ক্রিকেট ছেড়ে যুদ্ধে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা!

ক্রিকেট খেলাধুলা

যুদ্ধের এখন আর ক্ষেত্রের অভাব নেই। ঢাল-তলোয়ারের যুগ তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। কামান-বন্দুক, বোমা, পারমাণবিক যুদ্ধে তো চলমান। কাশ্মীর যুদ্ধ নিয়ে এখন মহা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা!

টনে টনে বোমা ফেলে শক্তিমানরা ধ্বংস করে দিচ্ছে নীরিহ, অসহায় দেশগুলোকে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঐতিহাসিক এবং ভু-রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে অনেকগুলো দেশ নিয়ে দশকের পর দশক যুদ্ধ বিরাজমান। স্বাধীনতাকামীরা অকাতরে প্রাণ আর রক্ত বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছে শক্তিমানদের বুলেট-বোমার সামনে। তেমনি কাশ্মীর-ফিলিস্তিন অন্যতম।

ভারত অধিকৃত জন্মু-কাশ্মীরের স্বাধীনতার প্রশ্নে যুদ্ধ চলছে সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই। ভারতীয় সেনাবাহিনী গুলি বর্ষণ করে অকাতরে মারছে নিরীহ মানুষগুলোকে। ভারতীয় বাহিনীর আক্রমণে কয়েকদিন আগেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ স্বাধীনতাকামী। এসব দেখে প্রাণ কেঁদেছে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বুম বুম খ্যাত শহিদ আফ্রিদির। তিনি কাশ্মীরের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধের জন্য বেছে নিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারকে।

সেখানেই তিনি লিখেছেন, ‘ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরে ভয়াবহ, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার কণ্ঠস্বর চাপা দিতে দমনমূলক নীতিতে নিরীহদের গুলি করে মারা হচ্ছে। অবাক হয়ে ভাবি, কোথায় গেল রাষ্ট্রসংঘ (জাতিসংঘ), অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি! কেন এই রক্তপাত থামাতে তারা সচেষ্ট নয়?’

আফ্রিদির এই টুইটের পরই যেন রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করে বসেছে ভারতীয়রা। বিশেষ করে ভারতের ক্রিকেটাররা। সোশ্যাল মিডিয়াকেই তারা বেছে নিয়েছে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে। কেউ কেউ বেছে নিয়েছেন মিডিয়াকে। গৌতম গম্ভীর প্রথমে প্রতিবাদ জানান। টুইটারে পাল্টা লিখে দেন, ‘জাতিসংঘ (ইউএন) এবং কাশ্মীর নিয়ে আফ্রিদির টুইটের প্রতিক্রিয়া জানতে অনেক মিডিয়া ফোন করেছিল আমাকে। কী আর বলা যায়? তার মানসিক বিকারগ্রস্তরা ইউএন (জাতিসংঘ)-এর মানে ‘আন্ডার নাইন্টিন’ই বোঝেন। এ নিয়ে মিডিয়ার মাথাব্যথা করার দরকার নেই। নো বলে আউট করার উদযাপনে মেতেছেন আফ্রিদি।’

গম্ভীরের সঙ্গে আফ্রিদির খুব একটা ভালো সম্পর্ক নেই। ভালো সম্পর্ক বিরাট কোহলির সঙ্গে। আফ্রিদি তো কোহলি বলতেই যেন অজ্ঞান। যে কারণে, দু’জনের মধ্যে বেশ ভাল বন্ধুত্বও রয়েছে। সেই বন্ধুত্বের জেরেই তো গত বছর আফ্রিদির চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের জন্য নিজের এবং টিম ইন্ডিয়ার সতীর্থদের জার্সি ও ব্যাট উপহার দিয়েছিলেন বিরাট।

কিন্তু ইস্যুটা যখন জাতীয় স্বার্থের, তখন কাশ্মীর নিয়ে সাবেক পাক অধিনায়কের টুইটের বিরোধীতা শোনা গেল বিরাট কোহলির মুখেও। বেঙ্গালুরুতে আইপিএলে অনুশীলনের ফাঁকে বিরাট কোহলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন ভারতীয় হিসেবে আমি সবসময় দেশের ভালো চাইবো। দেশের স্বার্থে পাশে দাঁড়াব। যদি কেউ এর বিরোধীতা করে, তবে তাকে সমর্থন করার প্রশ্ন নেই।’

একই সঙ্গে বিরাট কোহলি আরও জানান, ‘পুরো বিষয়টি না জেনে আমি বিশেষ কোনও মন্তব্য করতে চাই না। তবে দেশের প্রতি আমার সমর্থন সবসময় থাকবে।’

কোহলি-গম্ভীরের মতো কাশ্মীর নিয়ে আফ্রিদিকে একহাত নিলেন ভারতের আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার, বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান সুরেশ রায়নাও। তিনি আশ্রয় নিয়েছেন টুইটারে। সেখানে রায়না লেখেন, ‘কাশ্মীর ভারতের অবিছেদ্য অংশ। এটা ভারতেরই থাকবে। আমাদের পূর্ব পুরুষরা এখানেই জন্মেছেন। আমি আশা করব, আফ্রিদি ভাই পাকিস্তান আর্মিকে আমাদের কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করতে বলবেন। আমরা শান্তি চাই।’

ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব তো খুবই মারমুখি হয়ে উঠেছেন। অনুজ গম্ভীর, কোহলি, রায়নাদের সমর্থন জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘কে (আফ্রিদি) সে? আমরা কেন তাকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছি? আমাদের তো নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে এতটা গুরুত্ব দেয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়।

কাশ্মীর ইস্যুতে আফ্রিদির টুইটের জবাবে কথা বলেছেন হিন্দি ও উর্দুর বিখ্যাত কবি এবং প্রখ্যাত গীতিকার জাভেদ আখতার। টুইটে তিনি লেখেন, ‘মিস্টার আফ্রিদি যদি আপনি একটি শান্তিপূর্ণ কাশ্মীর দেখতে চান তাহলে অনুগ্রহ করে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীদের বলুন বিদ্বেষ না ছড়াতে। পাকিস্তানের আর্মিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দিতে মানা করুন। পাক আর্মি সন্ত্রাসবাদী ট্রেনিং ক্যাম্পগুলো বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধানে খুবই সাহায্য করা হবে।’