কোচ যদি খেলোয়াড় এর বিরুদ্ধে রিপোর্ট জমা দেয়,তাহলে কোচের রিপোর্ট জমা দিবে কে?

ক্রিকেট খেলাধুলা

মুশফিকুর রহিমকে একটা স্থিতিশীল জায়গা থেকে নাড়িয়ে দেওয়া, মাশরাফি বিন মুর্তজাকে টি-টোয়েন্টি থেকে দূরে সরে যেতে চাপ সৃষ্টি করা এবং মুমিনুল হককে প্রায় অকেজো বানিয়ে ফেলা—বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত এগুলোই হাথুরুসিংহের দৃশ্যমান ছাপ।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে কিছু দিতে পারেন না পারেন , নিয়েছেন যে অনেক কিছু সেটা বিসিবি না বুঝলেও দেশের মানুষ বুঝে।

অথচ কী বিস্ময়কর, এসব নিয়ে জবাবদিহির কোনো ধারই ধারেন না তিনি! দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে কোচ সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন শুধু প্রথম টেস্টের আগের দিন। এরপর সাংবাদিকেরা একাধিকবার চেয়েও কোচের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি। দল খারাপ খেলে, আর রাজ্যের প্রশ্নের মুখে পড়েন শুধু অধিনায়ক-খেলোয়াড়েরা। এ রকম সময়ে বড় কোচরা সাধারণত খেলোয়াড়দের তোপের মুখ থেকে বাঁচিয়ে নিজেরাই সংবাদ সম্মেলনের উত্তপ্ত চেয়ারে বসেন। অথচ দলের পারফরম্যান্স খারাপ দেখে হাথুরুসিংহে নিজে থাকছেন নিরাপদ দূরত্বে।

এই সিরিজে যখনই সংবাদ সম্মেলনে হাথুরুসিংহেকে চাওয়া হয়েছে, ম্যানেজার মিনহাজুল আবেদীন একটা কথাই বলেছেন, ‘কোচ কথা বলতে চান না। ’ কিন্তু কোচের বিরুদ্ধে যে এত অভিযোগ, সেসব ব্যাপারে তাঁর ব্যাখ্যাও তো জানা উচিত। অথচ হাথুরুসিংহে ধমকের সুরে বলে দেন, ম্যানেজার অনুমতি দিলেও তিনি সাক্ষাৎকার দেবেন না।

ধরে নেওয়া যাক, এটাও কোচের একটা স্বাধীনতা। কিন্তু সংবাদমাধ্যম কোচকে কাছে না পেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তো পাবে। দলের সাফল্যে কোচদের পিঠ চাপড়ে দিতে কার্পণ্য করে না বিসিবি। এবার তাহলে ব্যর্থতার জবাবদিহি নেবে না কেন?

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা নিয়ে নাকি এবার হাথুরু বেশ কড়া একটা রিপোর্টই জমা দিতে যাচ্ছেন বোর্ডের কাছে!