পরিবারকে না জানিয়ে প্রেম করে বিয়ে করেছি: প্রসূন আজাদ। হতাশা আর আশার চ্যাট বক্স

বিনোদন

ব্যস্ত শহর। হাজারো স্বপ্নের ভিড়। বেঁচে থাকার শ্রমের ঘ্রাণে আমরা হারাতে বসেছি আমাদের জীবনের নানান অনুষঙ্গ। দিনকে দিন মানুষ অনেক বেশি ডিজিটাল সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদেরই অজান্তে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সম্পর্ক আর সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমগুলোরও নানান নতুন ভাষাভঙ্গি আছে। ডিজিটাল সম্পর্কে ‘চ্যাট’ বা ‘চ্যাটিং’ একটি অতি পরিচিত নাম। প্রেমিক তার প্রেমিকার সঙ্গে, বাবা তার সন্তানের সঙ্গে, বন্ধু তার বন্ধুর সঙ্গে, বস তার স্টাফের সঙ্গে, ভাই তার বোনের সঙ্গে- নানান ধরনের চ্যাটিং করে থাকেন। কিন্তু সেলিব্রেটি আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কেমন চ্যাটিং হতে পারে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের নতুন আয়োজন ‘চ্যাটবক্স’। চ্যাট বক্সে আমাদের আজকের অতিথি জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ। চ্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে আসুন জেনে নেওয়া যাক প্রসূনকে। ময়মনসিংহের ফুলপুরবাড়ির মেয়ে প্রসূন আজাদ। বাবা আজাদ হোসেন। বাবা-মা দু’জনেই পুলিশ অফিসার। তিনি ক্যামব্রিয়ান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। পরে কলেজ পরিবর্তন করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে চলে আসেন। বিটিভির ‘নতুন কুঁড়ি’র মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পথচলার শুরু। ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১২’ প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ হয়ে মূলত শোবিজে লাইমলাইটে আসেন এই অভিনেত্রী। এই পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে মুক্তি পেয়েছে ‘অচেনা হৃদয়’ ও ‘সর্বনাশা ইয়াবা’ নামে দুটি চলচ্চিত্র। ‘মৃত্যুপুরী’ নামে একটি আরো চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার। তবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের চেয়ে টিভি পর্দাতেই ছিল তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

১৩ অক্টোবর দুপুর

প্রিয়: শুভ দুপুর…

প্রসূন: শুভ দুপুর…কপি পেস্ট করলাম…হা হা হা..

প্রিয়: কী করছেন…

প্রসূন: সেলাই করছি…

প্রিয় : কী সেলাই করছেন?

প্রসূন: হাবিজাবি, বাদ দেন।

প্রিয়: দিলাম বাদ। আজ শুটিং ছিল না?

প্রসূন: আমিতো শুটিং করি না। শেষ শুটিং ছিল মে মাসে। তারপর আর শুটিং করিনি। কেউ ডাকলেও যাইনি। আড্ডাবাজিও বন্ধ।

প্রিয়: পুরোপুরি সংসারি…

প্রসূন: হুম…স্বামীহীন সংসার।

প্রিয়: মজা তো…একটা কথা আছে না ‘স্বামী বিদেশ’ বিষয়টি কি সেরকম কিছু।

প্রসূন: আমাদের সম্পর্কটা আগের মত নাই। আমি সরকার জি’কে আগে যেমন ভালোবাসতাম এখনও তেমন ভালোবাসি। সম্পর্কটা নাই। সে তার মতো আমি আমার মতো আছি।

প্রিয়: খুব খারাপ…

প্রসূন: আল্লাহ হুকুম করলে হয়তো একদিন দেখা হবে।

প্রিয়: সেই প্রত্যাশা করি। সময় সব ঠিক করে দেবে…

প্রসূন: হা হা হা হা হা হা…সময় সব সময় সব ঠিক করে না। সময় মাঝে মধ্যে ক্ষত বাড়ায়। আমার ক্ষত বেড়ে গেছে।

প্রিয়: কিন্তু সময় সহ্য ক্ষমতা বাড়ায়…

প্রসূন: অ্যাগ্রি

শুটিং না থাকলে ঘরেই কাটে প্রসূনের অলস সময়। ছবি: সংগৃহীত।

প্রিয়: আপনি কী খুব ভেঙে পড়েছেন…

প্রসূন: জ্বি, আপনি বুঝতে পারলেন কীভাবে?

প্রিয়: আপনার কথায় ভেঙে পড়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এতটা ভেঙে পড়বেন আশা করিনি…

প্রসূন: মানুষের একটা দুইটা জিনিস হারায়। আমি সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। ব্যাপার না। আমি শিগগিরেই কামব্যাক করবো। ঠিকঠাক হয়ে যাব। আব্বু আম্মুর জন্য এখনো অনেক কিছু করার বাকি। শিশুস্বর্গেতে আরো টাইম দেওয়া দরকার ছিল। অনেক ভুল ছিল আমার। এখন বুঝতে পারি।

প্রিয়: আমি মনে করি ভুল না। এটা আসলে হয়তো হবার কথা ছিল। বা আপনি হয়তো অন্য সবার মত হলে বিষয়গুলো এমন নাও হতে পারত তাই নয় কী…

প্রসূন: জানি না স্যার…আমি একটা স্টুপিড…এটাই আমি জানি।

প্রিয়: আপনি যে ঘরে ঘুমান সে ঘরে কি বড় আয়না আছে?

প্রসূন: আছে…

প্রিয়: আয়নার সামনে দাঁড়ালে কী ওপাশ থেকে কেউ বলে উঠে আপনি একটা স্টুপিড…

প্রসূন: না। আয়না কিছু বলে না। আয়না আমাকে স্যালুট দেয়।

প্রিয়: তাহলে কেন নিজেকে স্টুপিড বলছেন। সময়ের নোংরা দাগ গায়ে মাখছেন…

প্রসূন: আমি এখন খারাপ ভালো বলা ছেড়ে দিয়েছি। নোংরা পরিষ্কার এসব আর বুঝি না। নিজের ভেতর থাকি। বাহিরে বের হই না। ভালোবাসি ছবি আঁকতে আর গান।

প্রিয়: জীবন তো সামনে , আপনি পেছনের দরজাটা খোলা রেখে ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে আছেন। সামনে তাকান…

প্রসূন: এইটা সবাই বলে। আব্বু আম্মু সব বন্ধুরা। হা হা হা। আজকে আপনিও বললেন। আমি কী বোরিং?

প্রিয়: আপনার বাবা-মা বা পরিবারের চেয়ে আপন কেউ হতে পারে না। সবাই আপনাকে সামনেই তাকাতে বলবে। কারণ জীবন সামনে..আপনি বোরিং না…

প্রসূন: জ্বী, ঠিক বলেছেন।

প্রিয়: আপনি মনে হয় রাগ করলেন।

প্রসূন: রাগ করার মত কিছু বললেন নাকি?

প্রিয়: মন খারাপের কথা বাদ। আচ্ছা বলুন কার গান বা কি টাইপ গান শুনতে ভালো লাগে। বলছিলেন একটু আগে।

প্রসূন: গান ভালো লাগে, ফোক মিউজিক, ওয়েস্টার্ন সব।

প্রিয়: কোনো প্রিয় শিল্পী বা যে গান গুন গুন করে গাইতে থাকেন…

প্রসূন: ‘তুমি জান না রে প্রিয়, তুমি মোর জীবনের সাধনা’। এটা কার গান জানি না। সারাদিন গাইতেই থাকি।

প্রিয়: এটা বিজয় সরকারের গান। হৃদয়ে এত ব্যথা জমিয়ে রেখেছেন।

প্রসূন: হা হা হা হা…

প্রিয়: রঙিন বেলুনে বেঁধে সব বেদনা উড়িয়ে দিতে পারেন কিন্তু…

প্রসূন: আচ্ছা দেব।

প্রিয়: অভিনয় নিয়ে আপনার এখনকার প্ল্যান কী। দীর্ঘদিনের বিরতি কবে ভাঙবেন…

প্রসূন: এই একটি জায়গায় আমি কোনোদিন ছাড় দিতে পারব না। এবার পুরোপুরি মনোযোগ থাকবে। স্বামী বিদেশ অধ্যায় ক্লোজড।

প্রিয়: মানে আপনি অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছেন শিগগিরই…

প্রসূন: ইনশাআল্লাহ, ২০১৮ সাল থেকে ইচ্ছে আছে ফুল টাইম কাজ করার। অনেক কাজ হয়তো হবে না। কিন্তু কাজ করবো করতে চাই।

প্রিয়: বাহ ভালো খবর। কাজই তো মুক্তি, কাজই আনন্দ…

প্রসূন: সত্যিই তাই। কাজেই মুক্তি।

প্রিয়: আপনার বাবা মা দু’জনই তো পুলিশে আছেন।

প্রসূন: জ্বী।

বাবার সঙ্গে প্রসূন। ছবি: সংগৃহীত।

অক্টোবর ১৪ 

প্রিয়: শুভ সকাল

প্রসূন: শুভ সকাল

প্রিয়: পুলিশের সন্তান হয়ে এত নরম আপনার মন…

প্রসূন: পুলিশের মন কি নরম হয় না?

প্রিয়: হয়, তবে সাধারণ মানুষের থেকে একটু আবেগ কম থাকে তাদের। এটা আমরা ব্যক্তিগত ধারণা।

প্রসূন: আমরা সবাই সাধারণ।

প্রিয়: হুম। ছবি আঁকতে ভালো লাগে বলছিলেন। কী ধরনের ছবি আঁকেন…

প্রসূন: আমিতো ধরণ বুঝি না। আঁকি। যখন যেমন মন চায়।

প্রিয়: শিল্পীর মন বলে কথা। কতগুলো ছবি জমিয়েছেন।

প্রসূন: গুনিনি। ৩০ থেকে ৪০টা তো হবেই। কিছু দেশে। কিছু সিডনিতে আঁকা।

প্রিয়: গুড। এক্সিবিশন করবেন। কিসের ছবি আঁকেন। প্রকৃতি, ফেস, সম্পর্ক , মুহূর্ত, ফিগার, প্রাণী, মানুষ…

প্রসূন: সবই আঁকি। কিছু বুঝা যায়, কিছু বুঝা যায় না। আর এ্যাক্সিবিশন? আর্টিস্ট তো হই আগে। মাত্র তো রং হাতে নিলাম।

প্রিয়: কোন রঙের প্রাধান্য থাকে ছবিতে…

প্রসূন: রং? আমার তো সব রংই পছন্দ। আলাদা করে বলার মত নাই। সবই পছন্দের, অ্যাক্রলিক কালার ব্যবহার করি। ওয়াটার কালার আমার জন্য টাফ।

[গানটির লিঙ্ক দেন প্রসূন]

প্রিয়: ‘কালিয়া সোনা রে’ গানটা, আমার খুব পছন্দ। বন্ধুরা আড্ডা দিলে দল বেধে গাই…

প্রসূন: হাইফাইভ…আমারও পছন্দ।

প্রিয়: কালিয়া সোনার সঙ্গে কতদিনের প্রেম ছিল।

প্রসূন: কে হেমলক? হেমলক এখনো অজানা। প্রতিদিন খুঁজি।

প্রিয়: হেমলককে এখনো পাননি…

প্রসূন: খুঁজিনি।

প্রিয়: কি বলেন এই পুরুষময় শহরে…

প্রসূন: আল্লাহ কেন জানি গেইমটা প্যাঁচাচ্ছে। মরে যাওয়ার আগে দেখা পেলেই খুশি হব। নইলে ওপারে দেখা হবে। হা হা হা। লোকজন ভাববে আতলামি কথাবার্তা বলছি।

প্রিয়: হেমলক তো আপনার কল্পনার পুরুষ, বাস্তবে যে পুরুষরা এসেছিল আপনার জীবনে তাদের কথা জানবার মন চায়…

প্রসূন: বাস্তব? বাস্তব কঠিন…

প্রিয়: কেমন কঠিন…

প্রসূন: হেমলকের মত

প্রিয়: যেমন

প্রসূন: বিষের মত কঠিন ও সুন্দর।

প্রিয়: যদি ডিটেইল বলতেন…

প্রসূন: আমার আর আগ্রহ নাই। প্রেম, বিয়ে, পুরুষ, ভালোবাসা, সেক্স। আগের মত নাই অনেক কিছু। আমি হয়তো বেশি ডেসপারেট।

প্রিয়: প্রেম, বিয়ে, পুরুষ, সেক্স এর আগ্রহ হারালেন কেন। প্রেম হারালে তো অন্য সব এমনিতেই হারিয়ে যায়…

