ডাক্তার হতে এসে হলেন বিশ্ব সুন্দরী! মানুসি

বিনোদন

মানুসি ছিল্লর, ১৯৯৭ সালের ১৪ মে হরিয়ানায় এক চিকিৎসক পরিবারে জন্ম মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭এর। বাবা-মা দু’জনেই চিকিৎসক। বাবা মিত্র বসু ছিল্লর ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের এক বিজ্ঞানী। আর মা নীলম ছিল্লর ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান বিহেভিয়র অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক। বাবা-মাকে দেখে ছোট থেকেই তাঁর ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে চিকিৎসক হবেন। তখন থেকেই পড়ার বইয়ে মুখ গুজে থাকতেন এই মেয়ে। অন্য পাঁচটা মেয়ের মতো পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী ছিল মানুসি।

পরে পরিবারের সঙ্গে দিল্লিতে এসে ভর্তি হন সেন্ট থমাস স্কুলে। দ্বাদশ শ্রেণিতে খুব ভাল ফলাফল করে ভগতফুল সিংহ সরকারি কলেজ ও হাসপাতালে (মহিলা) ডাক্তারি নিয়ে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী রাজা রেড্ডি, রাধা রেড্ডি এবং কৌশল্যা রেড্ডির কাছে তাঁর তালিম চলছিল কুচিপুড়ী নৃত্যশৈলীরও। তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার ছাত্রী।

নতুন মিস ওয়ার্ল্ডকে মুকুট পরিয়ে দেন গত বছরের বিশ্বসুন্দরী স্টেফানি দেল ভালে। ছবি: এএফপি

পড়াশোনা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, নাচ আর নাটক এই নিয়ে জীবনটা একই খাতে বইছিল মানুষীর। তবে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় এক বার অংশ নেওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা ছিল মনে। সে কথাটা মা-বাবাকে বলতেই তারাও মেয়েকে উৎসাহ দিতে কোনও কারপন্ন করেননি। ওই সময় চণ্ডীগঢ়ে ছিলেন মানুষী। তিনি একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়ার পর সেখানে নিজের নাম লিখান।

সেই শুরু জীবনটাকে এক্কেবারে অন্য ভাবে দেখা। সেই থেকে বিশ্বের সেরা সুন্দরীর মঞ্চে সেরার তকমা আদায় করার জন্য শুরু কঠিন অধ্যাবসায়। যে সময় আর পাঁচটা ছাত্রী ঘুমতে যেতেন, সে সময় কঠিন ওয়ার্কআউটে ব্যস্ত থাকতেন ভারতের নতুন বিশ্ব সুন্দরী। এ নিয়ে তার ডাক্তারি পড়াশোনায় গত এক বছর ঠিকমতো হয়ে উঠেনি।

তবে তার চেষ্টা বৃথা যায়নি। বিজয়িনীর মুকুট মাথায় শেষ হাসিটা হেসেছেন তিনিই। ২০১৭ সালের ২৫ জুন হরিয়ানার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে জিতে নিয়েছিলেন ‘মিস ইন্ডিয়ার’ খেতাব। এ বার বিশ্ব সুন্দরী ২০১৭-র মুকুট জিতে ভারতের হয়ে ১৭ বছর পর আবারও বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট পরে দেশে আসছেন মানুষী ছিল্লর।

এর আগে ভারতের হয়ে রীতা ফারিয়া ১৯৬৬, ঐশরিয়া রায় ১৯৯৪, ডায়না হেডেন ১৯৯৭, যুক্তামুখী ৯৯, প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ২০০০ সালে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট জিতেছেন। এছাড়া ১৯৯৪ সালে সুস্মিতা সেন মিস ইউনিভার্স এবং ২০০০ সালে সেই একই খেতাব এনেছিলেন লারা দত্ত।