কোহলিদের বিশাল অংকের খরচ দিচ্ছে পাকিস্তান

ক্রিকেট খেলাধুলা

২০১৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে ভারত। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার কথা ছিল দুই দলের। তবে সেই চুক্তি মানেনি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। ফলে ভারতের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বিবাদ মীমাংসাকারী কমিটির কাছে মামলা করে পাকিস্তান।

আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে বিসিসিআইয়ের কাছে ৭ কোটি মার্কিন ডলার দাবি করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। মামলার শুনাতিতে বিশ্বের প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ড জানায়, তাদের কোনো দোষ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলো খেলা সম্ভব হচ্ছে না টিম ইন্ডিয়ার।

যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলায় হেরে যায় পিসিবি। এ মামলা বাবদ ভারতের খরচ হয়েছে ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। নিয়মানুযায়ী, বিসিসিআইয়ের হওয়া খরচটা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে। সব মিলিয়ে বড় অংকের খরচ দিচ্ছে পিসিবি।

পাক বোর্ড সভাপতি এহসান মানি জানান, আইসিসির কমিটি আমাদের মামলাটি আমলে নিয়েছিল। এ কারণেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে ক্ষতিপূরণটা দিতে হবে।

২০০৭-২০০৮ মৌসুমে সবশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে ভারত-পাকিস্তান। সেবার পাকিস্তানের খেলতে গিয়েছিল ভারত। সেই সফরে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জেতে মেন ইন ব্লুরা। ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজও ৩-২ ব্যবধানে দেশে নিয়ে আসে সফরকারীরা।

এরপর ২০০৯ সালে লাহোরে টিম শ্রীলংকার ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ হয়। সঙ্গত কারণে সেখানে খেলতে যায়নি ভারত। পরের সময়ে সন্ত্রাস কবলিত দেশটির হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত সংযুক্ত আরব আমিরাতেও খেলতে যায়নি কোহলিরা।

এর মধ্যে ২০১২-১৩ মৌসুমে ভারতে সফরে যায় পাকিস্তান। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে সফরকারীরা। দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র হয়। সেটিই ছিল রাজনৈতিক চিরবৈরি প্রতিবেশি দেশে পাকিস্তানের শেষ সফর।

পরে আর পাক-ভারত দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয়নি। পিসিবি রাজি থাকলেও মূলত বিসিসিআইয়ের অপারগতায় তা সম্ভব হয়নি। গেল ছয় বছরে শুধু আইসিসি আয়োজিত বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোতেই মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। আসন্ন বিশ্বকাপে হওয়ার কথা আছে দুই চিরশত্রুর ব্যাট-বলের যুদ্ধ। তবে কাশ্মীর হামলায় সেটি নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।