প্রসূন: টপিকটা আমার জন্য খুবই সেনসেটিভ। লাস্ট তিন মাসে আমার থেরাপিস্ট আমাকে যথেষ্ট সুস্থ করেছেন। এই টপিকটা বাদ দেই আমরা।

যেন পাশের বাড়ির মেয়েটি। ছবি: সংগৃহীত।

প্রিয় ওকে বাদ। তার মানে আপনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

প্রসূন: এখনো। মেডিসিনও। আরো দুই মাস নিতে হবে।

প্রিয়: মূলত কিসের চিকিৎসা করাচ্ছেন…

প্রসূন: মেন্টাল, হা হা হা

প্রিয়: সত্যি? আপনি মজা করছেন…

প্রসূন: সত্যি

প্রিয়: এটা কি শুধু প্রেম আর স্বামীর কারণে হয়েছে নাকি অন্য আরো কিছু বিষয় আপনাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল…

প্রসূন: অনেক কিছুই যুক্ত আছে। আমার ছোটবেলা থেকে বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত। প্রেম, লুকিয়ে বিয়ে, পরিবারকে না জানানো।

প্রিয়: আপনাকে যে শিল্পী সমিতি নিষিদ্ধ করেছিল সেটা কী কোনোভাবে প্রভাব ফেলছে…

প্রসূন: নিষিদ্ধ করার পরও কিন্তু আমি চলচ্চিত্রে ও শর্ট ফিল্মে কাজ করেছি। ওটা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। আল্লাহ আমাকে আটকায়নি।

প্রিয়: তার মানে আপনার প্রেম আপনাকে প্যারা দিয়েছে খুব।

প্রসূন: জ্বী। আমি আমার কাজের জায়গায় প্রেম এর তুলনায় কম সময় দিয়েছি। এইটার শাস্তি পেয়েছি। সংসার করার স্বপ্ন ছিল।

প্রিয়: শাস্তি কেন বলছেন। যা কিছু ঘটে সব কিছুতো আসলে অভিজ্ঞতা। জীবনকে সম্মৃদ্ধ করে। সুন্দর করে। সংসার করার বয়স তো আপনার চলে যায়নি। প্রেম বহুবার আসে জীবনে। সো আনন্দ করেন।

প্রসূন: আমাকে দিয়ে আর হবে না। এক মন আর কয়জনকে দেওয়া যায়।

প্রিয়: হা হা হা…এটা একটা ভুল ধারণা। আমার কাছে মনে হয় ভালোবাসা আসলে একটা শক্তির মত, যার ক্ষয় হয় না। শুধু এক রূপ থেকে আরেক রূপে রুপান্তর হয়।

প্রসূন: সুন্দর বলেছেন।

১৬ অক্টোবর

প্রিয়: ‘প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে আমারই এ দুয়ার প্রান্তে, সে তো হায় মৃদু পায় এসেছিল পারি নি তো জানতে’…বিষয়গুলো এই গানের মতো না। প্রেম বহুবার আসে জীবনে এবং তা প্রকাশেই…

প্রসূন: এখনো আলো আসে গানটা পাঠাচ্ছি…

প্রিয়: শুনলাম সুন্দর গান। ও হ্যাঁ, আজ তো রুদ্রর জন্মদিন। এই গানটা শুনতে পারেন। আমার কাছে মনে হয় জীবন তো একবার, প্রেম বারবার…

https://youtu.be/8RvuVWOV0OY

প্রসূন: জীবন তো একবারই…প্রেম বারবার…

প্রিয়: আপনার কি দ্বিমত রয়েছে?

প্রসূন: না, কোনো দ্বিমত নাই।

প্রিয়: চলেন প্রসঙ্গ পাল্টাই। আচ্ছা অভিনয় করতে করতে কখনো কী এমন হয়, কোনটা ব্যক্তি জীবন আর কোনটা অভিনয়ের জীবন আলাদা করাটা কঠিন হয়ে পড়ে…

প্রসূন: না। আমি কখনো ক্যামেরার বাইরে অভিনয় করতে পারি না। এটাই আমার জন্য বড় সমস্যা।

