ডার্ক-ডীপ ওয়েব আন্ধকার ইন্টারনেট দুনিয়া- বর্তমান তরুনদের প্রধান আলোচানার বিষয়

অন্যান্য অপরাধ ও দুর্নীতি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

একসময় ছিল, তখন হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন যারা ডার্ক/ডীপ ওয়েব সম্পর্কে জানতো। আর এখন প্রায় অনেকেই জানে এর সম্পর্কে। ডার্ক/ডীপ ওয়েব ইন্টারনেটের এক অন্ধকার দুনিয়া। সেখানে এমন অনেক কিছুই হয়ে থাকে যা আমাদের কল্পনার বাইরে। ডার্ক/ডীপ ওয়েবে সম্পর্কে তথ্য জানা বা লিংক পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের কিছু উঠতি তরুনরা বেশ থ্রিল ফিল করে। কিন্তু এর পিছনে সঠিক কি জিনিস আছে তা জেনে নেওয়া উচিত।

ডার্কওয়েবে এমন অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট কেনা যায়,যেইগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন সাধারনত দাম নির্ধারণ হয়ে থাকে সেই একাউন্টে ব্যালেন্স কত আছে? যদি আপনার একাউন্ট ব্যালেন্স $১০০০ ডলার থাকে তবে আপনার সেই একাউন্ট ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হবে মাত্র ৳৫০ ডলারে।

ডার্ক ওয়েবে মাত্র ৳৫০ ডলার থেকে শুরু পার ডে সার্ভিস, যাতে আপনি আপনার সাইবার ক্রিমিনাল ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন। ডার্ক ওয়েবের প্রথম সাকসেসফুল ওয়েব মার্কেটপ্লেস ‘Silk Road’ যেখানে ছিল ছিল প্রায় ৯৫৫০০০ রেজিস্টার্ড ইউজার, এবং ১.২মিলিয়ন ব্রোকার, যাদের লেনদেনের পরিমান ছিল প্রায় ২১৪মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১৭১২ কোটি টাকা) যেটা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে এবং বন্ধ হয়ে যায় ২০১৩ সালে।

ডার্ক ওয়েবে কি হয়?

যেগুলো বিক্রি হওয়ায় টপ লিস্টে রয়েছে:

  • প্রতারণামূলক ডকুমেন্ট
  • চুরি হয়ে যাওয়া ক্রেডিট কার্ড
  • পরিচয়পত্র
  • অস্ত্র-মাদক
  • মার্ডার
  • নিষিদ্ধ পর্ণগ্রাফি
  • ভয়ানক লাইভ  এক্সপেরিমেন্ট
  • এবং সকল প্রকার জাল জিনিস।

আমরা রেগুলার ইন্টারনেটে যা খুঁজি, তার থেকে ডার্কওয়েবে কোন কিছু খোঁজা অনেক কঠিন, কারন সেখানে অবৈধ কোম্পানি গুলো তা পরিচালনা করে, তাই প্রায় প্রতিদিন ডার্কওয়েবে তারা তাদের ইউআরএল পরিবর্তন করে, এমনকি প্রতি ঘণ্টায়ও পরিবর্তন করে থাকে।

ডার্ক/ডীপ ওয়েবকে ইন্টারনেটের অন্ধকার দিক বলা হয়এবং  সবাইকে সচেতন করার জন্য এই পোস্ট। 

নোটঃ (যে কোন কাজ করার আগে ভেবে নিন কাজটি করার পর আপনার পরিনতি কি হবেআপনার পরিবারের কি হবে!!! তাই,  ক্রাইম থেকে দূরে থাকুন)। জানা কখনও অপরাধ নয় বরং সর্তক হওয়া যায় এবং অন্যকে করা যায়। 

ডার্ক/ডীপ ওয়েবে এমন কিছু সাইট রয়েছে যেখানে কিছু মানুষ রয়েছে যারা আপনার জন্য যে কোন কিছু করতে পারবে, নির্দিষ্ট দামে। হতে পারে আপনার যে কোন কারও সিক্রেট অথবা আপনাদের গভারমেন্ট ওয়েবসাইট থেকে গোপন তথ্য বের করা। সেই মানুষ গুলো সবসময় রেডি রয়েছে যে কোন কাজ করার জন্য। ডার্ক/ডীপ ওয়েব অস্ত্র বেচার কিছু ষ্টোর রয়েছে, কিন্তু সেটা শুধুমাত্র ইউরোপবাসীর জন্য। আপনি ইউরোপবাসী হলে সেইসব ষ্টোর থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনতে পারবেন।

