পাকিস্তানের আকাশ বন্ধ, বিরাট লোকসানের মুখে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়া

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের সীমান্তরেখা পেরিয়ে বালাকোটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলার পর দেশটির আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে ভারতীয় বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া।

এয়ার ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহার করতে না পারার কারণে ইতিধ্যেই প্রায় ৬০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার।

যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার জন্য সাধারণত বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর এবং বোয়িং ৭৭৭-২০০এলআর বিমান চালায় এয়ার ইন্ডিয়া। জ্বালানি ভরার জন্য মাঝে অবতরণ এবং অনেকটা পথ ঘুরে যাওয়ার জন্য আমেরিকা পৌঁছতে নির্ধারিত সময়ের থেকে ৪ ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউরোপ ও উত্তর যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানগুলোর ক্ষেত্রেই সমস্যা বেশি হচ্ছে। বিমানগুলো পশ্চিমের দেশগুলোতে যেতে গেলে অনেকটা পথ ঘুরতে হচ্ছে। ফলে সময়ও বেশি লাগছে এবং খরচও বাড়ছে।

ভারত থেকে যেসব বিমান ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এবং শিকাগো যাচ্ছে সেগুলোকে গুজরাট হয়ে আরব সাগর পেরিয়ে যেতে হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, দূরগামী বিমানগুলোর ক্ষেত্রে জ্বালানি ভরার জন্য মাঝে অন্তত একবার অবতরণের প্রয়োজন পড়ে। পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহার করতে না পারার কারণে জ্বালানি ভরার জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপগামী বিমানগুলোকে শারজা অথবা ভিয়েনায় অবতরণ করাতে হচ্ছে। এতে বেশি খরচ পড়ছে।

এদিকে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রত্যেকটি অবতরণের জন্য গড়ে ৫০ লাখ টাকা করে খরচ হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে তাদের।

জ্বালানির জন্য আপাতত দুটি বিমান মাঝপথে অবতরণ করবে। বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপগামী বাকি বিমানগুলোর জ্বালানি ভরা হবে মুম্বাই থেকেই।

পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহার করতে না পারার জন্য ইউরোপগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ৭৮৭-৮০০ ড্রিমলাইনার পরিষেবাও মার খাচ্ছে। এতে বার্মিংহাম ও মাদ্রিদে যাওয়ার বহু ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। যে বিমানগুলোগুলো যাচ্ছে সেগুলো নির্ধারিত সময়ের দু’ঘণ্টা পরে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাচ্ছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।