প্রিয়: বাস্তব জীবনেও তো আমাদের প্রতিনিয়ত অভিনয় করতে হয়…

প্রসূন: আমি পারি না

অক্টোবর ১৭

প্রিয়: কই

প্রসূন: ঘুম।

প্রিয়: ঘুম ভাঙল কি

প্রসূন: আমি পাঁচটায় উঠি। ফজরের নামাজ পড়ি।

প্রিয়: বাহ, বাংলাদেশের একজন নায়িকা পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠে! কী বলেন। তারপর কী করেন। 

প্রসূন: কুরআন পড়ি।

প্রিয়: খুব ভালো খবর। দিন শুরু হয় তাহলে এভাবেই…

প্রসূন: তারপর ইয়োগা করি। আম্মু অফিসে যায় ৯টায়। ঘরের কাজে আম্মুকে হেল্প করি। কাজের লোক নেই আমাদের।

সময় আর জীবন মানুষকে বদলায় প্রতিনিয়ত। ছবি: সংগৃহীত।

প্রিয়: কাজ না থাকলে সারাদিন কীভাবে কাটান…

প্রসূন: ঘরের কাজ করি।

প্রিয়: অভিনয়ের গল্প শুনতে চাই। অভিনয় নিয়ে কি ভাবেন। বাংলাদেশের অভিনেতা অভিনেত্রীদের সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী

প্রসূন: কঠিন টপিক। আমাদের আর্টিস্টরা খুব ট্যালেন্ট। খুব অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে হয় আমাদের। দুদিনে ৪০ মিনিটের নাটক বানানো হয়। পৃথিবীর আর কোথাও এমন হয় কিনা আমার জানা নেই। আমি মূর্খ মানুষ। আমার মনে হয়- আমার দেশের আর্টিস্টরা ট্যালেন্ট, কিন্তু কাজের জায়গা, স্ক্রিপ্ট, সং, অনেক কিছুর সাথে আমরা খারাপ ভালো করে কাজ করে যাচ্ছি।

প্রিয়: শিল্পী সমিতি কি একজন শিল্পীকে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখতে পারে?

প্রসূন: আমি শিল্পী হতেই পারিনি এখনো। সো কোনো কষ্ট নাই।

প্রিয়: আপনার মতে শিল্পী হতে কি কি যোগ্যতা লাগে।

প্রসূন: পৃথিবীর বড় বড় আর্টিস্টরা যেসব যোগ্যতা রাখে। কয়েকদিন আগে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরা কেমন জানি। আল্লাহ ওদের স্পেশালভাবে বানিয়ে পাঠিয়েছে।

প্রিয়: হুম। আপনার অভিনয় জীবন নিয়ে নেক্সট প্লান কী? দুইটা সিনেমা আপনার বাজারে আছে। অসংখ্য নাটক টেলিছবিও আছে।

প্রসূন: কোনো প্লান নেই। আমি জাস্ট ওয়েট করছি। ইয়ং ফিল্মমেকাররা ভালো স্টোরি নিয়ে কাজ করবে। সেজন্য ওয়েট করছি।

প্রিয়: এখন যারা আছেন তারা কি পারবেন না…

প্রসূন: অবশ্যই পারছেন। নইলে একের পর এক সিনেমা রিলিজ হচ্ছে কীভাবে।

প্রসূন অভিনীত নাটকের একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত।

প্রিয়: আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কি কি সংকট আছে বলে আপনি মনে করেন…

প্রসূন: দেখেন গল্প আর গল্পের গাঁথুনিটা জানা থাকলে অনেকটা কাজ হয়ে যায়। আমি মূর্খ, বুঝি কম। আমার কাছে সংকট মনে হয় না। মনে হয় সুযোগ পাচ্ছে না অনেকেই। আমার বিশ্বাস ভালো ফিল্ম মেকার আছে। শুধু সুযোগটা হচ্ছে না।

প্রিয়: কেন হচ্ছে না…কি সমস্যা…

প্রসূন: আল্লাহ জানে।

প্রিয়: আপনার কিছু প্রিয় সিনেমার নাম শুনতে চাই, যা বার বার দেখতে মন চায়

প্রসূন: বিপদে ফেলে দিয়েন না। আমি যা পাই তাই দেখি।

প্রিয়: গুড। কখনো কি মনে হয়েছে আহারে এই ক্যারেক্টারটা যদি আমি করতে পারতাম…

প্রসূন: না। নিজের কাজ দেখে মনে হয়েছে যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম। শিখিনি অভিনয়। নিজের চেষ্টায় আর সবার সাহায্য ছিল। থিয়েটারে যখন নাটক দেখি তখন মনে হয় মঞ্চে কাজ করলে শিখতে পারতাম অনেক কিছু। কিন্তু সময় দিতে হয় অনেক।

