পুরোনো রূপে ফিরবেন মোস্তাফিজ, আশা ওয়াকারের

ক্রিকেট খেলাধুলা প্রধান খবর

ওয়াকার ইউনিসের স্মৃতিতে ম্যাচটা ভালোভাবেই থাকার কথা। ২৪ এপ্রিল ২০১৫, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ সিরিজের টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হলো ২০ বছর বয়সী মোস্তাফিজুর রহমানের। ২০ রানে ২ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেকটা স্মরণীয় করে রেখেছিলেন বাঁ হাতি এ পেসার। ওয়ানডের পর সেবার বাংলাদেশের কাছে টি-টোয়েন্টিও হারল পাকিস্তান।

কোচ হিসেবে ওয়াকারের বাংলাদেশ সফরটা যে ভীষণ বাজে হয়েছিল, আজ ঢাকায় পা রেখে সে কথাই বললেন পাকিস্তানের এ বোলিং কিংবদন্তি, ‘ওই সফরটা আমার জন্য ভালো ছিল না। তবে আবারও এসে ভালো লাগছে।’
ওয়াকার এবার এসেছেন বিপিএলের দল সিলেট সিক্সার্সের পেসার অন্বেষণ কর্মসূচিতে। কদিন আগে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করেছে এই কর্মসূচি। চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পাওয়া বোলারদের মধ্য থেকে সেরাদের নির্বাচন করবেন ওয়াকার। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কাজ করতে এলেও পাকিস্তানের সাবেক কোচ কথা বললেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে। তাঁর কথায় উঠে এল মোস্তাফিজ প্রসঙ্গ।

বাংলাদেশে এসে মোস্তাফিজের ব্যাপারে আশাবাদ জানালেন ওয়াকার। ছবি: এএফপি

আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেই যিনি শুধু বিস্ময় উপহার দিয়েছেন, তাঁকে সেই আগের ছন্দে দেখা যাচ্ছে কোথায়! দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের অন্য বোলারদের মতো মোস্তাফিজও মেলে ধরতে পারেননি নিজেকে। চোটে পড়ে পরে তো ওয়ানডে সিরিজই খেলতে পারলেন না ২২ বছর বয়সী এই পেসার। শুরুর ধারটা এখন না দেখা গেলেও ওয়াকারের আশা শিগগিরই দেখা যাবে আগের মোস্তাফিজকে, ‘মোস্তাফিজ দ্রুত দৃশ্যপটে এসেছে। তার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। তবে নিজের উন্নতি করতে হবে। তা না হলে অন্যরা আপনাকে ধরে ফেলবে। এখনকার ক্রিকেটাররা অনেক স্মার্ট। নিজের যদি উন্নতি না হয়, যদি কঠোর পরিশ্রম না করেন, আপনাকে ভুগতে হবে। সব খানেই এটা দেখা যাচ্ছে। মোস্তাফিজ বিরাট প্রতিভা, সন্দেহ নেই। সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো খেলেছে, আইপিএলে ভালো করেছে। আমি নিশ্চিত, আবারও সেই একই মোস্তাফিজকে দেখা যাবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ কেন টানা ব্যর্থ, সে প্রসঙ্গও নিয়েও কথা বললেন ওয়াকার। প্রোটিয়াদের কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেসাররা কেন ভালো করতে পারলেন না, ওয়াকার সেটির বিশ্লেষণ করলেন এভাবে, ‘আপনি যদি আগ থেকেই অভ্যস্ত না হন, দক্ষিণ আফ্রিকা কন্ডিশন ফাস্ট বোলারদের জন্য সহজ হবে না। দুই টেস্ট খেলেই ওই কন্ডিশনে ভালো করা যায় না। সেখানে মানিয়ে নিতে ওই কন্ডিশনে দীর্ঘদিন খেলতে হবে।’ দেশের বাইরে ভালো করতে বাংলাদেশকে বিদেশের মাটিতে বেশি ম্যাচ খেলার পরামর্শও দিয়েছেন ওয়াকার।

সূত্র: প্রথম আলো