বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলবেন উসাইন বোল্ট!

খেলাধুলা ফুটবল
উসাইন বোল্ট তার ক্যারিয়ারে একটা কথা বারবারই বলতেন, ‘কখনো ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ছেড়ে দিলে, ফুটবলে যোগ দেব।’ চলতি বছরের আগস্টেই বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্য দিয়ে নিজের দৌড়ানোর জুতো তুলে রেখেছেন। বোল্টের সামনে এখন অখণ্ড অবসর। বোল্টের এই অবসর আর তার ফুটবলের প্রতি আগ্রহ-দুটিকে কাজে লাগাতে চলেছে বুন্দেসলিগার দল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড।
ক্লাবের পক্ষ থেকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের এই কিংবদন্তিকে ট্রায়ালের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। বোল্ট নিজে অবশ্য ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দল। কে জানে, দু’পক্ষের বনিবনা হলে হয়ত পেশাদার ফুটবলেও নাম লিখিয়ে ফেলতে পারেন এই গতি দানব। ক্লাবের প্রধান নির্বাহী হ্যান্স জোয়াকিম ওয়াটজে অবশ্য ৩১ বছর বয়সী বোল্টকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। কারণ, বোল্ট ও ডর্টমুন্ড-দু’পক্ষের স্পন্সরই হলো ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পুমা। তিনি বলেন, ‘আমি বিজোর্ন গুলডেনের (পুমার প্রধান নির্বাহী) সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা বোল্টের ব্যাপারেও আলাপ করেছি।’
বোল্ট নিজেও এই সুযোগটার জন্য মুখিয়ে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসে তিনি বলেন, ‘এটা আমার একটা ব্যক্তিগত লক্ষ্য। কে কি ভাবল, সেটা নিয়ে আমি মাথা ঘামাচ্ছি না। নিজেকে আমি কখনো মিথ্যা বলতে পারি না। বিষয়টাকে ভুলেও যেতে পারি না।’
ফুটবল নিয়ে বোল্টের ভাবনাটাই অন্যরকম। বোল্ট বলেন, ‘এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। এটা আমার জীবনের আরেকটা অধ্যায়। এমন একটা কিছু হোক, সেটা আমি সব সময়ই চাইছিলাম। একটা চেষ্টা তো করে দেখাই যাক।’ তবে, এর পেছনে একটা সমস্যা হতে পারে বোল্টের হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরি। এই ইনজুরির কারণেই তাকে পাওয়া নিয়ে একটা শঙ্কা আছে ডর্টমুন্ডের। তবে, বোল্ট অবশ্য ইনজুরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় নেই। তিনি বলেন, ‘হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিটা আস্তে আস্তে সেরে উঠছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে আমি নিজের শরীরকে আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে পারব।’
জানিয়ে রাখা ভালো, আক্ষরিক অর্থেই এক স্বর্ণবালক। ২০০৮, ২০১২ ও ২০১৬ টানা তিনটি অলিম্পিকের ১০০ ও ২০০ মিটারে সোনা জিতেছিলেন এই জ্যামাইকান। টানা তিন অলিম্পিকে এই কীর্তি আর কারো নেই। কোনো বিতর্ক ছাড়াই বলে দেওয়া যায় অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বড় কিংবদন্তিদের একজন। বলাই বাহুল্য, বোল্টের ফুটবল দক্ষতার চেয়ে বেশি তার ব্র্যান্ডিংকেই কাজে লাগাতে চায় বরুশিয়া ডর্টমুন্ড।
সুযোগটা কাজে লাগাতে মরিয়া বোল্ট বলেন, ‘ওরা (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড) আমাকে বলেছে, ওদের দরজা আমার জন্য সব সময়ই খোলা। এখন ইনজুরিটা কাটিয়ে উঠতে পারলেই আমি চেষ্টাটা করে দেখব। এটা আমার জন্য একটা সুযোগ। সুযোগটা কাজে লাগাতে আমি নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করব।’