বিরল রোগে আক্রান্ত স্বর্ণালীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন সঞ্জিত কুমার সাহা

অন্যান্য

তিনি বলেন, স্বর্ণালীর বাড়িতে স্বাস্থ্য কর্মী পাঠানো হয়েছিল। তারা দেখে এসে স্বর্ণালী সম্পর্কে প্রতিবেদন দিয়েছে। তার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান সঞ্জিত কুমার সাহা।

একটি হাত প্রতিনিয়ত ফুলতে থাকায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে রাজশাহীর ১২ বছর বয়সী স্বর্ণালীর জীবন যাপন। স্বর্ণালী পবা উপজেলার টেগাটাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। সে স্থানীয় নোনামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

স্বর্ণালীর মা গৃহিণী রুমা বেগম জানান, জন্মের পর তার ডান হাতে একটি কালো দাগ দেখা যায়। সেটাই দিন দিন বড় হচ্ছে। চার-পাঁচ বছর বয়সে এটি বেড়ে যায়। ওই সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ মোয়াজ্জেম হোসেন ও রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আফরোজা নাজনীনকে দেখিয়েছি। তারা সে সময় একটি মলম দিয়েছিলেন। এতে কাজ হয়নি।

এরপর এ রোগের চিকিৎসা নেই বলে লোকমুখে শোনার পর তারা আর কোনো চিকিৎসককে দেখাননি বলে জানান রুমা বেগম।

স্বর্ণালী বলেন, স্কুলে গেলে তার পাশে অন্যরা বসতে চায় না। তাকে দেখে সহপাঠীরা হাসাহাসিও করে। এ কারণে প্রায়ই স্কুলে যাই না। শিক্ষকরা কিছু না বললেও ক্লাসে আমার ভালো লাগে না। আমি সুস্থ হতে চাই। সুস্থ জীবনে ফিরে লেখাপড়া শিখতে চাই। স্বর্ণালীর বাবা আবদুল মান্নান দুর্গাপুর দাওকান্দি কলেজের পিওন।

তিনি বলেন, তার কলেজের একজন শিক্ষক পত্রপত্রিকায় সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামণির রোগ ও চিকিৎসার খবর দেখে তাকে জানিয়েছেন, চিকিৎসা করলে স্বর্ণালীর হাতওে ভাল হতে পারে।

কিন্তু মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য তার নেই। তিনি চিকিৎসকসহ সচ্ছল ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।