বিদেশিদের দাপট বিপিএলে

ক্রিকেট খেলাধুলা
ঘরোয়া উদ্যানের শোভা হয়তো বাড়াতে পারে বিদেশি ফুল। কিন্তু দেশি ফুল সুরভি ছড়াবে, এটাই সবার কাম্য। সেজন্য দেশি ফুল যাতে পুষ্পিত হয়, তার পরিচর্যা করা অত্যাবশ্যক
ক্রিস গেইল, শহীদ আফ্রিদি বা ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো টি ২০ তারকারা এবারের বিপিএলে এখনও যুক্ত হননি।
তারপরও বিদেশিদের দাপট ভীষণভাবেই চোখে পড়ছে। বিপিএলের পঞ্চম আসরের প্রথম পর্ব চলছে সিলেটে। এখন পর্যন্ত মাঠে গড়িয়েছে মাত্র চারটি ম্যাচ। এত আগেভাগে কোনো বিষয়ে উপসংহার টানা ঝুঁকিপূর্ণ।
কিন্তু প্রভাতের সূর্য যা ইঙ্গিত দিচ্ছে তাতে আসরজুড়েই বিদেশিদের ছায়ায় দেশি ক্রিকেটারদের ঢেকে যাওয়ার শঙ্কা প্রবল। প্রথম চার ম্যাচেই ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে বিদেশিদের হাতে।
এখন পর্যন্ত আসরের ছয়টি ফিফটির সবগুলোই বিদেশিদের। বোলিংয়ে কিছু দেশি-ঝলক দেখা গেলেও সার্বিকভাবে ছবিটা আশাজাগানিয়া নয়।
টুর্নামেন্টের আকর্ষণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান বাড়াতে বিদেশি কোটা বাড়িয়ে স্থানীয় ক্রিকেটারদের উঠে আসার পথ তবে কি কঠিন করে তুলল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল?
প্রতিটি দল এবার একাদশে সর্বোচ্চ পাঁচজন বিদেশি ক্রিকেটার রাখার সুযোগ পাচ্ছে। টপঅর্ডারে বিদেশি ব্যাটসম্যানরাই অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।
ফলে দেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য নিজেদের মেলে ধরাটা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে এটাও ঠিক যে, এখন পর্যন্ত যা সুযোগ মিলেছে, তার সদ্ব্যবহার করতে পারেননি দেশি তারকারা।
ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি সাকিব, সাব্বির, নাসিররা। ম্যাচসেরার ব্যাটন তাই বিদেশিদের হাতেই ঘুরছে।
দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতে আপাতত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে নবাগত সিলেট সিক্সার্স। দুই ম্যাচেই সিলেটের জয়ের নায়ক লংকান ওপেনার উপুল থারাঙ্গা।
আন্তর্জাতিক টি ২০তে শ্রীলংকা দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকলেও এবারের বিপিএলে রান উৎসবের আভাস দিচ্ছেন থারাঙ্গা।
ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৬৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে জিতিয়েছিলেন দলকে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও ৪০ বলে ৫১ করে ম্যাচসেরা হয়েছেন থারাঙ্গা।
দুই ম্যাচে ১২০ রান করে এখন পর্যন্ত তিনিই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। সিলেটের উদ্বোধনী জুটিতে থারাঙ্গার সঙ্গী আন্দ্রে ফ্লেচার আছেন দ্বিতীয় স্থানে। দুই ম্যাচে এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে এসেছে ৯৯ রান। শীর্ষ ছয়ের সবাই বিদেশি।
থারাঙ্গা ও ফ্লেচারের পেছনে আছেন এভিন লুইস (৯২), ক্যামেরন ডেলপোর্ট (৮৪), মারলন স্যামুয়েলস (৬০) ও কুমার সাঙ্গাকারা (৫২)। দেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭ রান রাজশাহীর রনি তালুকদারের।
এছাড়া রংপুরের মোহাম্মদ মিঠুন করেছেন ৪৬ রান। দু’জনই খেলেছেন একটি করে ম্যাচ। থারাঙ্গার দুটি ৫০ ছাড়ানো ইনিংসের বাইরে ফিফটি পেয়েছেন এভিন লুইস, ডেলপোর্ট, ফ্লেচার ও স্যামুয়েলস।
দুই ম্যাচে ঢাকার জয় একটি। খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে ঢাকার ৬৫ রানের দাপুটে জয়ের নায়ক দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান ক্যামেরন ডেলপোর্ট। ৩১ বলে ৬৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি।
এভিন লুইস ও ডেলপোর্টের যুগল তাণ্ডবে সাত উইকেটে ২০২ রানের পাহাড় গড়েছিল ঢাকা। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম দু’শ ছাড়ানো ইনিংস দেখল বিপিএল।
টুর্নামেন্টের আরেক ম্যাচসেরা ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারা। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ২৩ বলে ৩৯* রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে রংপুরকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন বোপারা।
ব্যাটিংয়ের মতো কিপিংয়েও শীর্ষে এক বিদেশি। দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ তিনটি ডিসমিসাল করেছেন ঢাকার লংকান উইকেটকিপার সাঙ্গাকারা। সর্বোচ্চ ১২৫ রানের জুটি সিলেটের থারাঙ্গা ও ফ্লেচারের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১৬ রানের জুটি ঢাকার লুইস ও ডেলপোর্টের। সর্বোচ্চ ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ডেলপোর্ট।
এছাড়া ফ্লেচার পাঁচটি এবং লুইস ও থারাঙ্গা চারটি করে ছয় মেরেছেন। শুধু বোলিংয়েই একটু এগিয়ে দেশিরা। সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট পেয়েছেন তিনজন।
সিলেটের নাসির হোসেন, ঢাকার আবু হায়দার রনি ও সিলেটের ইংলিশ পেসার লিয়াম প্লাংকেট। এর মধ্যে সেরা ইকনোমি রেট (৪.৮৭) নাসিরের। ম্যাচসেরা বোলিং (৩/১৩) আবু হায়দারের।
বিদেশিদের ‘দাদাগিরি’ এভাবে চলতে থাকলে দেশিরা কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। বিপিএলের এমন উদ্দেশ্য হতে পারে না। ঘরোয়া উদ্যানের শোভা হয়তো বাড়াতে পারে বিদেশি ফুল।
কিন্তু দেশি ফুল সুরভি ছড়াবে, এটাই সবার কাম্য। সেজন্য দেশি ফুল যাতে পুষ্পিত হয়, তার পরিচর্যা করা অত্যাবশ্যক।