‘জানি না, তোমার পছন্দ হবে কিনা, তবুও গায়ে জড়িয়ো : বিধ্বস্ত বিমানের পাশে!!

চারকোণা একটি সাদা কাগজ। তাতে লেখা “জানি না, পছন্দ হবে কিনা; তবুও গায়ে জড়িয়ো”

নেপালের কাঠমন্ডুতে আজ সোমবার ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনাস্থল থেকে এমনই একটি বার্তাবাহী কাগজ পরে থাকতে দেখা যায়। লেখা থেকে অনুমাণ করা যায়, প্রিয়জনের জন্য আনা কোন উপহারের সাথে সংযুক্ত ছিল কাগজটি।

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের যে জায়গাটিতে ইউএস-বাংলার ‘বিএস-২১১’ বিমানটি বিধ্বস্ত হয় তার আশেপাশে এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যাত্রীদের বিভিন্ন মালামাল। সেখানেই পরে থাকা এই কাগজটি এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল।

ব্লগার তানজির ইসলাম ব্রিত্ত ছবিটি দিয়ে লেখেন, “গুটি গুটি অক্ষরে লেখা শব্দ গুলোতে কি মায়া মিশে আছে। সব নিমিষেই চুরমার হয়ে গেলো”।

কাগজটিতে থাকা বার্তা থেকে জোরালো অধিকারের সম্পর্কটি স্পষ্ট বোঝা যায়।

পছন্দ হোক বা না হোক, পরতেই হবে। গিফট নোটটিতে লেখা ছিল “ওয়্যার ইট”। ‘পরিধান কর’।

তানজিরের পোস্টটি ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ড্যু সামথিং এক্সেপশনালে শেয়ার করেন গ্রুপ অ্যাডমিন জেবিন ইসলাম। দুই জনের পোস্টেই মরমী মন্তব্য করতে শুরু করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

নুসরাত তিথী নামের এক তরুণী লেখেন, “কেমন জানি চাপা কস্ট হচ্ছে অচেনামানুষগুলোর জন্য”।

ফয়সাল মাহমুদ নামের আরেক ব্যবহারকারী লেখেন “জীবন ও ভাগ্য কতটা নির্মম । এই আছি এই নেই । এক সেকেন্ডের নাই ভরসা” ।

বিমানটিতে অন্তত দুই জোড়া দম্পতির বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় যারা বিবাহোত্তর মধু চন্দ্রিমায় অথবা বিবাহ বার্ষিকী উদযাপনে নেপাল যাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এদেরই কারও লাগেজে থাকা উপহার বার্তা হতে পারে এটি।

গায়ে জড়িয়ো
ইউএস-বাংলার এই বিমান দূর্ঘটনায় আহত-নিহতের ঘটনায় পুরো দেশ শোকাস্তব্ধ হয়ে আছে। সবাই যেন সবারই স্বজন ছিল।

হয়তো জীবন যুদ্ধের ওপারে বসেই উপহারটি গ্রহণ করবে সেই প্রিয়জন। আর তা অবাক নয়নে দেখবে উপহার প্রদানকারী।

Comments

comments

Leave A Reply

Your email address will not be published.