এবার বাজেটে ফেসবুক-ইউটিউবে কর বসানোর প্রস্তাব

বাংলাদেশ

আসছে অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবকে আইন করে করের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান ও টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারিখাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ প্রস্তাব দেন।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তারা এ প্রস্তাব দেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যাটকোর সহ-সভাপতি আরিফ হাসান, পরিচালক ফারজানা মুন্নি, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ উভয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বিদেশি চ্যানেল প্রচারে ল্যান্ডিং ফি নির্ধারণ, বিজ্ঞাপনে ভ্যাট ব্যবস্থা সহজিকরণ ও সংবাদপত্রের কাগজ আমদানি থেকে সব পর্যায়ে কর অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠন দুইটি।

বাজেট আলোচনায় মতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে টেলিভিশন ও অনলাইন শক্তিশালী হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা সংবাদপত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সবত্রই পত্রিকার পাঠক কমেছে। এ কারণে বিজ্ঞাপন কমে গেছে।

তিনি বলেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে নিউজ প্রিন্টের দাম বেড়েছে। ফলে আমরা বিপদে পড়েছি। সব মিলিয়ে পত্রিকা এখন রুগ্নশিল্পের কাতারে। এ অবস্থায় নিউজ প্রিন্ট আমদানি শতভাগ শুল্কমুক্ত করা, সংবাদপত্রে করপোরেট কর প্রত্যাহারসহ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

মতিউর রহমান বলেন, সামাজিক মাধ্যমে সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ ইউটিউব ও ফেসবুকের দিকে ঝুঁকছে। ইউটিউব ও ফেসবুক এখন বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে প্রচুর আয় করছে। সংবাদপত্র টেলিভিশনগুলো তাদের বিজ্ঞাপনে সরকারকে রাজস্ব দিলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে এ মাধ্যমগুলো।

তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও টিভিতে বিজ্ঞাপন না এসে ফেসবুক ও ইউটিউবে চলে যাচ্ছে। তাই দেশীয় আইনের মধ্যে এদের এনে নিয়ন্ত্রণ করলে সরকারের রাজস্ব অনেক বাড়ার পাশাপাশি দেশীয় গণমাধ্যম বেচেঁ থাকবে।

অ্যাটকো সভাপতি সালমান এফ রহমান বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবের কারণে দেশের গণমাধ্যম সংকটে পড়েছে। এগুলোকে আইনের মধ্যে নিয়ে আসলে সবাই উপকৃত হবে। সংবাদপত্র শিল্প বেঁচে থাকবে।

আগামী বাজেটে এ বিষয়গুলোর পাশাপশি রফতানিবান্ধব নীতি করার প্রস্তাব দেন তিনি।

ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতনের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পান চাকরিজীবীরা যা করমুক্ত। তবে সংবাদপত্রে এটি ৬৫ শতাংশ হওয়ায় ২৫ শতাংশের ওপর কর দিতে সংবাদপত্র মালিকদের। এটি তুলে দেয়া জরুরি।

একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজ্জামেল বাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি আমাদের দেশে বিদেশী চ্যানেল প্রচারে কোনো ধরনের ফি দিতে হয় না। আমাদের দেশের চ্যানেল অন্য কোনো দেশে প্রচার করলেই সংশ্লিষ্ট দেশকে ল্যান্ডিং ফি দিতে হয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এ পদ্ধতি চালু রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এসব চ্যানেলের বিজ্ঞাপন আয় থেকে রেভিনিউ বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংকটে পড়ছে দেশীয় টিভি চ্যালেনগুলো। প্রাথমিকভাবে খেলা ও খবরের চ্যালেনগুলো বাদ দিয়ে বাকি সব চ্যালেনের ওপর ল্যান্ডিং চার্জ আরোপ করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সরকার যেহেতু সেবা খাত হিসেবে ব্যাংকে আলাদা সুবিধা দিচ্ছে, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হিসেবে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গণ্য করে তাকেও সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। এটিকে টিকিয়ে রাখতে এনবিআরও কর এবং ভ্যাটে ছাড় দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে।