তাসফিয়ার ভিসেরা রিপোর্ট ঢাকায়, আদনানের রিমান্ড নাকচ

অপরাধ ও দুর্নীতি আলোচিত সংবাদ বাংলাদেশ

তাসফিয়া আমিনের  হত্যা রহস্যের জট খুলছেই না।  চট্টগ্রামের এই স্কুলছাত্রীর  মৃত্যুর কারণ জানতে ভিসেরা রিপোর্ট বিশ্লেষণের জন্য ঢাকার মহাখালী ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।  এদিকে তাসফিয়া ‘হত্যা’ মামলার প্রধান আসামী কথিত প্রেমিক আদনান মির্জাকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জাানায়, তাসফিয়াকে খুন করা হয়েছে নাকি রক্তে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যু হয়েছে- তা উদঘাটন করতেই ঢাকার মহাখালী

ল্যাবরেটরিতে তাসফিয়ার ভিসেরা রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।  এ রিপোর্টটা পেলে হত্যার মূল কারণ জানা যাবে।

সানসাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিন হত্যার  ছয় দিন অতিবাহিত হলেও এখনো  কোনো জট খুলতে পারেনি পুলিশ।  তাসফিয়া খুন হয়েছেন নাকি আত্মহত্যা করেছেন তা নিয়েও সংশয় কাটেনি।  রহস্যভেদ করতে পারেনি কার সঙ্গে তাসফিয়া পতেঙ্গা সৈকতে গিয়েছিল, তার খোয়া যাওয়া মোবাইল ও সোনার আংটি কার হাতে রয়েছে এসব বিষয়ের।  তাছাড়া বেশিরভাগ আসামি এখনো রয়েগেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।  তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। তাসফিয়াকে খুন করা হয়েছে নাকি রক্তে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে- তা উদঘাটন করতেই ঢাকার মহাখালী ল্যাবরেটরিতে তাসফিয়ার ভিসেরা রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।  এ রিপোর্টটা পেলে হত্যার মূল কারণ জানা যাবে।  আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যে ভালো খবর দিতে পারব। ’

তিনি আরো জানান,   মামলার প্রধান আসামী আদনান মির্জাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।  আদালত তার বয়স বিবেচনায় গাজীপুরের টঙ্গীতে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।  জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালত পুলিশকে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করারও আদেশ দেন।  একইসাথে সংশোধনী কারাগারের পরিচালকের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করে ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্যও পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ২ মে নগরীর পতেঙ্গা সৈকত থেকে সানসাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার (১ মে) সন্ধ্যায় তাসফিয়া তার ছেলে বন্ধু আদনানের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে খেতে যায়।  এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। ’  নিহতের পরিবারের অভিযোগ স্কুলছাত্রীর ‘প্রেমিক’ নির্যাতনের পর হত্যা করে।  এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোহাম্মদ আমিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।  মামলায় কথিত প্রেমিক আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে পতেঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।  মামলার অপর আসামিরা হলেন, সোহেল (১৭), শওকত মিরাজ (১৭), আসিফ মিজান (১৭), ইমতিয়াজ ইকরাম (১৭),  সুলতান (২৪) ও ফিরোজ (৩০)।  লিশ বুধবার রাতে তাসফিয়ার ছেলে বন্ধু আদনানকে আটক করে। গত ছয় দিনে পুলিশ অপর ৫ আসামির একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি।