নদীভাঙনে নিঃস্ব লোহাগড়ার এক হাজার পরিবার

অসহায় মানুষদের পাশে আলোচিত সংবাদ

মধুমতির তীব্র ভাঙনে নড়াইলে লোহাগড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী প্রায় এক হাজার পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনই নদী ভাঙনের মূল কারণ। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা। 

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কামঠানা গ্রামের সুবোল মালো। সর্বনাশা নদীভাঙনে সব হারিয়ে নিঃস্ব। হতবাক চোখে বিলিন হওয়া ভিটে-মাটির দিকে তাকিয়ে দিশেহারা।

ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে উঠছে মধুমতি। প্রতিনিয়তই গ্রাস করছে বাড়িঘর, ফসলী জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। হুমকির মুখে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজার। গত একমাসে জয়পুর, লোহাগড়া, শালনগর, কোটাকোলসহ নদী তীরবর্তী ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার বসত-ভিটা হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একজন বলেন, বাড়ি ঘর গাছ গাছালি সব ভেঙে নিয়ে গেছে। এখন থাকার জায়গা পর্যন্ত নেই।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই তীব্র হচ্ছে ভাঙনের মাত্রা।

একজন বলেন, আমাদের কেউ কোন সহযোগিতা করছে না।

নড়াইল লোহাগড়া উয়পুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের হস্তক্ষেপ কামান করছি। তবে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, কারিগরি রিপোর্ট চুড়ান্ত হয়ে গেছে। প্রকল্পটির অনুমোদন ৭২০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে, ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা যাবে।

নড়াইল জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, ইতিমধ্যে কিছু ত্রাণ দিয়েছে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে। আমরা মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করেছি, স্থায়ীভাবে তাদের কোন সহযোগিতা করা যায় কিনা।

মধুমতির তীর ঘেষা নড়াইলের শতাধিক গ্রামে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এরমধ্যে ৩০ টি গ্রাম ভাঙন কবলিত।