জানি বাবা অনেক খুশি হয়েছেন : অনিক

ক্রিকেট খেলাধুলা

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার সময় জানিয়েছিলেন, বাবার জন্যই ক্রিকেট খেলেন কাজী অনিক ইসলাম। বাবা কাজী বসিরুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় এখন অনেকটাই শয্যাশায়ী। তবে ছেলে খেলছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) তাই নিশ্চয়ই চোখ ছিল টিভিতে। আর বুধবার ছেলেন এমন চমকে দেওয়া পারফরম্যান্সের পর তারই তো সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা। ম্যাচের মাঝে জানার উপায় নেই অনিকের। তবে মনে-প্রাণে জানেন, নিশ্চয়ই দারুণ খুশি হয়েছেন বাবা।

দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে এলেন কাজী অনিক। যদিও ম্যাচের সেরা তার রাজশাহী কিংস অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। কিন্তু ৩.২ ওভারে ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বিপিএলে বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে অভিষেক বাঁহাতি পেসার অনিকের। আর ১৯ বছরের যুবা সংবাদ সম্মেলনেই বাবার কথাটা বললেন সবচেয়ে বড় প্রেরণা হিসেবে। তিন ভাই ক্রিকেট খেললেও এখন শুধু অনিকই ক্রিকেট ধরে রেখেছেন। একসময় তিন জন এক সঙ্গেই অনুশীলন করতেন। বাকি দুই ভাই খেলা ছেড়ে দেওয়ায় বাবার স্বপ্ন এখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা তার এই ছেলেকে ঘিরেই। অনিকের ভাষায়, ‘ম্যাচশেষেই বাবাকে কল দিয়েছিলাম। তবে যে কোন কারণে কেউ ধরেনি। তবে এতোটুকু জানি বাবা অনেক খুশি হয়েছেন। নিশ্চিতভাবে আরও বেশি খুশি হয়েছেন চার উইকেট পেয়েছি বলে।’

বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড় হলেও বড়দের মঞ্চে আগে থেকেই নিজের জাত চিনিয়েছেন এই ছেলে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবার বড় দল আবাহনীর হয়ে খেলেছেন। ৮ ম্যাচে পেয়েছিলেন ৯ উইকেট। তবে বিপিএলে বুধবারই প্রথম। প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত। বল হাতে পঞ্চম বোলার হিসেবে এসেও শুরুতে বড় দুই উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনে দিয়েছেন ব্রেক থ্রু। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেস বোলিংয়ের মূল ভরসাই এখন এই অনিক। গত যুব এশিয়া কাপেও ছিলেন। এবার আসন্ন নিউজিল্যান্ডেও দলের বোলিং স্তম্ভ তিনিই।

রাজশাহী কিংসের ডেরায় যোগ দিয়েছেন মাত্র কদিন। যুব এশিয়া কাপ খেলছিলে মালয়েশিয়ায়। বিপিএলে খেলার সুযোগ ছিল না। তবে বিপিএলে নিজের শুরুর ম্যাচেই অবশ্য প্রত্যাশা আকাশ ছোঁয়া ছিল না। রান নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল লক্ষ্য। তবে এভাবে একের পর এক উইকেট পেয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। আর বিপএলের মতো বৈশ্বিক আসরে অভিষেকে এমন সাফল্যে এই তরুণ তো উদ্বেলিত হবেনই, ‘আমার পরিকল্পনা ছিল রান যতটা কম দিতে পারি। উইকেট পাওয়াটা তো ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। ভালো লাগছে সেই পরিকল্পনাতে সফল হয়েছি বলে।’

উইকেট পাওয়ার পর বোলারদের ভিন্ন ধরনের উদযাপন নতুন কিছু নয়। অনেকেই অনেক রকম উদযাপন করেন। অনিকও এদিন ভিন্ন ধরনের নাচ নেচে নিলেন উইকেট শিকারের পর। আর এটা তাদের যুব দলের বিশেষ নাচ বলেও জানালেন, ‘নাচটা হচ্ছে আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরই নাচ। এই নাচটা আমি সব জায়গাতে দিতাম। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোন উইকেট পেলে আমি নাচটা দেই। হংকংয়ে আমরা সিক্স এ সাইড টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েছিলাম। ওখানে আমরা এই নাচটা দিয়েছি।’

৪ উইকেট পাওয়ার পর অনিককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। কারণ নেটে তার বোলিং দেখেই একাদশে নিয়েছিলেন অধিনায়ক, ‘উনি (স্যামি) আমাকে নেট থেকেই পছন্দ করেছেন। স্যামি টপ ক্লাস খেলোয়াড়। একজন বোলারকে দেখলেই বুঝতে পারেন, বোলারটা কেমন? আসলে ম্যাচে আমাকে কোন কিছু বলেননি। ম্যাচের পর বলেছেন, ‘‘তুমি তোমার ভালো বলগুলো করেছ, দ্যাটস ইট। পরের ম্যাচে সুযোগ পেলে এই ধারাটা ধরে রেখো।’’