গবেষণা খাতে মনোযোগ বেড়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা

দেশের ৮৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গবেষণা খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে আগের তুলনায় বেশি মনোযোগী হয়েছে। এজন্য বেড়েছে ব্যয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৬’তে এ তথ্য বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এখনও প্রকাশ না হলেও ইউজিসি সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

গবেষণা খাতে আগের তুলনায় আরও বেশি মনোযোগী হওয়া, বরাদ্দ ও ব্যয় বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান। গবেষণা খাতকেই উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের অন্যতম সূচক মনে করেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে তার ভাষ্য, ‘আগের চেয়ে এই খাত সমৃদ্ধিতে মনোযোগ আরও বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচক। বরাদ্দও বেশি রাখা হচ্ছে, ফলে ব্যয়ও বেড়েছে।’

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয় কম-বেশি গবেষণা করেছিল ও বরাদ্দ রেখেছিল। ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগী হয়েছে। ফলে গবেষণায় মনোযোগী হওয়া  বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪’তে।

ইউজিসি’র ২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই বছর ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে ব্যয় করেছিল ৮০ কোটি ৮১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। যার গড় ব্যয় ছিল ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ওই বছর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছিল। তাদের ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

এদিকে ইউজিসি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের চেয়ে গত বছর ৬৪টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। ২০১৬ সালে এই খাতে ব্যয় হয়েছে ৯৩ কোটি ৩৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। যার গড় ব্যয় ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। ২০১৬ সালেও গবেষণা খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। অঙ্কটা ছিল ৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে ইউজিসি’র ২০১৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়— ২০১৫ সালের তুলনায় এর পরের বছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রতি মনোযোগ বেড়েছে। একই খাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমাগত বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে। আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে বেশি মনোযোগী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় প্রতিবেদনে।