প্রিয়: জীবনের সব কিছুই তো সময় ডিমান্ড করে…

প্রসূন: জ্বী…

প্রিয়: আপনি তো রান্না করতে পারেন…

প্রসূন: রান্না বান্না আমাকে দিয়ে হয় না। আমি পারি না। বিরিয়ানি খিচুরি, ইলিশ রান্না। মাছ তরকারি এসব রান্না করতে পারি না। ওগুলোও শিখছি, কারণ আম্মু অফিসে থাকলে খেতে ইচ্ছে করলে বানিয়ে খাওয়া যায়।

প্রিয়: বাহ…আপনার শৈশব তো খুব দুরন্তপনার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে…

প্রসূন: কেন…

প্রিয়: মনে হচ্ছে। বাবা মা সরকারি চাকরি করলে জেলায় জেলায় বেড়ানো যায়। অনেকগুলো স্কুল কলেজে পড়া হয়। অনেক বন্ধু থাকে। থাকে অনেক প্রেমিকও…

প্রসূন: আমি ঢাকাতেই ছিলাম আম্মুর সাথে। প্রেম অনেক হয়নি। প্রথম প্রেম ক্লাস এইটে। সেটা শেষ হল এইচএসসিতে। মাঝে কিছু হাবিজাবি সময় গেছে। সরকার’জির সঙ্গে প্রেমটা বাদ দিই।

প্রিয়: ও আচ্ছা সরকার’জির নামটাই তো জানা হল না…

প্রসূন: মোহাইমিন সান।

প্রিয়: আপনি তাকে সরকার’জি ডাকেন কেন…

প্রসূন: ওর বংশ পদবি। ময়মনসিংয়ে সরকার বাড়ি নামে পরিচিত ওদের বাড়ি। আমার কাজিন।

প্রিয়: হুম। আপনাদের কি ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে…

প্রসূন: ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর হবে।

প্রিয়: আপনারা কি সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন না?

প্রসূন: ডিভোর্সটা আমার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। সরকার জি যদি ডিভোর্স করে ভালো থাকেন সেখানে আমার কি বলার থাকে? এখনও কিছু সময় আছে। আল্লাহ যদি তার সিদ্ধান্ত পাল্টায় আমি হয়তো অনেক সুখী হব।

প্রসূনের প্রিয় সরকার জি-বয়ফ্রেন্ড। ছবি: সংগৃহীত।

প্রিয়: হুম, দীর্ঘশ্বাস। যে যায় তার যাবারই কথা। বাট সে যদি সত্যি সত্যি আপনাকে ভালোবাসে তাহলে যাবে না।

প্রসূন: যাবে, হয়তো ফিরে আসবে। কিন্তু তখন হয়তো দেরি হয়ে যাবে। বাদ দেন। যা হবার হবে। আপনি কেমন আছেন? মন মেজাজ ভাল?

প্রিয়: আমি ভালো আছি। কিছু প্যারা তো জীবনে সব সময় থাকবেই। একজন মানুষ এক জীবনে সবাইকে খুশি রাখতে পারে না। জীবন এক অদ্ভুত রহস্য। ধরুন যে মানুষটিকে আপনি খুব ঘৃণা করেন, দেখা গেল সেই মানুষটির জন্য অন্য একটি মানুষ জীবন দিতে প্রস্তুত। এটাকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন।

প্রসূন: জ্বী, সত্যি। তবে খুব সহজে আমি কাউকে ঘৃণা করি না। আমি জাহিদ হাসান ও আরশাদ আদনান ছাড়া কাউকে ঘৃণা করি না। আস্তে আস্তে ওনাদের নামটাও কাটা পড়বে। আমি যখন অ্যাডাল্ট হব।

প্রিয়: ওনাদের কেন ঘৃণা করেন…

প্রসূন: ওনাদের সঙ্গে আমার বাজে স্মৃতি আছে তাই।

প্রিয়: হুম। আচ্ছা আপনি বলছিলেন ক্লাস এইটের প্রেমটা এইচএসসিতে ভেঙে যায়। এর কারণ কী?

