তাহলে শ্রীলঙ্কারই কোচ হচ্ছেন হাথুরুসিংহে?

ক্রিকেট খেলাধুলা

এই প্রশ্নটা এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিডিয়ায়। বাংলাদেশের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে পদত্যাগ করেছেন- এই খবরটা প্রকাশ পায় বৃহস্পতিবার দুপুরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। বিসিবি সন্ধ্যা পর্যন্ত বিষয়টা স্বীকার করেনি আনুষ্ঠানিক ভাবে। কিন্তু চারদিকে একই খবর। এরই মধ্যে ক্রিকেচের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো এবং দ্রুত উন্নতি করতে থাকা আরেকটি ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাহ একই খবর দিচ্ছে। তারা জানাচ্ছে, খুব সম্ভবত নিজের দেশ শ্রীলঙ্কারই প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন হাথুরুসিংহে।

ক্রিকইনফো লিখেছে, আসলে হাথুরুসিংহেকে যেভাবে হোক শ্রীলঙ্কা দলের কোচ বানানোর জন্য জোর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দেশচির ক্রিকেট বোর্ড। আর সেটা ঘটনা ঘটার নিদর্শন মিলছে। বিসিবির সাথে মতের মিল হচ্ছিল না কিছু বিষয়ে। ক্ষুব্ধ ছিলেন টাইগারদের ইতিহাসের সফলতম কোচ। এর মধ্যে নিজের দেশের কোচ হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব তো লোভনীয়। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল হালে বাজে অবস্থায় কাটাচ্ছে। গত জুনে প্রধান কোচ গ্রাহাম ফোর্ড পদত্যাগ করার পর তার জায়গায় একজন স্থায়ী কোচ খুঁজে বেড়াচ্ছে শ্রীলঙ্কা। দিন মাস আগেই তারা প্রস্তাব দিয়েছিল হাথুরুসিংহেকে। তখন এই কোচ বাংলাদেশের মিডিয়ার কাছে বলেছিলেন, তিনি টাইগারদে ছেড়ে যাচ্ছেন না। কিন্তু সম্প্রতি লঙ্কান বোর্ড বাংলাদেশে কাজ করে যাওয়া ব্যাটিং উপদেষ্টা থিলান সামারাবিরাকে তাদের দলের ব্যাটিং উপদেষ্টা করেছে। হাথুরুসিংহের কাছের মানুষ সামারাবিরা। লঙ্কানদের নির্বাচক কমিটিও বদলেছে। লঙ্কান বোর্ড বাংলাদেশে হাথুরুসিংহে যা আয় করেন তা দিতেও প্রস্তুত। দরকার হলে আরো কিছু।

ত্রিকইনফো আরো জানাচ্ছে, যেহেতু গত বছরই ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত হাথুরুসিংহে চুক্তি বাড়িয়েছেন বাংলাদেশের সাথে সেখানেও কিছুটা সমস্যা আছে। চুক্তি হঠাৎ বাতিল করলে জটিলতা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। নোটিশ দেওয়ার ব্যাপার থাকে। কিন্তু পরিবর্তন ডট কম এটা বুঝতে পারে যে কেউ পদত্যাগ করতে চাইলে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে আর কাজ না করতে চাইলে তাৎক্ষণিক পদত্যাগ কোনো নতুন ব্যাপার না। না এই বিশ্বে, না ক্রিকেট দুনিয়ায়।

ক্রিকবাজ জানাচ্ছে, গত জুন থেকে আলোচনা চালিয়ে গেলেও হাথুরুসিংহেকে রাজি করাতে পারছিল না লঙ্কান বোর্ড। নানা উপায়ে এগিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে নাকি তারা তাদের সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারার মাধ্যমে হাথুরুসিংহের কাছে দেশ বাঁচানোর অনুরোধ পাঠিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে শ্রীলঙ্কার বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাশলে ডি সিলভা একটি মেইল পাঠিয়েছেন জেসন গিলেস্পি ও জিওফ মার্শকে। তাদের দুজনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করায়। তার মানে, অন্য কারো সাথে তারা একটি জায়গায় পৌঁছেছে সেটা স্পষ্ট। যদিও হাথুরুসিংহের সাথে আলোচনার ব্যাপারে কোনোভাবেই মুখ খোলেনি লঙ্কান বোর্ড।

ক্রিকবাজ আরো জানাচ্ছে, দেশের দায়িত্ব নিলে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়ের প্রধান কোচ হবেন হাথুরুসিংহে। এমনকি দেশটির একজন শীর্ষ খেলোয়াড়ের চেয়েও তার বার্ষিক আয় হবে বেশি। আর শ্রীলঙ্কা দলে এখনকার সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, দিনেশ চান্দিমাল, দিমুথ করুনারত্নে, সুরঙ্গা লাকমালরা হাথুরুসিংহের হাতে গড়া। এই সব খেলোয়াড় হাথুরুসিংহে যখন শ্রীলঙ্কার ‘এ’ দলের কোচ ছিলেন তখন ওখান থেকেই উঠে এসেছেন।

কিন্তু সমস্যা হলো আসলে কি হতে যাচ্ছে বোঝা যাচ্ছে না। বিসিবি মুখ খুলছে না। পরিবর্তন এটাও বুঝতে পারে যে একসময় শ্রীলঙ্কা বোর্ডের সাথে খুব ঝামেলা হয়েছিল হাথুরুসিংহের। অস্ট্রেলিয়ায় অনুমতি নিয়েই কোচিং শিখতে যাওয়ার পরও তিনি চাকরি হারিয়েছিলেন। সেই অভিমান একটা বড় ব্যাপার ছিল অস্ট্রেলিয়াতেই হাথুরুসিংহের স্থায়ী নিবাস বানানোয়। বহুকাল পর এই বছরের গোড়ায় বাংলাদেশ দলকে নিয়ে ৪৯ বছর বয়সী হাথুরুসিংহে শ্রীলঙ্কায় যান। সেখানে আছেন তার মা। সেই সময়ও হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, সহসা শ্রীলঙ্কায় ফেরা তা যে কোনো ভূমিকায় হোক তার জন্য সম্ভব না। কারণ, অস্ট্রেলিয়ায় শেকড় গজিয়ে গেছে! কিন্তু সময়, ভাবনা, পরিকল্পনা পাল্টাতে কি সময় লাগে!