জলে গেল সৌম্যের ক্যারিয়ার সেরা ১৫৪

ক্রিকেট খেলাধুলা

১২৭ বলে ১৫৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন সৌম্য সরকার। অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব পেল ৩৩৪ রানের বিশাল সংগ্রহ। তবে এ বাঁহাতি ওপেনারের দেড়শ পেরোনো ইনিংসটিও বিফলে গেছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের ফিফটিতে। শেষ বলে চার মেরে ব্রাদার্সের ব্যাটসম্যানদের প্রতিরোধকে পূর্ণতা পাইয়ে দেন নাজমুস সাদাত।

বিকেএসপিতে ৩৩৫ রানের বিশাল লক্ষ্য ৪ উইকেট হাতে রেখে টপকে গেছে ব্রাদার্স, সঙ্গে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টিকে গেছে দলটি। আর প্রথম বিভাগে নেমে গেছে অগ্রণী ব্যাংক।

রেলিগেশন লিগ শুরুর আগেই অবনমন নিশ্চিত হয়ে যায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের। এবার তাদের সঙ্গী হল অগ্রণী। আগামী মৌসুম দল দুটিকে খেলতে হবে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠটি তুলনামূলক ছোট, উইকেটও ব্যাটিং সহায়ক। যার ফায়দা পুরোপুরিই নিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। বড় লক্ষ্য ছোট বানিয়ে ফেলেন ব্রাদার্সের দুই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ও মিজানুর রহমান। দুজনে ১১ ওভারেই দলের রান নিয়ে যান তিনঅঙ্কের ঘরে। ১৪তম ওভারে মিজানুর ৪৫ বলে ৬২ করে সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ১২১ রানের ওপেনিং ‍জুটি। রান তোলার গতি ধরে রেখে ব্যাট চালান পরের ব্যাটসম্যানরাও।

জুনায়েদ ৭৭ বলে ৮৩, মায়শুকুর রহমান ৯৫ বলে ৮২, ভারতীয় রিক্রুট দেবব্রত দাসের ৬২ বলে অপরাজিত ৭৩ রানে ভর তরে ৩৩৫ রান তাড়া করে ফেলে ব্রাদার্স। থিতু হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যনরা একে একে বিদায় নিলে ম্যাচের শেষটা জমে ওঠে। নাজমুল সাদাত ৭ বলে ১০ রানের ইনিংস খেলে জয়ে নোঙর করান।

আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড় তোলেন সৌম্য সরকার। ১১ ছক্কা, ৯ চারে সাজান নিজের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া কোথাও তার ব্যাট কথা বলছিল না। ঢাকা লিগের চলতি মৌসুমে নিজেদের শেষ ম্যাচে হাসে তার ব্যাট। ১০৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর শেষ ২০ বলে যোগ করেন ৫৪ রান।

লিস্ট ‘এ’তে এতদিন এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১টি ছয় মেরে রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছিলেন টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ব্রাদার্সের বিপক্ষে ১১টি ছয় মেরে মাশরাফীর রেকর্ডে ভাগ বসালেন সৌম্য।

২০১৬ সালে ফতুল্লায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ১১ ছক্কার রেকর্ড গড়েছিলেন মাশরাফী। সৌম্যর সুযোগ ছিল ছক্কার রেকর্ডে মাশরাফীকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। যখন আউট হন তখনও বাকি ৫ ওভারের বেশি।

শাহরিয়ার নাফীসের সঙ্গে সৌম্যর ওপেনিং জুটিতে আসে ৪৪ রান। ২৪ করে আউট হন নাফীস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সালমান হোসেনের সঙ্গে আরো ৪০ রানের জুটি। ২৩ রান করে সালমান ফেরার পর দ্রুত ফেরেন শামসুল ইসলামও (১)। ধীমান ঘোষ আউট হন ২৫ রান করে।

তবে একপাশ আগলে রেখে ব্যাট চালিয়ে যান সৌম্য। তাকে সঙ্গ দেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান ঋষি ধাওয়ান। সঙ্গীর অভাবে সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৫ বলে ৯টি চার ও এক ছক্কায় ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন।

অগ্রণীর স্কোরবোর্ড আরো সমৃদ্ধ হতে পারত। যদি তাদের শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা রান পেতেন। অগ্রণীর চারজন ব্যাটসম্যান হিসাবের খাতাই খুলতে পারেননি। তাই ৫ বল বাকি থাকতে ৩৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।