কোহলি বনাম টেন্ডুলকার, পন্টিং, সাঙ্গা—কী বলছে পরিসংখ্যান?

ক্রিকেট খেলাধুলা

কেউ পারলে বিরাট কোহলিই পারবে। কথাটা এই সেদিন বললেন শোয়েব আখতার। শচীন টেন্ডুলকারের ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে শোয়েব যখন এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছেন কোহলির, সঙ্গে পাদটীকাও জুড়ে দিচ্ছেন এই বলে, এখনই নাকি টেন্ডুলকার-পন্টিংদের সঙ্গে তুলনা করার সময় আসেনি।

কিন্তু যদি করাই হয়, কী ফলাফল আসে? কোহলির সঙ্গে আধুনিক ক্রিকেটের তিন গ্রেট ব্যাটসম্যান টেন্ডুলকার, পন্টিং, সাঙ্গাকারার তুলনা করার মূল সমস্যাটা হলো, শেষ তিনজনের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। ফলে পরিসংখ্যানেও তুলনাটা যথার্থ হবে না। কিন্তু একভাবে তুলনা করাই যায়। কোহলির ক্যারিয়ারের ঠিক এই মুহূর্তে বাকি তিনজন কে কোথায় ছিলেন?

কোহলির ক্যারিয়ারে ৫০তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি পূর্ণ হলো। বাকিরা ৫০তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সময় কে কোথায় ছিলেন, সেটি দেখে নেওয়া যাক:

সামগ্রিক ক্যারিয়ার
কোহলি ৫০তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ৩১৮ ম্যাচে বা ৩৪৮ ইনিংসে। এত কম ইনিংস বা ম্যাচে আর কেউ ৫০তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেননি। বয়সের দিক দিয়ে কেবল টেন্ডুলকার এগিয়ে আছেন। সেটি টেন্ডুলকার ১৬ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বলে, আর কোহলির ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২১ বছর বয়সে।
৫০তম সেঞ্চুরি পেতে টেন্ডুলকারকে খেলতে হয়েছে কোহলির চেয়ে ২৪ ইনিংস বেশি। পন্টিংকে ৭১ আর সাঙ্গাকে ২৪০ ইনিংস বেশি খেলতে হয়েছে ৫০ নম্বর আন্তর্জাতিক শতরানটি পেতে। তিনজনই বেশি ইনিংস খেলেছেন বলে ৫০তম সেঞ্চুরির সময় তিনজনের রান সে তুলনাতেই বেশি হয়েছে কোহলির চেয়ে। ৫০তম সেঞ্চুরিতে দাঁড়িয়ে বাকি তিনজনের রান কোহলির চেয়ে বেশি হলেও এটি তাঁর জন্য পিছিয়ে থাকার কোনো চিহ্ন নয়; বরং এগিয়ে থাকারই প্রমাণ।

টেস্টে

  ম্যাচ ইনিংস রান সেঞ্চুরি সাল বয়স
বিরাট কোহলি ৩১৮ ৩৪৮ ১৫,৭৪৯ ৫০ ২০১৭ ২৯ বছর ১৫ দিন
শচীন টেন্ডুলকার ৩৩৩ ৩৭২ ১৫,৯৫০ ৫০ ২০০০ ২৭ বছর ২১৫ দিন
রিকি পন্টিং ৩৫৬ ৪১৯ ১৭,৮৬৯ ৫০ ২০০৬ ৩১ বছর ৯৮ দিন
কুমার সাঙ্গাকারা ৫৩১ ৫৮৮ ২৩,৯৯৪ ৫০ ২০১৪ ৩৬ বছর ১১৬ দিন

 

