তামিমই আসল ক্রিকেটার

ক্রিকেট খেলাধুলা
এতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তামিম!
স্টিভ স্মিথের সঙ্গে আইপিএল খেলা হচ্ছে না ডেভিড ওয়ার্নারেরও, এ খবর প্রকাশের পর দুদিন ধরে একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ওয়ার্নারের বিকল্প বাঁহাতি ওপেনার হিসেবে আইপিএল খেলার সুযোগ হতে পারে তামিম ইকবালের।  আজ দুপুরে বিসিবি একাডেমি মাঠে বাঁহাতি ওপেনারের কাছে এ নিয়ে জানতে চাইলে গুঞ্জনটা উড়িয়েই দিলেন, ‘আরে নাহ্‌, ভুল খবর।  আর আমি তো হাঁটুর চোটে পড়েছি, সেরে উঠতেই অন্তত এক মাস লাগবে। ’

তামিম এই হাঁটুর চোটে পড়েছিলেন এ মাসের শুরুতে, পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)

খেলতে গিয়ে।  ১ মার্চ পেশোয়ার জালমির হয়ে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে ম্যাচে রানআউট থেকে বাঁচতে ডাইভ দিয়ে বাঁ হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছিলেন তিনি।  অতীতে তাঁর এ হাঁটুর ওপর দিয়ে অনেক ধকলই গেছে।  বছর তিনেক আগে বাঁ হাঁটুর চোট থেকে সেরে উঠতে অস্ট্রেলীয় শল্যবিদ ডেভিড ইয়াংয়ের ছুরির নিচেও তাঁকে যেতে হয়েছে।

পিএসএলে পাওয়া হাঁটুর চোট থেকে সেরে উঠতে তামিমের সামনে এক পথই খোলা ছিল, কদিনের বিশ্রাম নেওয়া।  কিন্তু সে উপায় ছিল না।  বাংলাদেশ তখন নিদাহাস ট্রফি খেলতে শ্রীলঙ্কায়।  দেশের মাঠে টানা তিন সিরিজ হার, চোটে পড়ে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দলের বাইরে—পরিস্থিতি এমনই ছিল, বিশ্রামের চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে হয়েছে তামিমকে।

জাতীয় দলের প্রয়োজনে বড় ত্যাগই স্বীকার করতে হয়েছে তামিমকে।  ব্যথানাশক ওষুধ নিয়ে নিদাহাস ট্রফির প্রতিটি ম্যাচ খেলে গেছেন বাঁহাতি ওপেনার।  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে দুটি ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে দুটিতেই বড় অবদান রেখেছেন।  একটিতে করেছেন ৪৭, আরেকটিতে ৫০।  ব্যাটিংটা করতে পারলেও কখনো কখনো পুরোটা সময় ফিল্ডিং করতে পারেননি।

কীভাবে চোট নিয়ে নিদাহাস ট্রফিতে খেলেছেন তামিম, সেটিই আজ বলছিলেন বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী, ‘সমস্যাটা হয়েছে ডাইভ দিতে গিয়ে।  প্রতিটি সমস্যার সমাধান তো আর অস্ত্রোপচার নয়।  আঘাত পাওয়ার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়নি সে।  দ্রুত সময়ে আবারও মাঠে নেমে পড়তে হয়েছে।  দলের স্বার্থে পরিচর্যাটা ঠিক সেভাবে হয়নি।  নিদাহাস ট্রফিতে ব্যথানাশক ওষুধ নিয়ে খেলতে হয়েছে তাকে।  তখন এমন পরিস্থিতি ছিল, বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে খেলানোর উপায়ও ছিল না।  ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ব্যথা কিছুটা কমলে ও নিজেও বলেছে, খেলবে।  সঠিক পরিচর্যা না হওয়ায় ব্যথাটা ধীরে ধীরে বেড়েছে। ’

ব্যথা চেপে রাখতে রাখতে সেটি পরে অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।  ২৫ মার্চ পিসিএলের ফাইনাল রেখে তামিম ব্যাংককে ছুটে গেছেন হাঁটু দেখাতে।  বাঁ হাঁটুর এমআরআই রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কাল থেকে শুরু হয়েছে তাঁর পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া।  তামিমের চোট নিয়ে দেবাশিস বললেন, ‘এখন ওর বিশ্রামই দরকার।  শরীরই চোটটা সারিয়ে তুলবে।  আমাদের কাজ হচ্ছে শরীরকে সহায়তা করা।  এখানে বাড়তি কিছুই করা যাবে না।  কোনো ওষুধ, ইনজেকশন দেওয়া যাবে না।  প্রাকৃতিকভাবে চিকিৎসা হচ্ছে।  একটু ব্যথা আছে, ব্যথা কমাতে আমরা শুধু ফিজিওথেরাপি দেব।  কিছু ব্যায়াম করবে সে।  এ ধরনের চোট সারতে ৪-৬ সপ্তাহ লাগে।  এখন খেলা নেই।  খেলা না থাকায় ভালো হয়েছে।  আশা করি নির্দিষ্ট সময়ে সে সেরে উঠতে পারবে।