‘ডুব’ নিয়ে কিচু কথা

বিনোদন

কেমন হয়েছে ‘ডুব’? সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে ফোনের ডেটা অন করতেই দেখি, ইনবক্স ভরে গেছে এই প্রশ্নে। পরিচিত লোকজনের একই প্রশ্ন। তাদের সবাইকে দেওয়া জবাবে শুরুতেই বলেছি, ‘তিশার অভিনয় আমার দারুণ লেগেছে।’

‘ডুব’ নিয়ে হইহুল্লোড় হওয়ার মতো অনেক কারণই ছিল। নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, এতে প্রথমবারের মতো ইরফান খানের অভিনয়, ইরফানের মেয়ের চরিত্রে তিশার অভিনয়—এসব ইউএসপি (ইউনিক সেলিং পয়েন্ট) দিয়ে দিব্যি আলোড়ন তুলতে পারত ডুব। কিন্তু ছবি মুক্তির আগেই এর সঙ্গে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের জড়িয়ে যাওয়া, ‘ডুব’–এর আলোড়নকে নিয়ে গেছে ভিন্নমাত্রায়। কিন্তু আজ থেকে যারা ডুব দেখতে হলে যাবেন, তাদের উদ্দেশে বলে রাখি, ‘গল্পটি হুমায়ুন আহমেদের জীবনের নয়। এটি চিত্রপরিচালক জাবেদের। ‘ডুব একটি বায়োপিক’ মাথা থেকে এ ধারণাকে ‘ডিলিট’ করে হলে প্রবেশ করুন, দেখবেন নতুন এক চিন্তা নিয়ে বেরিয়েছেন হল থেকে। আমার বেলায় তো তা-ই হয়েছে।
‘ডুব’-এর হৃদয়ছোঁয়া দিকের কথা বলতে চাই। তা হলো ছবির অদ্ভুত সুন্দর নির্বাক মুহূর্তগুলো। যেখানে ‘জাবেদ’ চরিত্রের ইরফান খান, ‘নিতু’ চরিত্রের পার্নো মিত্র। আর জাবেদের ছেলে আহিরের অপরিচিত সুরে ও স্বরে বাংলা বলা খুব কানে বাঁধছিল, সেখানে শিল্পীদের নির্বাক কিছু মুহূর্ত যেন ক্ষত সারার মলমের মতো কাজ করেছে। কিছু ফাঁকা চাহনি মনে প্রভাব ফেলেছে শত শব্দের সংলাপের চেয়েও প্রবলভাবে।
তবে নিতু চরিত্রের চরিত্রায়ন নিয়ে কিছু আক্ষেপ রয়েছে আমার। প্রথা ভাঙার সুর যে নির্মাতার নির্মাণে পাওয়া যায়, তাঁর ছবিতেই যখন ‘পরনারী’র (দ্য আদার ওম্যান) চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সেই প্রথাগত নিয়মেই স্লিভলেস ব্লাউজ আর সিগারেট ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়, তখন কিছুটা হতাশা তো মনে জমেই। স্লিভলেস ব্লাউজ পরিয়ে চরিত্রের নেতিবাচকতা ফুটিয়ে তোলার দিন তো সেই কবেই অতীত হয়েছে বলে ভেবেছিলাম। আবার এর ফিরে আসা আমার কাছে নতুন লাগেনি।
শুরু আর শেষটা দেখে হয়তো আবারো অনেকে বলতে পারেন, ‘মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আবারও সিনেমার নামে একটা টেলিফিল্ম বানালেন!’ তাঁদের জন্য বলব, এটা জীবনের গল্প। এটা টেলিফিল্ম নাকি সিনেমা? জীবনীনির্ভর নাকি মৌলিক গল্প, এসব রহস্যের জট না হয় জট বেধেই থাক। হুমায়ুন আহমেদ তো বলেই গেছেন, ‘জগতের বড় বড় রহস্যের বেশির ভাগ থাকে অমীমাংসীত। প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে। রহস্যের মীমাংসা তেমন পছন্দ করে না।’
ডুবের রহস্য ডুবেই থাক, দর্শক বুঁদ হয়ে থাক তিশার অভিনয়, রোকেয়া প্রাচী, ইরফানের ফাঁকা চাহনি আর নির্বাক মুহূর্তগুলোয়, যা এই ছবিকে করেছে সবার থেকে আলাদা।