প্রধান সমস্যা ডট বল বাংলাদেশ ক্রিকেটে দলের -কেপলার ওয়েসেলস

ক্রিকেট খেলাধুলা

শেষের ঝড় তোলার জন্য গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কাইরন পোলার্ডের মতো কোনো ব্যাটসম্যান নেই বাংলাদেশের। মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো নেই একজন এবি ডি ভিলিয়ার্স। মনে করা হয়, বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ করতে না পারার কারণ বিগ হিটারদের অভাব। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক কেপলার ওয়েসেলস মনে করছেন, মূল সমস্যা এটা নয়। বাংলাদেশকে ভোগায় ব্যাটসম্যানদের বেশি ডট বল খেলা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডেতে দেড়শর বেশি করে ডট বল খেলে বাংলাদেশ। অর্ধেকের বেশি বল এভাবে নষ্ট করা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কোনোভাবেই সহায়ক নয়। ওয়েসেলস মনে করেন, দলকে ভালো সংগ্রহ এনে দিতে ব্যাটসম্যানদের এক-দুই নিয়ে রানের চাকা সচল রাখার কৌশল আয়ত্ত করতে হবে।

“বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের শটের অভাব নেই। ওরা প্রচুর শট খেলতে পারে। প্রায় সবাই আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। তারপরও দলের সংগ্রহ বড় না হওয়ার কারণ হল, ওরা অনেক ডট বল খেলে। বাউন্ডারি অন্য যে কোনো দলের মতোই হাঁকাতে পারে। পিছিয়ে পড়ে সিঙ্গেলস-ডাবলস নিতে না পারায়।

ওয়েসেলস সমস্যা সমাধানে গ্যাপ বের করার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

“প্রতিটা বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর চেষ্টা করার দরকার নেই। বাজে বল অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। তবে অন্য বলে গ্যাপ বের করার চেষ্টা করতে হবে। সফট হ্যান্ডে খেলে সিঙ্গেলস বের করে নিতে হবে। প্রান্ত বদল করে খেলতে হবে। সব সময়ই বোলারের ছন্দ নষ্ট করার চেষ্টা করে যেতে হবে।

১০ উইকেটে হারা প্রথম ম্যাচে ১৫৮টি ডট বল খেলে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে ডট বল ছিল ৮৯টি। ১০৪ রানে হারা দ্বিতীয় ম্যাচে মাশরাফির দল খেলে ১৫১টি ডট বল। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে ডট বল ৯৫টি।

এক-দুইয়ের সংখ্যা বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চিত্রটাই পাল্টে যাবে বলে মনে করেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক। তার সঙ্গে একমত বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন।

“ওদের স্কিলে কিন্তু কোনো সমস্যা নেই। এক-দুই রান নিয়ে খেলতে পারে না এমন নয়। সমস্যা হচ্ছে মানসিকতায়। যদি এক-দুই রানের দিকে মনোযোগ বাড়ায় তাহলে কিন্তু রানের চাকা সচল থাকে, আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।

“ওভারে একটা বাউন্ডারির সঙ্গে দুই/তিনটা এক-দুই রান দলকে খুব দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে। এভাবে খেললে খুব একটা ঝুঁকিও নিতে হয় না। দুই ম্যাচেই অনেক বল আমরা ডট দিয়েছি। এটাই দেখায় কোথায় আমাদের ঘাটতি রয়েছে। তার জন্যই দলের সংগ্রহ বড় হয়নি।”

মহেন্দ্র সিং ধোনি, ড্যারেন স্যামি, আন্দ্রে রাসেল, জেমস ফকনারের মতো শেষে তাণ্ডব চালানোর মতো কোনো ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের নেই। কিন্তু শেষটায় ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে আসার মতো ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের আছে। সেদিক থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজার বাজি সাব্বির রহমান ও মাহমুদউল্লাহ।

“এটা সত্যি আমাদের দলে ডি ভিলিয়ার্স মানের কোনো ব্যাটসম্যান নেই। পৃথিবীর সব দলেই তার মানের একজন ব্যাটসম্যানের অভাব রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ৬/৭ উইকেট নিয়ে শেষ ১০ ওভারে যেতে পারি আমাদেরও একশ রান তোলার সামর্থ্য আছে। সাব্বির, মাহমুদউল্লাহর তেমন শট খেলার সামর্থ্য আছে।

সাব্বির সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের সবচেয়ে বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান তিনিই। মঞ্চ প্রস্তুত পেলে নিজের দিনে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তার আছে। থিতু হতে পারলে মাহমুদউল্লাহও কম ভয়ঙ্কর নন।

তাদের ঝড় তোলার ক্ষেত্রটা তৈরি করে দিতে হবে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে। ডট বল খেলা তো কমাতেই হবে সঙ্গে মনোযোগ দিতে হবে থিতু হলে বড় ইনিংস খেলার দিকে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল মনে করেন, ২০/৩০ রান করতে পারলে ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব দলকে টেনে নেওয়া।

“যদি ২০/৩০ রানের ইনিংসগুলো আমরা ৬০/৭০ করি সাথে যদি একজন ৮০/১০০ করে তাহলে আমাদের রানটাও অনেক বড় হয়ে যাবে। একই সঙ্গে আমরা খেলোয়াড়রাও শিখব, এই কন্ডিশনে কিভাবে রান করতে হয়। যদি এভাবে হয় তাহলে খুব ভালো। ২০/৩০ নিজের জন্য যথেষ্ট নয়, দলের জন্য যথেষ্ট নয়।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনশ বা তার বেশি রান হয়েছে ৪৫বার। অন্য দিকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এমন সংগ্রহ গড়েছে ১১ বার।

ওয়ানডে ক্রিকেটে অনেক উইকেটে এখন তিনশ রানও নিরাপদ কিছু নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় যে উইকেটে খেলা হচ্ছে সেখানে ভালো সংগ্রহ সাড়ে তিনশ রান। এজন্য দরকার দায়িত্বশীল, বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং।