বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়বে ব্যারেলে ৩ ডলার

অর্থনীতি প্রধান খবর

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত কমোডিটি মার্কেট আউটলুক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাসই দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা—এই তিন ধরনের জ্বালানির দাম আগামী বছর ৪ শতাংশ বাড়তে পারে। গতবারের চেয়ে চলতি বছর এসব পণ্যের দাম ২৪ শতাংশ বেড়েছিল। তবে আগামী বছর ইস্পাতসহ অন্যান্য ধাতুর দাম একটু কমবে। অন্যদিকে কৃষিপণ্য, পানীয় এবং শস্য, ভোজ্যতেল, আটাসহ অন্যান্য খাদ্যপণের দাম চলতি বছর কিছুটা কমে এলেও ভবিষ্যতে বাড়বে।

কমোডিটি মার্কেট আউটলুক প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জন বাফেট বলেছেন, চাহিদা স্থিতিশীল থাকা ও মজুত কমার কারণে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নির্ভর করছে তেল উৎপাদক দেশগুলো উৎপাদন কতটা কমাবে তার ওপর। তিনি আরও বলেন, ধাতুর দামের হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীনের উন্নয়নকাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংক তেলের দামের বিষয়ে গত এপ্রিলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। এবারের পূর্বাভাস আগের চেয়ে কিছুটা কম। মূল কারণ হচ্ছে ঝুঁকি। লিবিয়া, নাইজেরিয়া ও ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠতে পারে। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের সদস্য ও অন্য উৎপাদকেরা ইতিমধ্যে চুক্তি করেছে, দাম বাড়াতে উৎপাদন কমানো হবে।

অবশ্য উৎপাদক দেশগুলোর চুক্তির বরখেলাপ হলে তেলের দাম পড়ে যেতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি উৎপাদন বাড়ালেও একই ঘটনা ঘটবে। আগামী বছর প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৩ শতাংশ বাড়বে। চলতি বছর ৩০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পর আসছে বছর কয়লার দাম কিছুটা পেছনে যেতে পারে। তবে চীনের পরিবেশ নীতি কয়লার বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, আসছে বছর ইস্পাতের দাম ১০ শতাংশ কমতে পারে। তবে সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম থাকায় তারা সিসা, নিকেল, দস্তাসহ মৌলিক ধাতুর দাম বাড়াতে প্রচেষ্টা চালাতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ সুদহার আগামী বছর সোনার দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে। আসছে বছর প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ২৫০ ডলার থেকে কমে ১ হাজার ২৩৮ ডলার হবে। অর্থাৎ সোনার দাম ১ শতাংশের মতো হ্রাস পাবে।

সরবরাহ কমে গেলে কৃষিপণ্যের দাম আসছে বছর বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শস্য, ভোজ্যতেল ও আটার দাম বাড়তে পারে। কৃষিপণ্যের বাজারে ভালো সরবরাহ আছে। পর্যাপ্ত মজুত আছে। সেই মজুত কীভাবে ও কতটুকু ব্যবহৃত হবে, সেটির ওপর কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নির্ভর করবে।

অবশ্য আবহাওয়া অনুকূল, ভালো সরবরাহ ও দাম কম থাকলেও দুনিয়ার সর্বত্রই খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে না। গত ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে খরার কবলে পড়েছে ইথিওপিয়া, সোমালিয়া ও কেনিয়া। সে জন্য তাদের শস্য উৎপাদনে ধস নেমেছে এবং খাদ্যসংকটে পড়েছে। সংঘাতের কারণে দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন ও নাইজেরিয়ার লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়েছে। তাদের জন্য জরুরি খাদ্য সরবরাহে লাখ লাখ ডলার খরচ হচ্ছে।