় রাতভর ভারী বর্ষণে পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা ও পানিতে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ২০ জন গ্রীক নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন, এখনো নিখোঁজ অনেকে। আহত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।
শহরটির আশপাশের গ্রামগুলোর বাড়িঘর কাদার নিচে ডুবে যায়। স্থানীয়দের অনেকে আপনজন হারিয়ে দিশেহারা। অসহায় জীবনযাপন করছে সেখানকার বাসিন্দারা।
গত শনিবার গ্রীসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতাকর্মীরা সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে এই শহরের বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়ান। স্থানীয় মেয়রসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশীদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।সকাল থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা ভাগে ভাগে বিভক্ত হয়ে কাদামাটিতে ঢেকেথাকা বাড়ীঘর গুলো উদ্ধারের কাজে নেমে পড়ে।
এ সময় গ্রামগুলোর বাসিন্দারা একে একে বাংলাদেশীদের পরিচয় জানতে আগ্রহ দেখায়। বাংলাদেশীদের এ ধরনের সহযোগিতা তাদের অবাক করে জরিয়ে ধরে ধন্যবাদ দিতে থাকে গ্রামবাসী।অনেক বৃদ্ধ নরনারী রীতিমতো তাদের ঘরবাড়ির উদ্ধারের সহযোগিতা চান। প্রবাসীরা একে একে কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দেন।
উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ কারী আরিফুর রহমান আরিফ(সিরাজ)বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত এই গ্রীক পরবাসে বসবাস করে আসছি। আমরা যেন এদেশের মাটি ও মানুষের সাথে জড়িয়ে আছি। এদেশের মাটি ও মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। গ্রীসে বসবাসরত প্রবাসীদের অনুরোধ থাকলো মানবিক দিকটা বিচার করে আপনারা সকলেই এ দেশের দুর্দিনে কাছে থাকবেন। আমি আজ যে বাড়িটির উদ্ধারের কাজ করছি সে বাড়িটিতে একজন ৭৭ বছর বয়সের বাবার অকাল মৃত্যু হয়েছে যার নাম(ইয়োরগিও নেজি)এই বাড়িটির উদ্ধারের কাজটি করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
তিনি আরো বলেন, আজকের এই ভয়াবহ বন্যার্তদের সাহায্যে আসা বাংলাদেশ কমিউনিটির সকল নেতাকর্মীদের সংগ্রামী সালাম রেখে বলছি আপনাদের নাম এদেশের মাটি ও মানুষের কাছে সরণীয় হয়ে থাকবে।
উদ্ধার কাজ শেষে সন্ধ্যায় স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত সভায় আরিফুর রহমান বলেন আমরা প্রবাসী  এই শহর ও গ্রাম পুনরায় নির্মাণে দৈহিক সহযোগিতা দিতে বিরত হবো না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস। সিনিয়র সভাপতি আহসান উল্লাহ, বাংলাদেশ গ্রীক চেম্বার সভাপতি আরিফুর রহমান আরিফ(সিরাজ), দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক টিটু, দোয়েল একাডেমির শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম।
আরো ছিলেন মানবাধিকার কর্মী সহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: জালাল উদ্দিন, এনজিও হারার পরিচালক জহির ডাকুয়া, মোছাবিবর আলী।সোহেল আহমেদ, জহিরুল ইসলাম।কালাম শরিফ, জামিল সরদার।সেলিম খান, সেলিম মৃধা, দুলাল মিয়া।