‘দর্শককে আবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে অশ্লীল নাচ-গান, ফাইট সিনের মধ্যে’

বিনোদন
অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশ এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে বিশ্বের ১৭টি দেশে মুক্তি পাচ্ছে তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘হালদা’। এছাড়া কয়েকদিন আগে তিনি ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৭’-তে সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতার পুরস্কার পান। এসব প্রসঙ্গসহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নুরুল করিম
কেমন আছেন?
বেশ ভালো আছি।
‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৭’-তে সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতার পুরস্কার পেয়েছেন। আপনার ভালোলাগার বিষয়টি জানতে চাই—
অজ্ঞাতনামা চলচ্চিত্রটিও উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে। পুরস্কার পেতে সবারই ভালো লাগে, আমিও এই ঘরানার বাইরের কেউ নই। অজ্ঞাতনামা দেশ ও দেশের বাইরেও ব্যাপক প্রশংসনীয়, বিষয়টি আমাকে সবসময় আনন্দিত করে।
আপনার সিনেমাগুলোর প্রচারণা কম থাকে। কিন্তু কেন?
সমস্যাটা বাজেট নিয়ে। আমরা আসলে খুব কম বাজেটের ছবি নির্মাণ করি। আমরা যে ধরনের ছবি চিন্তা করি, যেখানে মানুষের কথা বলা হয়, যেখানে জীবনের কথা বলা হয়, যেখানে তথাকথিত বিনোদন হয়তো কিছুটা কম, তবে অজ্ঞাতনামার মাঝে প্রচুর বিনোদন আছে। কিন্তু প্রচার স্বল্পতার কারণে সেটা সব দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আমাদের এ ছবির তেমন একটা প্রমোশন বাজেট ছিল না বা প্রযোজকরাও প্রচারের জন্য খুব একটা খরচ করতে চান না। একইসঙ্গে আমাদের এখানে প্রচলিত যে ডিস্ট্রিবিউশন আছে তারাও আমাদের ছবিগুলোকে খুব ডিস্ট্রিবিউট করে না। তবে ‘হালদা’ চলচ্চিত্রটির প্রচারণা আমরা ভালোভাবে করবো।
ছবিটি এখন সেন্সর বোর্ডে জমা আছে। আমরা আশা করছি, নভেম্বরের মধ্যেই এটি ভালোভাবে ছাড়পত্র পাবে। আর আমরা বিজয়ের মাসের প্রথমদিন ছবিটি মুক্তি দেবো। হালদা একটি নদীর নাম। হালদা নদী ও সেখানকার প্রান্তিক মানুষের জীবনের চিত্র্যই এর বিষয়বস্তু। দেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এই হালদা নদী। মা মাছেরা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে এখানে ডিম ছাড়ে। এই নদী ও নদীর গতি-প্রকৃতি, নদীর ক্ষয় ও নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনপ্রবাহ ও জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে গল্পে।
অজ্ঞাতনামার মতো ভিন্নধারার চলচ্চিত্রগুলো বাণিজ্যিকভাবে কতটা সফল?
আমি প্রযোজক না। তবুও বলতে পারি, দর্শক প্রশংসিত হলেও বাণিজ্যিকভাবে ছবিগুলো খুব একটা সফলতা পায় না। কারণ এগুলো ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে একটা বড় ধরনের বাঁধা আছে। যারা ছবি ডিস্ট্রিবিউট করেন তারা এ ধরনের ছবি ডিস্ট্রিবিউশন করতেই চান না। কারণ তারা মনে করেন ভিন্নধারার ছবিগুলো তাদের ছবির মতো না। দেখুন, আমি বিশ্বাস করি অজ্ঞাতনামা সাধারণ মানুষের গল্প। হালদাও ঠিক তাই। আর এরমধ্যে সাধারণ মানুষের বিনোদন আছে। কিন্তু সেই সাধারণ মানুষ এ বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছে না। দর্শককে আবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে অশ্লীল নাচ-গান বা প্রথাগত কিছু ফাইট সিন, কিছু কমিক সিনধর্মী প্যাকেজের মধ্যে। এভাবে দর্শকদের অন্ধ করে রাখা হচ্ছে। আর এই জায়গাটাতে আমি খুব দুঃখ পাই। তবে আমার ইচ্ছে, হালদা ছবিটি বাণিজ্যিকভাবেও সফল হোক। এ জন্য পরিবেশনার জন্য অভি কথাচিত্র আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অন্তত অর্ধশতাধিক প্রেক্ষাগৃহে যেন এটি মুক্তি পায় এ ব্যবস্থা করতে চাই।
নির্মাতার পাশাপাশি অভিনেতা হিসেবেও আপনি বেশ প্রশংসিত। কোন কাজটিকে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে করেন?
দুটোই চ্যালেঞ্জিং। সব কাজই করতে হয় চ্যালেঞ্জ নিয়ে। আমি যখন অভিনয় করি তখন চরিত্রকে নিজের মধ্যে ধারণ করি। কি করে ভালোভাবে চরিত্র ফুটিয়ে তোলা যায় সেই চেষ্টাটুকু করি। কিন্তু যখন নির্মাণ করি তখন অনেককিছু চিন্তা-ভাবনা করে নির্মাণ করতে হয়। তবে হ্যাঁ, অভিনয় করার চাইতে নির্মাণ করাটা একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং।