দিনের শেষে আমার হৃদয়টা ভেঙে গেছে: তামিম

তামিমের বাঁ হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তাই ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে অন্য আঙুলগুলো একে একে ধরছেন আর কী যেন গুনছিলেন তামিম ইকবাল। গোনা শেষে বললেন এ নিয়ে দুই হাত মিলিয়ে সাতবার চোটে পড়লাম।

অর্থাৎ এই ওপেনারের ইনজুরির ইতিহাসও মাশরাফি বিন মর্তুজার দুই হাঁটুর মতো হতাশার গল্পগাথা হওয়ার পথে। সেই হতাশা কাল দুপুরে ফেস্টিভাল সিটির ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের রেস্টুরেন্টে বসে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বারবার প্রকাশিত হচ্ছিল তামিমের চেহারায় অভিব্যক্তিতে ও কথায়।

হেড কোচ স্টিভ রোডস তাঁর ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে নিষেধ করলেও এক বলের জন্য এক হাতে ব্যাটিংয়ে নেমে যাওয়ার পরদিন দুপুরেও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত তামিম জানালেন ওই বীরোচিত ঘটনার পূর্বাপর।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান আসলে মাথায় তখন এটাই ঘুরছিল যে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ যাই করুক আমি আর তার অংশ হতে পারব না। এই এশিয়া কাপে আমি আর কোনো ভূমিকা রাখতে পারব না। তাই আমার পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব ছিল আমি ঠিক ততটুকুই করেছি।

মনে হয়েছিল এশিয়া কাপে যদি আমার ভাগ্যে মাত্র একটি বলই লেখা থাকে তাহলে ওই বলটিই আমি খেলব না কেন! এটা ছিল ওই সময়ে ব্যাটিংয়ে নেমে এক বল খেলার সবচেয়ে বড় কারণ।

আমি নামার পর ৩২ রান যোগও হয়েছে। দলের জন্য ভালো কিছুই হয়েছে। কিন্তু দিনের শেষে আমার হৃদয়টা ভেঙে গেছে। তিন বলেন আমি ভীষণ হতাশ। আমার ১০-১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মনে হয় না এর চেয়ে বেশি হতাশ আমি কখনো হয়েছি।

একেবারে হার্টব্রোকেন বলতে যা বোঝায় তাই। এশিয়া কাপে এসেছিলাম অনেক আশা নিয়ে। কিন্তু এভাবে ছিটকে পড়াটা দুঃখজনক। কাল রাত থেকেই তাই ভীষণ মন খারাপ করে আছি।

তিনি আরও বলেন এখন যেভাবে মানুষ প্রশংসা করছে অথবা মানুষ এটা নিয়ে দুটো কথা বলছে এসব আমার মাথায় কিছুই ছিল না। এটা পরিকল্পিত কিছু নয়। নাম হবে বলে তো ওই সময়ে ব্যাটিংয়ে নামিনি।

বিষয়টি আমার হৃদয় থেকে এসেছে। আমি শুধু দেশের জন্য কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। সেটা যদি এক বলের জন্যও হয় তাও। আমি তখন অন্য জগতে চলে গিয়েছিলাম।

Comments

comments

Leave A Reply

Your email address will not be published.