ডার্ক/ডীপ ওয়েবে কিছু সাইট রয়েছে,

সেখানে লাইভ এক্সপেরিমেন্ট করা হয় মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে যা আপনার সব কল্পনাকে তারা হার মানাবে, যাদের নিয়ে এইসব এক্সপেরিমেন্ট করা হয়, বেশীরভাগ মানুষ গুলো হল ঘরহীন, যাদেরকে রাস্তা থেকে উঠানো হয় এবং তাদের উপর এইসব এক্সপেরিমেন্ট করে থাকে।

ডার্ক/ডীপ ওয়েবে যেকোনো দেশের গভারমেন্ট সিক্রেট পাওয়া যায়, কিছুদিন আগে এফবিআই এর কিছু সিক্রেটও পাওয়া গেছে। তাহলে একবার ভেবে দেখুন, যেখানে এফবিআই সিক্রেট পাওয়া যায় সেখানে কত কিছুই না হয়।

ডার্ক/ডীপ ওয়েবে আপনি হিটম্যান শপিং সার্ভিস পাবেন। আর ট্রানজেকশন হিসেবে রয়েছে বিটকয়েন। ডার্ক/ডীপ ওয়েবে হিটম্যানরা কানাডার জন্য $১০০০০ডলার এবং ইউরোপের জন্য $১২০০০ডলার নিয়ে থাকে।তবে যাদেরকে তারা মারবে সেই লোকদের গুরুত্ব এবং প্রয়োজয়নীতা  হিসেবে দাম $১০০০০০ডলার পযন্ত তারা নিয়ে থাকে।

যারা নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে,তাদের প্রায় সবাই ডার্ক/ডীপ ওয়েব সম্পর্কে পরিচিত।আর যারা ডার্ক/ডীপ ওয়েবের রেগুলার বাসিন্দা তারা এর ভালো এবং মন্দ দিক সম্পর্কে সবই জানেন।তবে অনেকেই রয়েছে যারা এর অন্ধকার দিকগুলো সম্পর্কে এখনো জানেন না। আবার অনেকেই বিশ্বাসই করতে চায় না যে ডার্ক/ডীপ ওয়েবে আসলেই এগুলো হয় নাকি।

  • ডার্ক/ডীপ ওয়েবে আপনি যে কোন ড্রাগ কিনতে পারবেন, তাও আবার একদম প্রিমিয়াম কোয়ালিটির। এবং ডেলিভারির জন্য আপনাকে কোন টেনশন নিতে হবে না,যাদের কাছে ওয়ার্ডার করবেন,তারাই এর প্যাকিং এবং ডেলিভারি করে দিবে।
  • দুনিয়ার সেরা কিছু হ্যাকারকে আপনি ডার্ক/ডীপ ওয়েবে পাবেন,তবে তাদেরকে খুজে পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য।
  • আপনি ডার্ক/ডীপ ওয়েবে যা কিছুই করুন না কেন আপনাকে খুবই সতর্ক থাকতে হবে,আপনার কোন একটি ভুল ক্লিকেই হয়ত আপনার কম্পিউটার লাইফ শেষ হয়ে যেতে পারে,(পরিনাম কত ভয়াবহ হতে পারে তা আপনার কল্পনারও বাইরে)
  • ডার্ক/ডীপ ওয়েবে আপনি আপনার কাজ অনুযায়ী হিটম্যান নিতে পারবেন,অনেক হিটম্যান রছে যারা ধরা পড়েছে,আবার কিছু হিটম্যানরা এটা ক্লেইম করে থাকে যে তারা সেই বিজনেসে ৭-৮বছর ধরে আছে। তার মানে সে এই ছয় বা সাত বছরে যতগুলো মানুষ মেরেছে সব ধরা পরা ছাড়া।
  • যে সমস্ত বই কোন দেশে নিষিদ্ধ বা পুরো বিশ্বেই নিষিদ্ধ রয়েছে, সেই সমস্ত বই আপনি ডার্ক/ডীপ ওয়েবে পেয়ে যাবেন।

সূত্র: ইন্টারনেট