ওবামা-কন্যার ‘ছেলেবন্ধু’ এবং স্মোক রিং নিয়ে হইচই (ভিডিও)

আন্তর্জাতিক প্রধান খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বড় মেয়ে মালিয়া ওবামার ‘ছেলেবন্ধু’ নিয়ে সরগরম গণমাধ্যম। তবে গণমাধ্যমের এমন খবর প্রকাশ করা উচিত হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কে জড়িয়ে গেছেন সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্টের দুই মেয়েও।

হাফ পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল ওয়েবসাইট দ্য ডেইলি কলার মালিয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মালিয়া গোল করে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ার চেষ্টা করছেন। টিএমজেডের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, হার্ভার্ড ও ইয়েলের বার্ষিক ফুটবল খেলা উপলক্ষে আয়োজিত পার্টিতে মালিয়া একটি ছেলেকে চুমু খাচ্ছেন।

বাবা বারাক ওবামা ও মা মিশেল ওবামার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মেয়ে মালিয়া যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়ছেন। যে দুটি সংবাদমাধ্যম মালিয়াকে নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে তাদের ভাষ্য, ‘ছেলেবন্ধু’ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের।

টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, মালিয়ার ‘ছেলেবন্ধু’র নাম ররি ফারকুহারসন। তিনি ব্রিটিশ নাগরিক। যুক্তরাজ্যে থাকার সময় তিনি তাঁর বিদ্যালয়ের রাগবি দলের প্রধান ছিলেন। এ লেভেল শেষ করে ১৯ বছর বয়সী ররি গত বছর হার্ভার্ডে পড়তে যান।

ররির এক বন্ধু বলেছেন, তিনি প্রতিভাবান খেলোয়াড়। গলফ ও রাগবি খেলায় তিনি খুবই দক্ষ। একই সঙ্গে পড়াশোনাতেও খুব ভালো।

আয়ারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস বিল্ডিংয়ে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছেন ররি। তাঁর বাবা ক্যামব্রিজের ডিগ্রিধারী চার্লস লন্ডন-ভিত্তিক ইনসাইট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী। আর মা ক্যাথরিন একজন দক্ষ হিসাববিদ। তিনি অর্থ-সংক্রান্ত আদালতে কাজ করেন।

ররির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে খবরে বলা হয়েছে, তিনিও তাঁর বাবার মতো ব্যাংকিং খাতে কাজ করতে আগ্রহী। ররি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন কড়া সমালোচক। মালিয়া ও ররির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড থেকে মনে হচ্ছে, হার্ভার্ডে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই ররির সঙ্গে ‘ডেটিং’ করছেন মালিয়া।

গত বছর বারাক ওমাবা নিজেই জানান, তাঁর দুই মেয়ে মালিয়া ও সাশা ডেটিং শুরু করেছে।

ওবামা-মিশেল দম্পতি বারবারই বলেছেন, তাঁরা তাদের দুই মেয়েকে আর দশটা সাধারণ শিশুর মতোই বড় করতে চেয়েছেন এবং সেটাই করেছেন। ১৯ বছরের মালিয়া তাঁর জীবনটা আর দশটা সমবয়সীর মতো কাটাবেন, সেটাই তাঁরা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। বাবা-মা তাই মেয়ের ডেটিংয়ের খবর নিয়ে চিন্তিত নন।

তবে গণমাধ্যম বিষয়টিকে যেভাবে উপস্থাপন করেছে, তা নিয়ে হাস্যরস করছেন দেশটির অনেক নাগরিক। তাদের ভাষ্য, মালিয়া এখন আর প্রেসিডেন্টের মেয়ে নন। তাঁর অধিকার আছে, আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করার, নিজের পছন্দের সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর। এ নিয়ে গণমাধ্যমের বাড়াবাড়ি অযথা।

নিউজউইক বলছে, মালিয়ার পক্ষে কথা বলেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প। তিনি টুইটে বলেছেন, এই বয়সী একজন মেয়ের যতটুকু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা থাকা উচিত; মালিয়ারও তাই প্রাপ্য।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন টুইটে বলেছেন, মালিয়ার ব্যক্তিগত জীবনের কথা একজন তরুণী, একজন কলেজছাত্রী ও একজন নাগরিক হিসেবে প্রকাশ্যে আসা উচিত নয়। গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে বলেছেন তিনি।

https://youtu.be/R1i05oGuj7Q