কোহলির ৫০ সেঞ্চুরির ১৮টি টেস্টে। আসলে ওয়ানডের তুলনায় টেস্টে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তেমন সাফল্য পাচ্ছিলেন না। কিন্তু দ্রুতই কোহলি টেস্টেও অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটতে শুরু করেন। টেন্ডুলকারের প্রথম ৫০ সেঞ্চুরির আধাআধি টেস্ট-ওয়ানডেতে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ওয়ানডেতে দুটি সেঞ্চুরি বেশি করেছিলেন। টেস্টে ছিল ২৪ সেঞ্চুরি। কিন্তু পন্টিং ও সাঙ্গা দুজনই ৫০তম সেঞ্চুরির সময় টেস্টেই বেশির ভাগ সেঞ্চুরি তুলেছিলেন। পন্টিংয়ের টেস্ট সেঞ্চুরি তখন ছিল ৩০টি, সাঙ্গার ৩৩।
এখান থেকে মনে হতে পারে, কোহলি হয়তো এখানে এই তিনজনের চেয়ে পিছিয়ে। কিন্তু ইনিংস সংখ্যার দিকে তাকালে বুঝবেন, কোহলি টেস্টে তিনজনের থেকে পিছিয়ে আছেন এমন বলার সুযোগ নেই। বরং বাকি তিনজনের সমান ইনিংস খেললে কোহলির টেস্ট সেঞ্চুরির সংখ্যা এই তিনজনের চেয়েও যে সে সময় বেশি থাকবে না, কে নিশ্চিত করে বলতে পারে? একইভাবে রানটাও ইনিংসের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে নিশ্চয়ই।

ওয়ানডেতে

  ম্যাচ ইনিংস রান সেঞ্চুরি সাল বয়স
বিরাট কোহলি ৬১ ১০৩ ৪,৭৬২ ১৮ ২০১৭ ২৯ বছর ১৫ দিন
শচীন টেন্ডুলকার ৭৯ ১২৫ ৬,৪১৬ ২৪ ২০০০ ২৭ বছর ২১৫ দিন
রিকি পন্টিং ১০২ ১৭০ ৮,৫৪৭ ৩০ ২০০৬ ৩১ বছর ৯৮ দিন
কুমার সাঙ্গাকারা ১১৭ ১৯৯ ১০,৪৩১ ৩৩ ২০১৩ ৩৫ বছর ১৪১ দিন

তিন গ্রেটের তুলনায় কোহলি কতটা দ্রুতগতিতে ছুটছেন, তা সবচেয়ে ভালো বোঝা যায় আসলে ওয়ানডেতে। ৫০তম সেঞ্চুরির সময় টেন্ডুলকার ও পন্টিং দুজনেরই ওয়ানডেতে রান ছিল ৯ হাজারের ঘরে। কোহলিরও তা-ই। অথচ টেন্ডুলকার ও পন্টিং যেখানে যথাক্রমে ২৪৭ ও ২৪৫ ইনিংসে এই কীর্তি ছুঁয়েছিলেন, কোহলির লেগেছে মাত্র ১৯৪ ইনিংস। সাঙ্গার সঙ্গে এখানে ব্যবধান তো আরও বেশি। ৩৪১ ইনিংস লেগেছিল লঙ্কান কিংবদন্তির!

শেষ কথা
কোহলির গ্রাফটা নিশ্চিতভাবেই তাই তিনজনের চেয়ে বেশ ওপরে দিয়েই এগোচ্ছে। কিন্তু তিনজনই তাঁদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একই রকম দাপট দিয়ে খেলেছেন। সাঙ্গা তো ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় আরও বেশি উজ্জ্বল ছিলেন। ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করে অবসরে গেছেন। আর টেস্টে অবসর নেওয়ার পরও ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য সব কীর্তি গড়ে লঙ্কান সমর্থকদের আক্ষেপ বাড়িয়েছেন। কোহলি আরও ৬-৭ বছর খেলবেন নিশ্চয়ই। বাকিটা পথ তিনি কত দূরে যান, সেটাই শেষে ঠিক করে দেবে ইতিহাসে তাঁর স্থান।