কেন তারা বাংলাদেশকে ‘এতোটা’ পছন্দ করেন?

ক্রিকেট খেলাধুলা

পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বাংলাদেশ প্রীতির খবর নতুন নয়। ‘কারণে-অকারণে’ পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

অতিথিপরায়ণ জাতি হিসেবে বাঙালি পুরো বিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছে বহু আগেই। তবে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য এ আতিথ্যটা হয়তো একটু বেশিই হয়ে থাকে! সংগঠক, আয়োজকরা এমনটা মনে না করলেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ভাবনা এমনই! বিপিএলের এক ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অন্যান্য পাঁচটি দেশের ক্রিকেটাররা যে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও তাই পান। ওদের জন্য বাড়তি কিছু করার তো প্রয়োজন হয় না।’

বিপিএল ঢাকায় চলার সময়ে শহীদ আফ্রিদি গিয়েছিলেন লালবাগ কেল্লায়। ঢাকা ডায়নামাইটসের এ ক্রিকেটার সেখানে সতীর্থদের সঙ্গে ‘গলি ক্রিকেটে’ অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন পর টেনিস বলে ক্রিকেট খেলে কেমন লাগল তা জানতে চাওয়াও হয় তার কাছে। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ফাঁকে আফ্রিদি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমি সবসময় উপভোগ করি। এটা আমার ‘‘সেকেন্ড হোম।’’ এখানে ক্রিকেট খেলতে আসা উপভোগ করি। সবসময় ভাল সাড়া পাই।’ বলার অপেক্ষা রাখে না বাংলাদেশকে বেশ ভালোবাসেন বলেই নিজের ‘‘সেকেন্ড হোম’’ বলতে দ্বিধা করেননি আফ্রিদি।

জুনায়েদ খান রাইজিংবিডিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন হোটেল র‌্যাডিসনে। সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে চট্টগ্রামের হান্ডি রেস্তোরা থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে আসেন পাকিস্তানি এই বাঁহাতি পেসার। খেয়ে-দেয়ে এসে বললেন, ‘দারুণ মজার খাবার। বাংলাদেশে সব সময় খেয়ে মজা পাই।’ খুলনা টাইটান্সের এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, একা যে খেতে বেরিয়ে গেল, ওর নিরাপত্তা? উত্তরটা দারুণ, ‘ওরা কখনোই বাংলাদেশে নিরাপত্তা চায় না। একা ঘুরে মজা পায়।’

প্রায় প্রতিবছরই বিপিএলে অংশ নেন আরেক পাকিস্তানি সোহেল তানভীর। এবার একটু দেরিতে হলেও দল পেয়েছেন বাঁহাতি এ পেসার। সিলেট সিক্সার্সের জার্সিতে বিপিএল মাতানোর অপেক্ষায় থাকা সোহেল তানভীরও বাংলাদেশে আবারও আসতে পেরে উচ্ছ্বসিত। হোটেল লবিতে সাকিবের সঙ্গে দেখা হতেই চলল দুজনের কথোপকথন, ‘গুড টু বি ব্যাক ইন বাংলাদেশ।’

আজ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টানেননি কেউ। তবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা শেষে রাইজিংবিডি’র সঙ্গে একান্ত আলাপে কথার ঝাঁপি খুলে দেন তানভীর। কেন বাংলাদেশকে এতটা পছন্দ করেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা? ‘এটা দারুণ একটি দেশ। এখানকার মানুষ ক্রিকেট পাগল। সত্যি বলতে আমি এবং সকল পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা এখানে খেলে খুব মজা পাই। বিশেষ করে বিপিএলে। আমাদের অনেক ক্রিকেটার তো ঢাকা লিগেও খেলে। পাকিস্তানে এখন আন্তর্জাতিক খেলা হয় না। আমরা ক্রিকেটটা ওখানে খুব মিস করি। দেখেন না একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলেই দর্শকরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানে ক্রিকেট ফিরছে এটা বেশ ভালো খবর।’

আর কি কোনো কারণ আছে? ‘অবশ্যই আছে। এখনকার মানুষের সাথে পাকিস্তানিদের মিল রয়েছে। মুসলিম প্রধান দেশ, এটাও বড় একটা কারণ। সংস্কৃতির পুরোটাই মিল রয়েছে। দুই দেশের দুই ভাষা, কিন্তু আমরা সবাই সবার কথা বুঝি। আর ক্রিকেটাররাও এখানে এসে খেলে মজা পায়। কারণ এখানকার আয়োজক, সংগঠক সবাই অভিজ্ঞ। ক্রিকেটারদের সম্মান করতে জানে। এখানে এসে কখনোই অনুভব করিনি যে আমি বাড়ির বাইরে। কারণ সবাই মিশুক। খাবার-দাবারও মজাদার।’-বলেছেন সোহেল তানভীর।

আর অর্থ উপার্জন? সেটা নিয়ে কোনো কথাই বললেন না তানভীর। চড়া হাসি দিলেন, সেটাতেই পাওয়া যায় সম্ভাব্য উত্তর!

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রিকেটের যোগসূত্র এতটাই বেশি যে, দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সম্পর্কটাও দারুণ। বিপিএল কিংবা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অবাধ অংশগ্রহণ থাকে। এর বাইরেও দুই দেশের ক্রিকেটাররা বিদেশি লিগে খেলছেন একসঙ্গে। কখনো প্রতিপক্ষ হিসেবে আবার কখনো একই জার্সিতে। ভাষা, সংস্কৃতির আদান-প্রদানে তাই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের খুব কাছে বাংলাদেশ।