করোনাভাইরাস দ্বিতীয়বার হতে পারে?করোনাভাইরাস কারও একবার হলে আবার তার হওয়ার আশঙ্কা থাকে

অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য

করোনাভাইরাস কারও একবার হলে আবার তার হওয়ার আশঙ্কা থাকে কি না, অনেকেরই এ প্রশ্ন। এর সংক্রমণ থেকে পুরোপুরি মুক্তির উপায় নিয়েও চিন্তার শেষ নেই। গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা স্যার প্যাট্রিক ভ্যালান্স ও বরিস জনসনের প্রধান চিকিৎসক ক্রিস হুইটি জনসাধারণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভাইরাস একবার যাদের আক্রমণ করে, তাদের কিছুটা সংক্রমণরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়। এতে আবার তাদের সংক্রমণ ঘটনার ঘটনা বিরল।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে জাপানের কর্তৃপক্ষ এক রোগীর করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার পর আবার ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ জানালে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিজ্ঞানীরা এই সংবাদ শুনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা যথেষ্ট অস্বস্তিতেও পড়েন।

যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ মার্ক হ্যারিস বলেন, জাপানের ওই ঘটনার ক্ষেত্রে পুনরায় রোগ সংক্রমণের ঘটনাটির মতো ঘটনা খুবই কম ঘটে। তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাণীর (বাদুড়) করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে ক্রমাগত সংক্রমণের কিছু প্রমাণ রয়েছে।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গতকাল ভ্যালান্সকে জাপানের ওই ঘটনার উদাহরণ দিয়ে প্রশ্ন করা হয়, অনেক মানুষের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রতিরোধী হয়ে ওঠার বিষয়টি অর্জনযোগ্য নয় বলেই দেখা যাচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাজ্যের এ বিশেষজ্ঞ বলেন, কিছু লোক দ্বিতীয়বার সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। তবে এটি একটি বিরল ঘটনা। এটি করোনাভাইরাসে ঘটবে, তার কোনো প্রমাণ দেখা যায়নি।

অধ্যাপক হুইটি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, রোগে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি না হলেও কিছুটা স্বল্পমেয়াদি ক্ষমতা তৈরি হয়।

ব্রাইটন এবং সাসেক্স মেডিকেল স্কুলের সংক্রামক রোগের ইমেরিটাস অধ্যাপক জন কোহেন বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস দুবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে কি না, এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, আমরা এখন পর্যন্ত জানি না। কারণ, আমরা এখন পর্যন্ত সংক্রমণের বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখিনি। তবে আমরা শিগগিরই তা পরীক্ষা করে দেখব।’

জন কোহেন বলেন, অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, একবার কেউ সংক্রমিত হলে তারা সাধারণত প্রতিরোধী হয়ে ওঠে এবং পরে আর তাদের সংক্রমণ ঘটে না। তবে সব সময় এর ব্যতিক্রম থাকবে। তবে এটি অবশ্যই যুক্তিসংগত প্রত্যাশা।