প্রসূন: ড্রাগস…

প্রিয়: ড্রাগস নেওয়ার কারণে প্রেমিককে ছেড়ে দিলেন। তাকে তো সংশোধনের সুযোগ দিতে পারতেন। আর মিডিয়ার মানুষদের বিরুদ্ধে ড্রাগস নেওয়ার অভিযোগ আছে। এ বিষয়টা আপনি কীভাবে দেখেন…

প্রসূন: সে ড্রাগ ডিলার ছিল। জেল থেকে এসেও শুধরায়নি নিজেকে। মেরে আমাকে রাস্তায় ফেলে রাখছিল। তখন আমি সুইট সিক্সটিন গার্ল। দেখা হলে সব বলব।

প্রিয়: ও আল্লাহ…

প্রসূন: বিরাট ইতিহাস…ঐটা প্রথম ভালোবাসা ছিল। আমার প্রথম ভালোবাসা অনেক কালারফুল ছিল। সেজন্যই হয়তো অভিনেত্রী হতে পেরেছি, হবার চেষ্টা করছি।

প্রিয়: জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতা তাহলে আপনাকে অভিনেত্রী বা শিল্পী হতে সহায়তা করেছে বলতে চাচ্ছেন।

প্রসূন: শতভাগ…

নাটকের দৃশ্যে প্রসূন। ছবি: সংগৃহীত।

প্রিয়: আচ্ছা জীবন আর মৃত্যু নিয়ে আপনার ভাবনা কী…

প্রসূন: জীবন সুন্দর, মৃত্যু হয়তো আরো সুন্দর।

প্রিয়: ভালোবাসার সংজ্ঞা…

প্রসূন: ভালোবাসা পাগলামি…ভালোবাসা সম্মান, ভালোবাসা ফ্যামিলি।

 প্রিয়: আপনি যাকে ভালোবাসেন শুধু কি তার ভালো গুণটাই ভালোবাসেন?

প্রসূন: না। খারাপটা আগে বেশি ভালোবাসি। খারাপটা দেখেই প্রেমে পড়ি। আমি একটু ডেভিল আছি।

 প্রিয়: আপনার কাছে কি মনে হয় খারাপ মানুষ বলে কিছু আছে।

প্রসূন: আছে। ইচ্ছে করে যারা খারাপ হয়।

 প্রিয়: আপনার কাছে ভালো খারাপের সংজ্ঞা কী…

প্রসূন: সরি, আমি ভালো খারাপ বলাই ছেড়ে দিয়েছি।

প্রিয়: কেন…

প্রসূন: কাউকে ভালো মনে হয় না, আবার খারাপও মনে হয় না। মনে হয় সবাই আমার মতো পরিস্থিতির শিকার।

প্রিয়: আমারও তাই মনে হয়। প্রতিটি মানুষ আসলে তার আশপাশের ঘটনা প্রবাহ এবং সময় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়..

প্রসূন: জ্বী।

প্রিয়: যে কাজটি না করে মরতে চান না।

প্রসূন: আমার পরিবারকে আমি হ্যাপি দেখতে চাই। আর একটা ঠিকঠাক সিনেমায় অভিনয় করতে চাই। তারপর মরে গেলে আফসোস থাকবে না।

প্রিয়: আপনার খারাপ গুণ কি কি

প্রসূন: আমার খারাপ গুণ আমি আমার রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না। আর কোনো খারাপ গুণ নেই আমার মাঝে।

প্রিয়: অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করেন না পাশ কাটিয়ে চলে আসেন…

প্রসূন: অন্যায়ের প্রতিবাদ করি বলেই আমি নিষিদ্ধ নায়িকা। একবছর আমাকে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

[এরপরও চলতে থাকে চ্যাটবক্সের আড্ডা। কথা হয় আরো আরো প্রসঙ্গ নিয়ে। প্রসূন সদা হাসিমুখ নিয়ে বেঁচে থাকুক তার স্বপ্নের রাজ্যে।] 

দীর্ঘদিন পর শুটিংয়ে ফিরে প্রিয়’র ক্যামেরায় ধরা দিলেন প্রসূন। ছবি: আবু সুফিয়ান জুয়েল