কালোবাজারিদের হাতে বিপিএলের টিকেট পাচ্ছেনা সাধারণ দর্শক

ক্রিকেট খেলাধুলা প্রধান খবর

সিলেটে শুরু হয়েছে বিপিএলের টিকিট বিক্রি। প্রথম দিনই কালোবাজারিদের হাতে চলে গেছে বিপুল সংখ্যক টিকেট। ‘সোনার হরিণ’ টিকিট পেতে আগের দিন সোমবার মধ্যরাত থেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েও ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার সাড়ে ১২টায় (১২ ঘণ্টা) শুন্য হাতে বাসায় ফিরেছেন কলেজ ছাত্র নয়ন। মঙ্গলবার ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে একই সময়ে টিকিট কিনতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরেছেন চাকুরিজীবী আবদুল হান্নান। শুধু নয়ন আর হান্নান নয় এরকম শুন্য হাতে বাড়ি ফিরেছেন অনেক দর্শকরা।

অথচ কালোবাজারিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে টিকেট বিক্রি করছে। বিক্রেতারা মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নিউজ মিডিয়াতে জানায়, বিক্রি শুরুর ২ ঘণ্টার মধ্যেই ২০০, ৩০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যের টিকিট শেষ হয়ে গেছে, এখন শুধু ২ হাজার টাকার গ্রান্ডস্ট্যান্ডের টিকেট বাকি আছে। লাইনে দাঁড়িয়ে যারা টিকেট কিনেছেন তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, পরিবার নিয়ে খেলা দেখার জন্য একাধিক টিকিট চাইলেও কাউন্টার থেকে দেওয়া হয়নি।

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিপিএলের টিকিট বিক্রি। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে একটি চক্র টিকেট বিক্রির ঘোষণা দেয়।

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিপিএলের টিকিট বিক্রি। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

 

আরেকটিতে বলা হয়েছে- ‘বিপিএল এর ৪ তারিখ খেলার টিকেট ৪০টা আছে,,,, দাম ১২০০ টাকা, পার পিস করে

উল্লেখিত একজন ফেসবুক গ্রুপে প্রাপ্ত বিক্রেতার নাম্বারে  ফোনে যোগাযোগ করা হলে সালেহ নামের এক ব্যাক্তি অপরপ্রান্ত থেকে বলেন, ‘যতটা প্রয়োজন ততটা টিকেট দেয়া যাবে। কালকে (বুধবার) যেকোনো সময় বন্দরবাজার ফুটওভার ব্রিজে নিচে এসে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি টিকেট পৌছে দিবেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে সালেহ বলেন, ‘দালালদের কাছ থেকে টিকেট কিনছি।’ এরপর উল্টো প্রশ্ন করেন, আপনিকে? সাংবাদিক পরিচয় দিলে, ফোন কেটে দেন। আর কল রিসিভ করেননি।

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বিপিএলের টিকিট বিক্রি। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

এর আগেই দর্শকদের উপচেপড়া উপস্থিতির আভাস পেয়ে আশঙ্কা করা হচ্ছিল টিকেট কালোবাজারিদের হাতে চলে যাবে। টিকিটপ্রাপ্তি নিয়েও ব্যাকুল ছিলেন সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এই সুযোগে টিকিট কবজায় নেয় কালোবাজারিরা। নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র জানায়, বিপিএল কতৃপক্ষ ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) মঙ্গলবার থেকে টিকেট বিক্রির কথা জানিয়েছিলো। কিন্তু কালোবাজারিদের হাতে টিকেট না দিতে ইউসিবি ব্যাংককে মাত্র ৫শ’ টিকেট দেয়া হয়। এতকম টিকেট বিক্রি করতে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেনা ভেবে ব্যাংক টিকেট নেয়নি।

বিপিএলের টিকেট পেতে সিলেটে জেলা স্টেডিয়ামের সামনে উপচে পড়া দর্শকদের ভিড়। ছবি : এনটিভি।

ইউসিবি ব্যাংক ইউসিবি ব্যাংক শাহজালাল উপশহর ব্রাঞ্চের ম্যানেজার সব্য সাথী গুপ্ত প্রিয়.কমকে বলেন, ‘ইউসিবি ব্যাংক সিলেটের ৭টি শাখার কোনোটিতেই বিসিবি বিপিএল’র কোনো টিকিট দেয়নি। ফলে ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার দর্শকদের কাছে টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকে চারটি বুথে মঙ্গলবার সকালে টিকেট বিক্রি শুরু করলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে মহিলাদের টিকিট সংগ্রহের শুরুতে কোন পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

তবে টিকিট বিক্রি শুরু হলেই অতি উৎসাহী কয়েকজন মহিলাদের জন্য পৃথক লাইন করে টিকিট দেওয়া শুরু করেন। আর এতেই সুযোগ লুফে নেন অনেকেই। রাস্তা থেকে যে যে ভাবে পেরেছেন মহিলাদের ধরে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট নিয়ে গেছেন। বৃদ্ধ মহিলা থেকে শুরু করে ভিখারি কেউ বাদ যাননি তাদের হাত থেকে। তবে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় সাধারণ দর্শকরা কেবল হতাশ চোখে দাঁড়িয়েই এমন দৃশ্য দেখেছেন। এনিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন অনেকে।

এদিকে  গোলাপগঞ্জ থেকে টিকেট কিনতে আসা সাব্বির আহমদ প্রিয়.কমকে বলেন, ‘সারা রাত দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কিনতে পারলাম না। আর ওরা পথ (রাস্তা) থেকে মহিলাদের ধরিয়া আনিয়া (ধরে এনে) টিকিট লইয়া গেলো (নিয়ে গেলো)।’

জানতে চাইলে বিসিবি’র পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল জানান, ‘এটা বিপিএল গভর্নিং বডির যারা টিকেটিং এর দায়িত্বে আছে, এরা জানে। টিকেট এর সাথে অামাদের কোন সম্পর্ক নেই। এর কোন খবর আমরা বলতে পারবো না।’ একপ্রশ্নের জবাবে নাদেল বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি ইউসিবি ব্যাংকের সাথে টেকনিক্যাল কারণে এগরিমেন্ট বাতিল করা হয়। তাদের ইউক্যাশ একটিভ নেই, ইউক্যাশ এর মাধ্যমে টাকা দিতে হয়। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেসবুকসহ অন্য কোথাও কী হবে সেটা বিসিবি’র টিম আছে, তারা দেখবে।’