দলে সাকিব না থাকায় ও কলকাতার হারের কারণ হিসাবে যাকে দোষলেন দীনেশ কার্তিক!

ক্রিকেট খেলাধুলা

কি দুর্দান্ত দল চেন্নাই সুপার কিংস! কি দুরন্ত অধিনায়ক! কি ধরনের ম্যাচ উইনিং প্লেয়ার্স! প্রায় ১০৬৫ দিন পর তারা নিজেদের দূর্গে খেলতে নামল, এবং বেশিরভাগ সময়েই মনে হচ্ছিল যে তারা এই ম্যাচটা জিততে পারবে না। কিন্তু স্যাম বিলিংস, ডোয়েন ব্র্যাভো এবং রবীন্দ্র জাদেজা শেষ ওভার পর্যন্ত একজোট হয়ে ছিল এবং আরও একবার একটি রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার তারা জিতে নিল নিজেদের দলের জন্য।

যদিও ২০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু দিকে রাস্তা তৈরির কাজটা করে দিয়েছিলেন শেন ওয়াটসন এবং আম্বাতি রায়ডু যা পরের দিকে হাত বদল করে নেন স্যাম বিলিংস, যিনি মাত্র ২৩ বলে ৫৬ রান করে দলকে জয় এনে দেন।

যদিও টস হেরে কলকাতা নাইট রাইডার্স শুরুটা মোটামুটি ভদ্রস্থই করেছিল। কিন্তু পরে ১০ ওভারে ৮৯/৫ হয়ে গিয়ে তারা রাস্তা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক এবং অ্যান্দ্রে রাসেল ফের ইনিংসের পুনর্নির্মাণ করেন এবং পরে দিকে নৃশংসভাবে ব্যাট করা শুরু করেন।

রাসেলকে থামানো জাস্ট অসম্ভব হয়ে পড়েছিল কারণ তিনি প্রায় প্রতিটি বোলারকেই মাঠের বাইরে ফেলে দিচ্ছিলেন। এবং ১৭ ওভারের মাথায় ডোয়েন ব্র্যাভোর দ্বিতীয় বলে যে শটটা তিনি মারেন তা দিনের সেরা শট, কারণ এটা স্টেডিয়ামের বাইরে গিয়ে পড়ে।তিনি ৩৬ বলে ৮৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন যার মধ্যে ছিল ১১টা ছয় যা অবাস্তবের পর্যায়ে পড়ে। রাসেলের এই ধংসাত্মক ইনিংসের পিঠে ভর করেই কেকেআর তাদের নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান করে। লক্ষ্য তাড়া করতে নামাটাও সিএসকের জন্য স্পেশাল ছিল কারণ তাদের দুই ওপেনার শেন ওয়াটসন এবং আম্বাতি রায়ডু প্রথম উইকেট জুটিতে ৭৫ রান যোগ করেন। যদিও ম্যাচটা প্রায় তাদের হাত থেকেই বেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু তারপরই স্যাম বিলিংস ক্রিজে এসে স্বপ্নের ইনিংস খেলেন এবং তিনিও একটি দিনের সেরা শট খেলেন।

এই রান তাড়া করায় বিলিংসের ১৮ তম ওভারটি সত্যি ম্যাচ বদলে দেয়, কারণ এই ওভারের শেষেই ম্যাচের হিসেবে দাঁড়ায় সিএসকেকে জেতার জন্য শেষ দু ওভারে ২৭ রান করতে হবে। যদিও শেষ ওভারের আগের ওভারে বিলিংস আউট হয়ে যান। ব্র্যাভো শেষ ওভারে একটি বিমারকে ছয়ে রূপান্তরিত করে যখন শেষ ওভারে তাদের দরকার ছিল ১৭ রান। জাদেজা তার নামের অনুরূপই একটি ইনিংস খেলেন এবং ম্যাচ জেতানো শটটি মারেন যখন তাদের জেতার জন্য ২ বলে ৪ চার দরকার ছিল।

ম্যচ শেষে হতাশ দীনেশ কার্তিক জানান, “সিএসকে প্রায় দু বছর পর ফিরে এসেছে এবং আমরা সকলেই তাই আশা করেছিলাম (সাপোর্ট)। ওদের হ্যাটস অফ। তারা খুব ভালো খেলেছে। অ্যান্দ্রে কে হ্যাটস অফ। ও খুব ভালো জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। এগুলো টি২০ ক্রিকেটে হয়েই থাকে।

আপনাকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে এবং সামনের দিকে এগোতে হবে। টি২০তে আপনি ম্যাচ হারতেই পারেন। এটাকে পজিটিভিভাবে নেওয়াটাই জরুরী। পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের এই ভুলগুলোর পুণরাবৃত্তি করা চলবে না। পরের ম্যাচে আমরা ঘরের মাঠে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে খেলব; দুটোই ভালো দল, এবং নিশ্চিতভাবেই এটা খুব ভালো একটা ম্যাচ হতে চলেছে”। আগের আইপিএলগুলোয় সাকিবের উপর কয়েক ম্যাচে দোষ চাপায় কেকেআর ।