‘চলে যাও হাথুরু উই ডোন্ট ডিজার্ব ইউ’!

ক্রিকেট খেলাধুলা

এরকমই একেরপর এক হারে দেশ যখন তুষ্ট তখনই রিজাইন নিলেন তৎকালীন কোচ শেন জার্গেনসন।

আর তখনই বিসিবি খুঁজা শুরু করে নতুন কোচ আর খুঁজে বের করে আনেন শ্রীলংকান চন্দিকা হাতুরুসিংহকে। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লিগ বিগব্যাশের ফ্রাঞ্চাইজি সিডনি সিক্সার্সের কোচের পদ থেকে রিজাইন নিয়ে উড়াল দেন বাংলাদেশে। আর সাথে করে নিয়ে আসেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সুদিন। ২০১৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেন জিততে ভুলে যাওয়া বাংলাদেশ দলের।

Advertisement – PJM

যদিও তার শুরুটা ছিল যাচ্ছেতাই। শুরুতেই তার প্রথম এসাইনমেন্ট ছিল ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজ। সেবার বাংলাদেশের করুণ অবস্থা দেখে বাংলাদেশের সাথে সিরিজের জন্য পূর্ণশক্তির দল পাঠায়নি ভারত। পাঠিয়েছিল দ্বিতীয় সারির দল। আসা ছিল এই ভারতের বিপক্ষে জয় পাবে বাংলাদেশ কিন্তু তা আর হল কই প্রথম ম্যাচে সহজ হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ১০৫ রানে অল আউট করেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। অল আউট হয় ৫৮ রানে। সেদিন মাঠে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের এমন করুণ হার দেখতে হয়েছিল স্বচক্ষে। দলের এমন অবস্থায় সমলোচনায় বিদ্ধ পুরোদল । সাথে নতুন কোচ হাতুরুও।

কিন্তু হার মানেননি হাতুরু তিনি যে হার মানার মানুষ নন। কিন্তু তার দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও যে দলের অবস্থা ছিল একই হারতে হয়েছিল সব ম্যাচ।

দলের এমন অবস্থায় অতি ডিফেন্সিভ মুশফিকের বদলে এমন একজনকে অধিনায়ক হিসেবে চেয়েছিলেন হাতুরু যে কিনা জন্মথেকেই একজন লিডার হওয়ার প্রতিভা নিয়ে জন্মেছে যার ভিতর দাদাগিরি করার মানসিকতা রয়েছে এবং যাকে দলের সবাই মানে। আর এমতাবস্থায় বিসিবি অধিনায়ক করেন ১৬ কোটি মানুষের প্রাণ মাশরাফিকে।

আর এর পরের গল্পটা আমার আপনার সবারই জানা। এতে যে শুধুই রয়েছে সাফল্যের রুপকথা। ২০১৫ বিশ্বকাপে মাহমুদুল্লাহর দুই মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিতে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা বদ। ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রিয়াদ-সাকিবের সেই মহাকাব্যিক পার্টনারশিপে সেমিফাইনাল খেলা।

হ্যা মানি এসবই হয়েছে খেলোয়াড়দের অসাধারণ পারফর্মেন্সে কিন্তু এতে কি কোচের কোন হাত নেই?? কিভাবে জিততে ভুলে যাওয়া একটি দল অজেয় হয়ে গেল?? কিভাবে ২৮ এভারেজের তামিমের এভারেজ গত তিনবছরে ৫৫ হয়ে গেল?? কিভাবে ২৬ এভারেজের মুশফিকের এভারেজ হঠাৎই ৪৫ হয়ে গেল?? কিভাবে ৭০ স্ট্রাইকরেটের আনামুলের জায়াগায় ৯৭ স্ট্রাইকরেটের সৌম্য উঠে এল?? কিভাবে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ উঠে এলো এসবে কি কোচের কোন হাত নেই?? অবশ্যই আছে কিভাবে আছে শুনেন…

ক্রিকেটে ফিটনেস একটি বড় বিষয়ে। আপনার ফিটনেস না থাকলে আপনি যতই ট্যালেন্টেড হোন সফল হবেন না। আর হাতুরু কোচ হওয়ার পরই সবার আগে নজর দেন প্লেয়ারদের ফিটনেসে আর এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন অনেক কড়া। আর সে কারনেই মোটা ভূড়িওয়ালা তামিমের ভূড়ি কমে হয়ে যান পুরা ফিট ফলাফল এভারেজ ২৮ থেকে এখন লাস্ট তিন বছরে ৫৫। একই কথা মুশফিক আর মাহমুদুল্লাহর ক্ষেত্রেও তাদের আগের ফিটনেস আর এখনের ফিটনেস দেখলেই বুঝবেন।

আর আপনার আমার সবার প্রিয় মুস্তাফিজের আগমনের পিছনেও ছিল তার হাত। সে বলেছিল যে এমন কোন বোলার লাগবে যে ভালো স্লোয়ার দিতে পারে তখন জাতীয় দলের একজন তাকে মুস্তাফিজের কথা তারপর নেটে তার বল দেখে তাকে দলে নেন ম্যাশ আর এর পরের গল্পটা আপনার আমার সবার জানা।

তার আরো কিছু সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল মাত্রাতিরিক্ত ডট দেয়া আনামুলকে দল থেকে বাদ দেওয়া, ফিটনেসবিহিন আব্দুর রাজ্জাককে বাদ দেওয়া, পিপলস চয়েজ ফর্মবিহিন নাসিরকে বাদ দেওয়া। আর ইদানিং ১০ বছর ধরে টি-টুয়েন্টি খেলে ২০ এভারেজে আর ১১৫ স্ট্রাইকরেটের তামিম আর মুশফিককে টি-টুয়েন্টি দল থেকে বাদ দেওয়ার চিন্তা করা, কিপিং এ একের পর এক ক্যাচ ফেলা মুশফিককে টেস্ট কিপিং থেকে সরানো। আর এইসব কারনেই তিনি হয়ে উঠেন দেশের ক্রিকেট ফ্যান আর কিছু ক্রিকেটারের কাছে হিরো থেকে ভিলেন। কিছুদিন ধরেই শুনছি দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের সাথে তার নাকি সম্পর্ক ভালো যাচ্ছেনা। সাউথ আফ্রিকায় তামিম নাকি তার দিকে ব্যাট ছুড়ে মেরেছিলেন। মুশফিকের সংবাদ সম্মেলনে কোচের সমালোচনা করা। তবে কি এইসব কারনেই পদত্যাগ করলেন হাতুরু???

যদি ৫০+ টি-টুয়েন্টি খেলে ২০ এভারেজ আর ১১৫ স্ট্রাইকরেটের একটা প্লেয়ারকে বাদ দিতে চাওয়া ভুল হয়। যদি প্রতি ম্যাচেই প্রায় ক্যাচ ফেলে দেয়া একজনকে কিপিং থেকে সরিয়ে দেয়া ভুল হয়। যদি জিততে ভুলে যাওয়া একটা দলকে ক্রিকেট পরাশক্তিতে পরিণত করা ভুল হয়। যদি ঘরের মাঠে একটা দলকে অপরাজেও বানানো ভুল হয় তাহলে বলবো ‘তুমি চলে যাও হাতুরু উই ডোন্ট ডিজার্ব ইউ”।