‘দেশকে বাঁচানোয় আপনাকে ধন্যবাদ’

আন্তর্জাতিক প্রধান খবর

সিরিয়াকে রক্ষা ও অব্যাহত সমর্থন দেওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ তার মিত্র রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। মঙ্গলবার ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোচির কৃষ্ণসাগর রিসোর্টে সোমবার দু’নেতা মুখোমুখি হয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানেই আসাদ পুতিনকে এই ধন্যবাদ জানান। খবর: রয়টার্স ও আলজাজিরা। পুতিন এবং আসাদ ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই এবং প্রায় ৭ বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সিরিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আসাদ এবং তার দল সংঘাত নিরসনে আগ্রহী। আর এজন্য পুতিন তাকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএ খবর দিয়েছে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, পুতিন এবং আসাদ প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা করেছেন।

বৈঠকে পুতিন সিরিয়ার নেতাকে জানিয়েছেন, তিনি চলতি সপ্তাহেই তুরস্ক ও ইরান এবং সিরিয়া যুদ্ধে জড়িত আরও দুটি শক্তিশালী পক্ষের সঙ্গে মিলিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তার বেশ আগেই আসাদের সঙ্গে আলাপ সেরে নিলেন।

A picture taken on March 9, 2017 in the northern Syrian city of Aleppo, which was recaptured by government forces in December 2016, shows Syrians walking past a giant poster of Syrian President Bashar al-Assad (L) and his Russian counterpart Vladimir Putin

পুতিন আরও জানান, এই বৈঠকের ফলোআপ বিষয়ে তিনি টেলিফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কাতার আমিরসহ মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করবেন।

রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য আমাদের এখনও অনেক পথ যেতে হবে। তবে সিরিয়ায় আমাদের যৌথ সামরিক অভিযান একটি সমাপ্তির পথেই রয়েছে।’

২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আসাদ দ্বিতীয়বারের মত রাশিয়া সফর করলেন। সিরিয়ায় আসাদ বিরোধীদের ওপর হামলা শুরুর পরের মাসেই ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর আসাদ মস্কোতে এসে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

রাশিয়া একমাত্র দেশ যারা সরাসরি সিরিয়ার সরকারকে সমর্থন দিয়ে এই অঞ্চলে প্রক্সি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে।

গত মাসে অলৌকিকভাবে সিরিয়া সরকার কাজাখস্তানের রাজধানীতে বিদ্রোহী গ্রুপের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সিরিয়ার এই গৃহযুদ্ধ নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সিরিয়ার মধ্যে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের সহায়তা চারটি নিরাপদ জোন গড়ে তোলা হয়েছে।

সাত বছরের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আর ১ কোটি ২০ লাখের ওপর মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।