ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে মুসলিম বাবার দৃষ্টান্ত স্থাপন! (ভিডিও)

আন্তর্জাতিক ইসলাম ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ঘটনা, কিছুক্ষণের মধ্যেই আদালতের বিচারক একটি খুনের মামলার রায় দেবেন। খুনটি হয়েছিল গত প্রায় ২ বছর আগে। আলেক্সান্ডার রেলফোর্ড ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সালাহ উদ্দিন নামের এক যুবককে হত্যা করে। পিজা হাটের কর্মচারী ২২ বছর বয়সী নিরীহ সালাহ উদ্দিন তখন একটি অর্ডার ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলেন।

সালাহ উদ্দিনের বাবা আব্দুল মুনিম আদালতে বসে ছিলেন। এসময় বিচারের রায় শোনাতে খুনি আলেক্সান্ডার রেলফোর্ডকে কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঠিক তখনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আব্দুল মুনিম।

সোজা হেঁটে গিয়ে আলেক্সান্ডারকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন মুনিম। সালাহ উদ্দিনের বাবা ৬৬ বছর বয়সী মুনিম খুনিকে এটাও বললেন, তোমাকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।

আদালতে উপস্থিত সবাই তখন বিস্ময়ে অভিভূত। হতবাক বিচারকও! বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিহত ছেলের বাবা জানালেন, ‘ইসলাম ধর্ম উদার হওয়ার শিক্ষা দেয়। প্রতিহিংসা নয় বরং ক্ষমাই ইসলামের অন্যতম মূল নীতি। আমার ছেলের খুনিকে তাই আমি ক্ষমা করে দিলাম।’

আদালত আলেক্সান্ডারকে ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এরপরও আদালতে সালাউদ্দিনের বাবার কথায় খুনির চোখে তখন পানি! আদালতে উপস্থিত অনেকের চোখও তখন ছলছল করছে।

আদালত মুলতবি হলে আলেক্সান্ডার আব্দুল মুনিমের দু’হাত ধরে কৃতকর্মের জন্য কাঁদতে কাঁদতে মাফ চান। দু’পক্ষের পরিবারই তখন মুখোমুখি.. একপক্ষ কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আর অপর পক্ষ হত্যার অপরাধকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে স্থাপন করেছেন অন্যন্য দৃষ্টান্তের।

আলেক্সান্ডার কাঁদতে কাঁদতে আব্দুল মুনিমকে জানান, যে ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে তিনি সালাহ উদ্দিনকে হত্যা করেন বাকি জীবন সেই ইসলামকেই অবলম্বন করে তিনি বেঁচে থাকবেন। কারাগারেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন বলেও মুনিমকে জানান আলেক্সান্ডার।

সে সময় সালাহ্‌ উদ্দিনের বাবা আলেক্সান্ডারকে বলছিলেন, ‘চিন্তা করো না। ইসলাম ধর্মগ্রহণের মধ্য দিয়ে তুমি নতুন জীবনে প্রবেশ করছো। ক্ষমার মালিক আল্লাহ্। মালিকের কাছে তুমি তোমার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাও। ঠিক মতো ইবাদত করো। যখন তুমি মুক্ত জীবনে ফিরে আসবে, তখন তুমি কর্মক্ষম মানুষ হিসেবে নিজেকে চিনতে পারবে।’

আলেক্সান্ডারের বিরুদ্ধে আদালত খুনের অভিযোগ ছাড়াও চুরি এবং কৃতকর্মের প্রমাণ লোপাটের অভিযোগও এনেছে। কিন্তু আব্দুল মুনিমের ক্ষমার বিষয়ে বিচারকও বললেন, এমন অভিজ্ঞতা তার জীবনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে!