বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানকে মাত করলেন ম্যারাডোনা চুমু খেলেন পেলেকে

খেলাধুলা ফুটবল

ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলেকে নিয়ে এতোদিন যেসব সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সেসবই তাহলে কথার কথা, মনের কথা নয়! আসলে পেলের সঙ্গে ম্যারাডোনার কোনো শত্রুতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। ভেতরে ভেতরে পেলেকে বরং ভালোই বাসেন তিনি। শুক্রবার রাতে মস্কোর বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠান প্রমাণ করে দিল সেটাই। এবারের বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন পেলে-ম্যারাডোনা দুজনেই। সেখানে নিজেদের সব শত্রুতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে পেলে-ম্যারাডোনা হয়ে গেলেন পরস্পরের বন্ধু। আদর করে ম্যারাডোনা ‘হঠাৎ বন্ধু’ পেলের গালে এঁটে দিলেন চুমু। আহা কি অন্তরঙ্গতা!

উপস্থিত বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিরা বেশ প্রাণ ভরে উপভোগ করলেন দুই কিংবদন্তির সেই অন্তরঙ্গতা! এই প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিগুলোই বলে দিচ্ছে সে কথা। অসুস্থতা আর বয়সের ভারে ন্যুজ্ব ৭৭ বছর বয়সী পেলে বসে আছেন ঠেলা চেয়ারে। ব্রাজিল কিংবদন্তির ডান হাত ধরে পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। উবু হয়ে মাথা জড়িয়ে ধরে পেলের কপালে চুমু খাচ্ছেন ম্যারাডোনা। পেলের অন্য হাতে স্মার্টফোন। ছবি তুলে দিচ্ছেন একজন।

দ্বিতীয় ছবিতে পুতিন-পেলে-ম্যারাডোনা আরও বেশি অন্তরঙ্গ। মস্কোর স্টেট ক্রেমলিন প্যালেসের কনসার্ট হলের এই অন্তরঙ্গতা দেখে বোঝারই উপায় ছিল না, বাইরে একে অন্যকে ধুয়ে দেন তারা। বিদ্ধ করেন সমালোচনার তীরে।

তেতো কথায় ম্যারাডোনাই এগিয়ে। পেলেকে বলা হয় ফুটবলের রাজা। অনেকের মতেই সর্বকালের সেরা। কিন্তু ৫৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনা কখনোই ৭৭ বছর বয়সী পেলের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেননি। বরং নিজেকেই সর্বকালের সেরা দাবি করেন সব সময়। সুযোগ পেলেই বাঁকা কথায় বিদ্ধ করেন পেলেকে। ব্রাজিল কিংবদন্তিও ম্যারাডোনাকে সেরাদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেননি কখনোই।

মুখে যাই বলুন, কোনো অনুষ্ঠানে ম্যারাডোনার উপস্থিতি মানেই, দুষ্ঠুমি, রসিকতা অনিবার্য ব্যাপার। সেই ছাপ থাকল মস্কোর ড্র অনুষ্ঠানেও। ফিফার কাউন্সিলর আলেজান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে সামনে পেতেই যেমন গাল টিপে ধরলেন। যেন কোনো ছোট্ট শিশুকে আদর করছেন তিনি! কৌতুক-মজা করলেন পেলে-পুতিনের সঙ্গেও।

বুঝিয়ে দিলেন তিনি আসলেই মজার মানুষ।