গোল উৎসব করে নকআউটে রিয়াল

খেলাধুলা প্রধান খবর ফুটবল

প্রতিপক্ষ আপোয়েল নিকোশিয়া, শক্তির বিচারে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে সাইপ্রাসের দলটি। তা হোক, স্প্যানিশ জায়ান্টদের জন্য ম্যাচটি ছিল গত তিন ম্যাচের দুঃসহ অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার উপলক্ষ। মঙ্গলবার সেই উপলক্ষ পেয়ে সবটুকু সামর্থ্য নিংড়ে দিলো জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। নিকোশিয়ার মাঠে গোল উৎসব করে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর টিকিট কাটলো চ্যাম্পিয়নরা।

চ্যাম্পিয়নস লিগের আগের দুই ম্যাচে টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে ড্রয়ের পর হেরে যায় রিয়াল। এই সপ্তাহে লা লিগাতেও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে হতাশার ড্র করে তারা। অবশেষে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও করিম বেনজিমার জোড়া গোলে নিকোশিয়ার মাঠে ৬-০ গোলের উড়ন্ত জয় পেয়েছে রিয়াল, ফিরে পেয়েছে হারানো আত্মবিশ্বাসও।

শুরুতে রিয়ালকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভুল পাস ও সতীর্থদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল লুকা মোডরিচের ২৩ মিনিটের গোলে। রোনালদোর ক্রস স্বাগতিক ডিফেন্ডার ব্যাক পাসে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় থাকা ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে এগিয়ে দেন অতিথিদের। এরপর যেন অসহায় সাইপ্রাসের ক্লাব।

বিরতির আগের ৬ মিনিটে স্বাগতিকদের জালে তিনবার বল পাঠিয়েছে রিয়াল। ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে টনি ক্রুসের পাস সহজে পায়ে নিয়ে ডিবক্সের প্রান্ত থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেনজিমা। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই মৌসুমে এটি ছিল ফরাসি তারকার প্রথম গোল। দুই মিনিট পর কর্নার থেকে ভারানের হেডে গোলমুখের সামনে থেকে পায়ের আলতো ছোঁয়ায় ৩-০ করেন নাচো। শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে রোনালদো গোল করার সুযোগ পেয়েও বেনজিমাকে পাস দেন। হতাশ করেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।

প্রথমার্ধে সতীর্থদের গোল দেখতে দেখতে ক্লান্ত রোনালদো বিরতির পর চেনা রূপে ফেরেন। ৪৯ মিনিটে মার্সেলোর চমৎকার ক্রসে লাফিয়ে পড়ে লক্ষ্যভেদী হেড করেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। ৫ মিনিট পর আবারও গোল করেন ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়, এবার তার গোলে সহায়তা করেন বেনজিমা। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই মৌসুমে রোনালদোর গোল দাঁড়ালো ৫ ম্যাচে ৮। আর এই বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ১৮ গোল করলেন ‘সিআরসেভেন’।

৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের বাধা পেরোলো রিয়াল। তাদের ‘এইচ’ গ্রুপের সঙ্গী টটেনহাম পিছিয়ে পড়েও জিতেছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে। ৩১ মিনিটে অবেমেয়াংয়ের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানরা। হ্যারি কেন ৪৯ মিনিটে গোল করে স্পারদের সমতায় ফেরান। সন হিউং-মিনের ৭৬ মিনিটের গোলে জয় নিশ্চিত হয় ইংলিশ জায়ান্টদের। আগের ম্যাচেই নকআউট নিশ্চিত করা টটেনহাম ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষেই থাকলো।

প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউটে ওঠার আনন্দ উদযাপন করছে বেসিকতাস

‘জি’ গ্রুপে পোর্তোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে উঠেছে বেসিকতাস। প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল তুরস্কের ক্লাবটি। ২৯ মিনিটে ফিলিপের প্রথম শটে গোল পায় পোর্তো। তবে বিরতিতে যাওয়া চার মিনিট আগে সমতা ফেরায় বেসিকতাস। ৪১ মিনিটে গোলটি করেন অ্যান্ডারসন তালিসকা। দ্বিতীয়ার্ধে আর কেউ গোলের দেখা পায়নি। তাতে অবশ্য বেসিকতাসের নকআউটে যেতে সমস্যা হয়নি। ৫ ম্যাচে ৩ জয় ও ২ ড্রয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে সবার শীর্ষে তারা।

পোর্তোর সমান ৭ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোর আশা ধরে রেখেছে লিপজিগ। এএস মোনাকোকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টেবিলের তিন নম্বরেই আছে তারা।

সেভিয়ার মাঠে রবার্তো ফিরমিনিয়োর জোড়া গোলে একপেশে জয়ের আভাস দিয়েছিল লিভারপুল। আধঘণ্টার মধ্যে তিন গোল করে তারা। কিন্তু বিরতির পর অদম্য পারফরম্যান্সে অল রেডদের জয় কেড়ে নেয় সেভিয়া। বেন ইয়েডারের জোড়া গোলের পর ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে পিজারোর গোলে সমতা ফেরায় স্পানিশ ক্লাবটি। ৩-৩ গোলের নাটকীয় ড্রয়ে পয়েন্ট হাতছাড়া করে লিভারপুল।

এই ড্রয়ে লিভারপুলের নকআউটে যাওয়ার অপেক্ষা শেষ ম্যাচে গিয়ে ঠেকলো। আগামী ৭ ডিসেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা স্বাগত জানাবে স্পার্তাক মস্কোকে। ৫ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের শীর্ষেই থাকলো লিভারপুল। ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সেভিয়া। স্পার্তাক মস্কো ১-১ গোলে এনকে মারিবোরের সঙ্গে ড্র করে করেছে। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা তিন নম্বরে থেকে শেষ ষোলোর আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।

শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যানসিটির জয়

‘এফ’ গ্রুপে শতভাগ সফলতা ধরে রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ফেনুর্দের বিপক্ষে তারা পঞ্চম ম্যাচটি জিতেছে ১-০ গোলে। গোলের দেখা পেতে তাদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ৮৮ মিনিটে দলের একমাত্র গোলটি করেন রহিম স্টারলিং। ৫ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা খেলবে নকআউট পর্বে।

গ্রুপের আরেক ম্যাচে শাখতার দোনেৎস্ককে হারিয়ে নকআউটে খেলার স্বপ্ন ধরে রেখেছে নাপোলি। ৩-০ গোলে জিতেছে ইতালিয়ান ক্লাব। ৯ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে শাখতার, আর তাদের চেয়ে ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে নাপোলি।