‘ঘরের ছেলে’ তামিম যখন ‘পরের ছেলে’!

ক্রিকেট খেলাধুলা

বাঁহাতি ওপেনার প্রথমে নিশ্চিত হতে চাইলেন, সবাই ঠিকঠাকমতো দাওয়াত পেয়েছেন কি না। আগামী রোববার মেজবানের আয়োজন করেছে চট্টগ্রামের বিখ্যাত খান পরিবার।

সেই খান পরিবারের অন্যতম সদস্য তামিম এবার চট্টগ্রামের হয়ে বিপিএল খেলছেন না। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অধিনায়ক। গত চার বিপিএলের তিনটিতেই ‘ঘরের ছেলে’ ঘরেই ছিলেন। মানে, চট্টগ্রামের হয়ে খেলেছেন। শুধু ২০১৩ বিপিএলে খেলেছিলেন দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে।

‘লোকাল হিরো’ তামিম তাই এবার চট্টগ্রামবাসীর কাছে কতটা ‘খলনায়ক’—সেটি অবশ্য আপাতত দেখার উপায় নেই। নিজেদের উঠানে চিটাগং ভাইকিংস যে চারটি ম্যাচ খেলবে, তার একটিতেও প্রতিপক্ষ হিসেবে নেই কুমিল্লা। তামিমের কাছে এটা বেশ স্বস্তির, ‘খুবই ভাগ্যবান, চিটাগংয়ের বিপক্ষে (এখানে) আমার খেলতে হচ্ছে না! ওদের সঙ্গে খেলা শেষ। কারও যদি রাগ থাকে, সেটা দেখতে হবে না! তবে দিন শেষে আমি যেহেতু এখানকার ঘরের ছেলে, যে দলেই খেলি না কেন, চট্টগ্রামের মানুষের কাছে সমর্থন পাব। সব সময়ই এটাই আমি আশা করি।’

কিন্তু সিলেটে যে ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে সিলেটেরই ছেলে অলক কাপালি-আবু জায়েদদের! বিপিএলে তাঁদের পক্ষে গলা ফাটায়নি সিলেটের দর্শকেরা। বরং গ্যালারিতে কান পাতলেই শোনা গেছে নাসির-সাব্বিরদের জয়ধ্বনি। চট্টগ্রামেও এমন অভিজ্ঞতা হতে পারে, সেটি অজানা নয় তামিমের, ‘আমি এতে কিছু মনে করি না। বাংলাদেশে যখন “হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে”র ব্যাপারটা এসে যাবে, তখন বিপিএলের মান অন্য রকম হয়ে যাবে। তখন চট্টগ্রামের মানুষ শুধু চিটাগংকেই সমর্থন করবে। ঢাকার মানুষ শুধু ঢাকাকে সমর্থন করবে। এখনো এটা ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাস’ (মিলেমিশে একাকার)। “হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে” পদ্ধতি চলে এলে, যেমনটা আইপিএলে দেখি, তখন বিপিএলের আরও লাভ হবে।’
দর্শকদের সমর্থন পাবেন কিংবা পাবেন না, একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সেটি নিয়ে পড়ে থাকলে কি আর চলে! তামিমও এ নিয়ে পড়ে নেই। তাঁর ভাবনায় শুধুই দল। ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে কুমিল্লা। চট্টগ্রামেই শেষ চার নিশ্চিত করে ফেলতে চান তামিম।
তামিমের কুমিল্লা যদি চট্টগ্রামে শেষ চার নিশ্চিত করে, আর এখানেই যদি বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা চিটাগংয়ের, চট্টলাবাসীর অনুভূতিটা কী হবে, একবার ভাবুন! অবশ্য সেই ভাবনা ভাবতে তামিমের বয়েই গেছে!